সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
ট্রাম্প পরিবারের মুনাফায় লাখো মানুষের খাবার, দুর্নীতির অভিযোগে সরব হিলারি ক্লিনটননিউইয়র্কে ৬০০ মোড়ে ক্যামেরার নজরদারি, লালবাতি ভাঙলেই গুনতে হবে ৫০ ডলার জরিমানানাগরিকত্ব ছাড়াই মার্কিন নির্বাচনে ভোট, বাংলাদেশি যুবকের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় আদালতে মামলকম্বোডিয়ায় প্রতারণাবিরোধী অভিযানে নয় মাসে তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশি বহিষ্কারবাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে ইউনিক্লোকে আহ্বান তারেক রহমানের, পোশাকশিল্পে নতুন সম্ভাবনা

নিউইয়র্কে ৬০০ মোড়ে ক্যামেরার নজরদারি, লালবাতি ভাঙলেই গুনতে হবে ৫০ ডলার জরিমানা

সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে নিউইয়র্কের ছয়শ মোড়ে লালবাতির ক্যামেরা চালু, সংকেত অমান্য করলে গাড়ির নিবন্ধিত মালিককে গুনতে হবে পঞ্চাশ ডলার জরিমানা।

নিউইয়র্কে ৬০০ মোড়ে ক্যামেরার নজরদারি, লালবাতি ভাঙলেই গুনতে হবে ৫০ ডলার জরিমানা
নিউইয়র্কে ৬০০ মোড়ে ক্যামেরার নজরদারি, লালবাতি ভাঙলেই গুনতে হবে ৫০ ডলার জরিমানা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক নগরীতে ট্রাফিক আইন অমান্য করে যানবাহন চালানো এবং সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে ছয়শটি মোড়ে লালবাতি শনাক্তকারী স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা চালু করেছে নগর কর্তৃপক্ষ। গত ২১ অক্টোবর নগরীর মেয়র জোহরান মামদানি ও পরিবহন বিভাগের কর্মকর্তারা এ কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার ঘোষণা দেন। নতুন ব্যবস্থায় লালবাতি অমান্য করে গাড়ি চালানোর ঘটনা ক্যামেরায় ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট যানবাহনের নিবন্ধিত মালিককে ৫০ ডলার জরিমানা দিতে হবে। কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য, চালকদের ট্রাফিক আইন মানতে উৎসাহিত করা এবং পথচারীসহ সব সড়ক ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

নিউইয়র্ক নগরীর পাঁচটি প্রশাসনিক অঞ্চলে এসব ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। নগরীর পরিবহন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অঙ্গরাজ্যের আইন সংশোধনের ফলে লালবাতি শনাক্তকারী ক্যামেরার সংখ্যা ১৫০টি মোড় থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৬০০টি মোড়ে নেওয়ার অনুমতি পাওয়া যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে নগর কর্তৃপক্ষ পর্যায়ক্রমে ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শুরু করে। চলতি বছরের ২১ অক্টোবর নাগাদ নির্ধারিত ছয়শটি মোড়ে ক্যামেরা স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়।

নগর কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে নিউইয়র্কে মোড়কেন্দ্রিক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার ২২ শতাংশের সঙ্গে লালবাতি অমান্যের সম্পর্ক ছিল। এ ধরনের দুর্ঘটনা কমাতে স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরাকে কার্যকর একটি ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। পরিবহন বিভাগের তথ্য বলছে, ক্যামেরা স্থাপন করা মোড়গুলোতে লালবাতি অমান্য করার ঘটনা ৮০ শতাংশের বেশি কমেছে। তবে এই পরিসংখ্যান ক্যামেরা বসানো নির্দিষ্ট স্থানগুলোর জন্য প্রযোজ্য; পুরো নগরীতে একই হারে লালবাতি অমান্য কমেছে, এমন দাবি করা ঠিক হবে না।

দুর্ঘটনায় আহত মানুষের সংখ্যা কমার বিষয়েও ইতিবাচক তথ্য প্রকাশ করেছে নগর কর্তৃপক্ষ। তাদের হিসাব অনুযায়ী, ক্যামেরা স্থাপনের পর সংশ্লিষ্ট মোড়গুলোতে পেছন থেকে ধাক্কা লাগার দুর্ঘটনায় আহত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৬০ শতাংশ কমেছে। পাশ থেকে ধাক্কা লেগে সংঘটিত দুর্ঘটনায় আহত মানুষের সংখ্যা কমেছে প্রায় ৭০ শতাংশ। এসব পরিসংখ্যানের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষ বোঝাতে চেয়েছে, ট্রাফিক সংকেত অমান্য করার প্রবণতা কমলে সংঘর্ষ ও গুরুতর আঘাতের ঝুঁকিও কমানো সম্ভব। তবে এই ফলাফলকে পুরো নগরীর দুর্ঘটনা পরিস্থিতির সামগ্রিক পরিবর্তন হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

নতুন ব্যবস্থায় ক্যামেরা দিয়ে আইন অমান্যের ঘটনা শনাক্ত করার পর ডাকযোগে জরিমানার নোটিশ পাঠানো হয়। নগরীর সরকারি সেবা সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণত ঘটনার ৩০ দিনের মধ্যে নিবন্ধিত যানবাহনের মালিকের কাছে নোটিশ পৌঁছায়। গাড়িটি অন্য কেউ চালালেও ক্যামেরায় ধরা পড়া লঙ্ঘনের জন্য নিবন্ধিত মালিকের কাছে নোটিশ পাঠানো হতে পারে। ক্যামেরার মাধ্যমে জারি করা লালবাতি অমান্যের জরিমানার পরিমাণ ৫০ ডলার। এ ধরনের জরিমানার কারণে চালকের গাড়ি চালানোর অনুমতিপত্রে দণ্ডবিন্দু যোগ হয় না।

তবে ক্যামেরায় ধরা পড়া লঙ্ঘন এবং পুলিশ সরাসরি চালককে থামিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। পুলিশ সরাসরি লালবাতি অমান্যের জন্য ব্যবস্থা নিলে সেটি চলমান যানবাহনসংক্রান্ত অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে জরিমানা ও অন্যান্য পরিণতি ক্যামেরার মাধ্যমে জারি করা জরিমানার চেয়ে আলাদা হতে পারে। তাই চালকদের নোটিশের ধরন, ঘটনার বিবরণ এবং আপিলের নিয়ম ভালোভাবে দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

ক্যামেরা বসানোর স্থান নির্বাচনেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে পরিবহন বিভাগ। যেসব মোড়ে অতীতে পাশ থেকে সংঘর্ষ, আহত হওয়ার ঘটনা এবং লালবাতি অমান্য করার প্রবণতা বেশি ছিল, সেসব স্থানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পথচারী, সাইকেলচালক, শিশু ও বয়স্ক মানুষের চলাচল নিরাপদ করার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। নগর কর্তৃপক্ষের মতে, স্বয়ংক্রিয় নজরদারির পাশাপাশি সড়কের নকশা উন্নয়ন, নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা এবং চালকদের সচেতনতা বাড়ানোও জরুরি।

নগর কর্তৃপক্ষের ঘোষণায় দুর্ঘটনায় স্বজন হারানো ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতাও উঠে এসেছে। নিরাপদ সড়কের দাবিতে কাজ করা সংগঠন পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে লালবাতি অমান্য করে গাড়ি চালানোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন। তাঁদের মতে, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা গেলে অনেক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব। তবে ক্যামেরার পাশাপাশি বিপজ্জনক মোড়গুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং নিয়মিত নজরদারিও প্রয়োজন।

বর্তমান আইন অনুযায়ী, নিউইয়র্ক নগরীতে সর্বোচ্চ ছয়শটি মোড়ে লালবাতি শনাক্তকারী ক্যামেরা ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে। ২০২৪ সালে অনুমোদিত আইনটির অধীনে এই কর্মসূচির মেয়াদ ২০২৭ সালের ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। আরও বেশি মোড়ে ক্যামেরা বসাতে হলে অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের নতুন অনুমোদন প্রয়োজন হবে। নগরীর পরিবহন নিরাপত্তাবিষয়ক সংগঠনগুলোর একাংশ মনে করে, ছয়শটি মোড়ের বাইরেও বিপজ্জনক অনেক স্থান রয়েছে, যেখানে ভবিষ্যতে এ ধরনের নজরদারি চালু করা দরকার।

নিউইয়র্কের ছয়শটি মোড়ে লালবাতি শনাক্তকারী ক্যামেরা চালু হওয়া সড়ক নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ক্যামেরা স্থাপন করা মোড়গুলোতে লালবাতি অমান্য এবং দুর্ঘটনায় আহত মানুষের সংখ্যা কমেছে। তবে এই উদ্যোগের দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা মূল্যায়নে নিয়মিত তথ্য প্রকাশ, স্বচ্ছ জরিমানা প্রক্রিয়া এবং স্বাধীন পর্যালোচনা গুরুত্বপূর্ণ। নগর কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি চালকদের সচেতনতা বাড়লে নিউইয়র্কের সড়ক আরও নিরাপদ হয়ে উঠবে।


ট্যাগ: িউইয়র্কলালবাতির ক্যামেরাট্রাফিক আইনসড়ক নিরাপত্তাযানবাহনের জরিমানাযুক্তরাষ্ট্রের খবরজোহরান মামদানিসড়ক দুর্ঘটনাস্বয়ংক্রিয় নজরদারি

প্রতিবেদক

CSB News USA

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।