অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬
নাগরিকত্ব ছাড়াই মার্কিন নির্বাচনে ভোট, বাংলাদেশি যুবকের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় আদালতে মামল
মার্কিন নাগরিক না হয়েও ২০২৪ সালের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশি যুবকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে মেরিল্যান্ডের কেন্দ্রীয় আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক না হয়েও দেশটির ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশি যুবক মোহাম্মদ হাচিবুর রহমানের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে মামলা হয়েছে। তাঁর বয়স ৩৩ বছর। যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড জেলার সরকারি আইন কর্মকর্তার কার্যালয় ২৭ অক্টোবর প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি মার্কিন নাগরিক নন এটি জানা সত্ত্বেও ২০২৪ সালের নভেম্বরের নির্বাচনে ভোট দিয়েছিলেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হওয়া মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত আইন অনুযায়ী তাঁকে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
মেরিল্যান্ড জেলার মার্কিন অ্যাটর্নি কেলি ও হেইস এবং কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার বাল্টিমোর কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিমি পল যৌথভাবে মামলার বিষয়টি প্রকাশ করেন। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, হাচিবুর রহমানের বিরুদ্ধে নির্বাচনে বেআইনিভাবে ভোট দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটি পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন সহকারী মার্কিন অ্যাটর্নি ফিলিপ মোৎসে। তদন্তে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থার ওয়াশিংটন কার্যালয় সহায়তা করেছে।
অভিযোগের মূল বিষয় ২০২৪ সালের নভেম্বরের নির্বাচন। ওই নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও উপপ্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পাশাপাশি দেশটির আইনসভার উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষের সদস্য নির্বাচনের জন্য ভোট গ্রহণ করা হয়েছিল। সরকারি নথিতে বলা হয়েছে, রহমান যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন জেনেও ওই নির্বাচনে ভোট দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে তিনি কীভাবে ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছিলেন, কোন কেন্দ্রে ভোট দিয়েছিলেন কিংবা তাঁর ভোটের মাধ্যমে নির্বাচনের ফলে কোনো পরিবর্তন ঘটেছিল কি না—এসব বিষয়ে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী আইনে নাগরিকত্বের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য সাধারণভাবে মার্কিন নাগরিক হতে হয়। কেবল সেখানে বসবাস করা, বৈধভাবে অবস্থান করা কিংবা স্থায়ী বসবাসের অনুমতি থাকা নাগরিকত্বের সমান নয়। তাই নাগরিক নন এমন কেউ জেনেশুনে কেন্দ্রীয় নির্বাচনে ভোট দিলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তবে ভোটার নিবন্ধনের সময় কী তথ্য দেওয়া হয়েছিল, অভিযুক্ত ব্যক্তি কী জানতেন এবং সংশ্লিষ্ট আইনের শর্ত পূরণ হয়েছে কি না—এসব বিষয় বিচারিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
মেরিল্যান্ডের সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে হাচিবুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগের কথা বলা হলেও তাঁর বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের নিবন্ধনসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ নেই। তিনি ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করেছেন, নাগরিকত্ব সম্পর্কে মিথ্যা ঘোষণা দিয়েছেন কিংবা অন্য কোনো পদ্ধতিতে ভোট দিয়েছেন কি না, তা প্রকাশিত নথি থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে এসব বিষয়ে অনুমানভিত্তিক তথ্য প্রকাশ করা সমীচীন হবে না। অভিযোগের প্রকৃত বিবরণ জানতে আদালতে দাখিল করা পূর্ণ নথি ও পরবর্তী শুনানির তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।
মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে রহমানের সর্বোচ্চ এক বছরের কেন্দ্রীয় কারাদণ্ড হতে পারে বলে সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সর্বোচ্চ শাস্তির কথা বলা মানেই তাঁকে ওই মেয়াদের কারাদণ্ড দেওয়া হবে, এমন নয়। অপরাধ প্রমাণিত হলে সাজা নির্ধারণের সময় আদালত সংশ্লিষ্ট আইন, সাজা নির্ধারণের নির্দেশিকা এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনা করবেন। মামলার বর্তমান পর্যায়ে তাঁর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত রায় বা সাজা ঘোষণার কোনো তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
এ ধরনের মামলায় অভিযোগ ও অপরাধ প্রমাণের মধ্যে পার্থক্য বজায় রাখা জরুরি। সরকারি কৌঁসুলিরা অভিযোগ এনেছেন, কিন্তু আদালতে প্রমাণ উপস্থাপন ও বিচারিক সিদ্ধান্তের আগে কাউকে অপরাধী বলা যায় না। অভিযুক্ত ব্যক্তিরও নিজের পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন এবং আইনগত প্রতিরক্ষা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। এ কারণে মামলার পরবর্তী অগ্রগতি, আদালতের নথি এবং কর্তৃপক্ষের নতুন বক্তব্যের ভিত্তিতেই ঘটনার পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট হবে।
ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, ভোটার নিবন্ধন এবং নাগরিকত্ব যাচাই নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনগত আলোচনা চলছে। তবে একটি ব্যক্তিগত মামলাকে কেন্দ্র করে অনাগরিকদের ভোট দেওয়ার ব্যাপকতা সম্পর্কে সাধারণ সিদ্ধান্ত টানা ঠিক হবে না। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কী প্রমাণ রয়েছে এবং আদালত কী সিদ্ধান্ত দেন, সেটিই হবে মূল বিবেচ্য বিষয়।
বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্যও ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। বিদেশে বসবাসের সময় স্থানীয় আইন, ভোটার নিবন্ধনের শর্ত এবং নাগরিকত্বসংক্রান্ত বিধান সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা প্রয়োজন। কোনো সরকারি ফরম পূরণ কিংবা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগে যোগ্যতা যাচাই করা উচিত। ভুল তথ্য দিয়ে নিবন্ধন বা ভোট দেওয়ার অভিযোগ উঠলে তা গুরুতর আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে। তবে এই মামলার ভিত্তিতে অভিযুক্ত ব্যক্তির অভিবাসন পরিস্থিতি বা ভবিষ্যৎ পরিণতি সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত দেওয়া যাচ্ছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের মেরিল্যান্ড জেলার কার্যালয়ের ২৭ অক্টোবরের বিজ্ঞপ্তিই এ ঘটনার প্রধান সরকারি সূত্র। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মোহাম্মদ হাচিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের নির্বাচনে বেআইনিভাবে ভোট দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে এবং দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে অভিযোগের সত্যতা, ভোটার নিবন্ধনের বিস্তারিত এবং মামলার চূড়ান্ত পরিণতি নির্ধারণ করবে আদালত।

ক্যালিফোর্নিয়ায় ২০ হাজার ভোট নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের জরুরি আবেদনে বিচারকের প্রশ্ন, বাড়ছে আইনি বিতর্ক

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে হাজারো পর্যবেক্ষক, নিরাপত্তায় বিশেষ প্রস্তুতি

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকার আভাস, কংগ্রেসে ক্ষমতা হারানোর শঙ্কায় রিপাবলিকানরা







মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।