সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
ট্রাম্প পরিবারের মুনাফায় লাখো মানুষের খাবার, দুর্নীতির অভিযোগে সরব হিলারি ক্লিনটননিউইয়র্কে ৬০০ মোড়ে ক্যামেরার নজরদারি, লালবাতি ভাঙলেই গুনতে হবে ৫০ ডলার জরিমানানাগরিকত্ব ছাড়াই মার্কিন নির্বাচনে ভোট, বাংলাদেশি যুবকের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় আদালতে মামলকম্বোডিয়ায় প্রতারণাবিরোধী অভিযানে নয় মাসে তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশি বহিষ্কারবাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে ইউনিক্লোকে আহ্বান তারেক রহমানের, পোশাকশিল্পে নতুন সম্ভাবনা

ট্রাম্প পরিবারের মুনাফায় লাখো মানুষের খাবার, দুর্নীতির অভিযোগে সরব হিলারি ক্লিনটন

ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসায়িক মুনাফা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হিলারি ক্লিনটন। তাঁর দাবি, এই অর্থ দিয়ে লাখো মার্কিন নাগরিকের খাদ্যসহায়তা নিশ্চিত করা সম্ভব।

ট্রাম্প পরিবারের মুনাফায় লাখো মানুষের খাবার, দুর্নীতির অভিযোগে সরব হিলারি ক্লিনটন
ট্রাম্প পরিবারের মুনাফায় লাখো মানুষের খাবার, দুর্নীতির অভিযোগে সরব হিলারি ক্লিনটন

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন অভিযোগ করেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিবার তাঁর প্রেসিডেন্ট পদকে কেন্দ্র করে যে মুনাফা অর্জন করেছে, তা দিয়ে লাখো মার্কিন নাগরিকের এক বছরের খাদ্যসহায়তার ব্যয় বহন করা সম্ভব। তবে তাঁর উপস্থাপিত আর্থিক হিসাব স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। ফলে বিষয়টি নিশ্চিত আর্থিক তথ্যের পরিবর্তে রাজনৈতিক বক্তব্য ও যাচাইসাপেক্ষ দাবি হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

২২ অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশিত বেনজিঙ্গার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সাংবাদিক কারা সুইশারের সঙ্গে ‘অন উইথ কারা সুইশার’ আলোচনায় হিলারি এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প পরিবারের কথিত মুনাফা দিয়ে প্রায় ১৩ লাখ মানুষের এক বছরের খাদ্যসহায়তা দেওয়া সম্ভব। এ ছাড়া তাঁর হিসাবে, ওই অর্থ দিয়ে ৬০ কোটির বেশি বিনা মূল্যের বিদ্যালয়ের খাবার সরবরাহ অথবা খাদ্যসহায়তা হারানো ৫২ লাখ মানুষের তিন মাসের বাজার খরচ বহন করা যেতে পারে।

হিলারি এসব তুলনা তুলে ধরে সরকারি অর্থের ব্যবহার এবং ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসায়িক স্বার্থ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, প্রেসিডেন্টের পদকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিগত আর্থিক সুবিধা অর্জনের সুযোগ তৈরি হলে তা সরকারি সেবা ও জনস্বার্থের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে তাঁর বক্তব্যে উল্লিখিত মুনাফার পরিমাণ, হিসাবের সময়সীমা এবং খাদ্যসহায়তার ব্যয়ের ভিত্তি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত না হওয়ায় এসব সংখ্যাকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে প্রকাশ করা সমীচীন নয়।

যুক্তরাষ্ট্রে খাদ্যসহায়তার অন্যতম প্রধান কর্মসূচি হলো স্বল্প আয়ের মানুষের খাদ্য কেনার জন্য আর্থিক সহায়তা। এই কর্মসূচির মাধ্যমে যোগ্য ব্যক্তি ও পরিবার নির্দিষ্ট নিয়মে খাবার কেনার অর্থ পেয়ে থাকেন। খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সরকারি সহায়তার নিয়মে পরিবর্তনের কারণে কর্মসূচিটি বর্তমানে দেশটির রাজনৈতিক বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

সেন্টার অন বাজেট অ্যান্ড পলিসি প্রায়োরিটিজ নামের গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ২৩ অক্টোবর ২০২৬ হালনাগাদ করা বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে নতুন বাজেট আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্যসহায়তা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় ৫৫ লাখ বা ১৩ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে কর্মসূচিটিতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা কমে প্রায় ৩ কোটি ৬১ লাখে দাঁড়ায়।

এটি খাদ্যসহায়তা কর্মসূচির অংশগ্রহণের পরিসংখ্যান। তবে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা কমে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে প্রত্যেক ব্যক্তির সহায়তা একই কারণে বন্ধ হয়েছে। যোগ্যতার নিয়ম, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, আবেদন নবায়ন এবং অন্যান্য পরিবর্তনও এই সংখ্যাকে প্রভাবিত করতে পারে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির বিশ্লেষণে নতুন আইনের প্রভাবকে অংশগ্রহণ কমার গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৫ সালের জুলাইয়ে পাস হওয়া নতুন বাজেট আইনে খাদ্যসহায়তা কর্মসূচির যোগ্যতা ও কাজের শর্তে পরিবর্তন আনা হয়। পাশাপাশি কর্মসূচির প্রশাসনিক ব্যয়ের বড় অংশ অঙ্গরাজ্যগুলোর ওপর দেওয়ার বিধান কার্যকর হয়েছে। এসব পরিবর্তনের ফলে স্বল্প আয়ের পরিবার, শিশু এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সহায়তা পাওয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে কর্মসূচিতে কাজের শর্ত কার্যকর করা এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণের পক্ষে যুক্তি দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন নিয়মের লক্ষ্য হচ্ছে সহায়তার অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার নিশ্চিত করা। ফলে বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।

ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসায়িক কার্যক্রম নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচকদের বক্তব্য, প্রেসিডেন্টের সরকারি দায়িত্ব এবং পরিবারের ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক স্বার্থের মধ্যে স্পষ্ট সীমারেখা থাকা প্রয়োজন। তবে কোনো ব্যবসায়িক লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন ওঠা বা তদন্তের দাবি জানানো মানেই দুর্নীতির অভিযোগ আইনগতভাবে প্রমাণিত হওয়া নয়। এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে আর্থিক নথি, নির্ভরযোগ্য তদন্ত এবং প্রাসঙ্গিক আইনগত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।

হিলারির বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয়, খাদ্যপণ্যের দাম এবং সরকারি সহায়তার ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা চলছে। আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে এসব বিষয় ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ এবং ভবিষ্যৎ বাজেট সিদ্ধান্তের ওপর খাদ্যসহায়তা কর্মসূচির নীতিগত পরিবর্তনও নির্ভর করতে পারে।

হিলারি ক্লিনটনের মন্তব্য ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসায়িক স্বার্থ এবং যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্যসহায়তা কর্মসূচি নিয়ে বিতর্ককে সামনে এনেছে। তাঁর বক্তব্যের সংবাদসূত্র পাওয়া গেলেও ট্রাম্প পরিবারের মুনাফা দিয়ে নির্দিষ্টসংখ্যক মানুষের সহায়তার হিসাব স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি। অন্যদিকে, সরকারি পরিসংখ্যানে খাদ্যসহায়তা কর্মসূচির অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমার তথ্য পাওয়া যায়। তাই সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে যাচাই করা পরিসংখ্যান এবং রাজনৈতিক অভিযোগকে পৃথকভাবে উপস্থাপন করাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি।

ট্যাগ: হিলারি ক্লিনটনডোনাল্ড ট্রাম্পট্রাম্প পরিবারের ব্যবসাখাদ্যসহায়তামার্কিন রাজনীতিঅর্থনৈতিক বৈষম্যসরকারি জবাবদিহিখাদ্যনিরাপত্তা

প্রতিবেদক

CSB News USA

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।