ব্রেকিং
জ্বালানি ও খাবারের বাড়তি খরচে চাপে মার্কিন পরিবার, নির্বাচনের আগে বাড়ছে অসন্তোষফ্লু থেকে সেরে প্রচারে ফিরলেন তালারিকো, মানসিক চিকিৎসার গুজব উড়িয়ে দিলেনউত্তর কোরিয়ার একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপে জাপান সাগরে নতুন নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়লরিয়াদে হামলাকে ‘রেড লাইন’ ঘোষণা পাকিস্তানের, সৌদির নিরাপত্তায় সর্বাত্মক সহযোগিতার অঙ্গীকার২০২৮ সালের নির্বাচনে ফিরবেন কমলা হ্যারিস? মধ্যবর্তী ভোটে ডেমোক্র্যাটদের জয় ঘিরে নতুন জল্পনা

রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধে ঢাকা-রিয়াদ ফ্লাইট স্থগিত, নতুন সময়সূচির অপেক্ষায় যাত্রীরা

রিয়াদ বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ঢাকা থেকে সৌদি আরবগামী একাধিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। নতুন সময়সূচির অপেক্ষায় ভোগান্তিতে যাত্রীরা।

রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধে ঢাকা-রিয়াদ ফ্লাইট স্থগিত, নতুন সময়সূচির অপেক্ষায় যাত্রীরা
রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধে ঢাকা-রিয়াদ ফ্লাইট স্থগিত, নতুন সময়সূচির অপেক্ষায় যাত্রীরা

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বাংলাদেশ থেকে রিয়াদগামী একাধিক ফ্লাইট স্থগিত ও বাতিল করা হয়েছে। এতে সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশি, ছুটিতে দেশে আসা যাত্রী এবং নতুন করে কর্মস্থলে ফেরার অপেক্ষায় থাকা মানুষদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিমান সংস্থাগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংশ্লিষ্ট ফ্লাইটগুলোর পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও নতুন সময়সূচি নিশ্চিত হলে যাত্রীদের জানানো হবে বলে জানিয়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ঢাকা–রিয়াদ–ঢাকা রুটের বিজি৩৩৯ ও বিজি৩৪০ ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় নির্ধারিত সময়ে এসব ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। বিমান সংস্থা জানিয়েছে, সংশোধিত সময়সূচি নিশ্চিত হওয়ার পর তা প্রকাশ করা হবে। যাত্রীদের অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

একই পরিস্থিতিতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসও ঢাকা–রিয়াদ–ঢাকা রুটের বিএস৩৮১ ও বিএস৩৮২ ফ্লাইট ২১ অক্টোবর পর্যন্ত বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে। সংস্থাটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ থাকার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের নতুন সময়সূচি ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত বিমানবন্দরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। টিকিট পুনর্নির্ধারণ, ভ্রমণের নতুন তারিখ এবং অন্যান্য সহায়তার জন্য যাত্রীদের বিমান সংস্থার বিক্রয়কেন্দ্র বা যেখান থেকে টিকিট কিনেছেন সেই অনুমোদিত ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

রিয়াদ বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার পেছনে নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতি কাজ করছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানবন্দর এলাকায় ধারাবাহিক হামলার ঘটনার পর বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। এসব ঘটনায় হতাহত হওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় বিভিন্ন দেশের বিমান সংস্থা সৌদি আরবগামী ফ্লাইট স্থগিত বা বাতিল করেছে। তবে প্রতিটি বিমান সংস্থার সিদ্ধান্ত, স্থগিতের সময়সীমা এবং কোন কোন গন্তব্যে ফ্লাইট বন্ধ থাকবে, তা আলাদা হতে পারে।

বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা ও রিয়াদের মধ্যে চলাচলকারী একাধিক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় কয়েক হাজার যাত্রী প্রভাবিত হয়েছেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও ইউএস-বাংলার পাশাপাশি সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমান সংস্থার ফ্লাইটও বিঘ্নিত হয়েছে। কিছু ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে, আবার কিছু ফ্লাইটের ক্ষেত্রে যাত্রাপথ পরিবর্তন বা ফিরে আসার ঘটনা ঘটেছে। ফলে যাত্রীদের জন্য ভ্রমণের পরিকল্পনা ঠিক রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন যাঁদের জরুরি কাজে সৌদি আরবে যেতে হবে। অনেক বাংলাদেশি কর্মসংস্থান, ছুটি শেষে কাজে যোগদান, চিকিৎসা কিংবা পারিবারিক প্রয়োজনের কারণে নির্ধারিত সময়ে যাত্রা করতে চান। ফ্লাইট হঠাৎ বাতিল হলে তাঁদের অতিরিক্ত থাকা-খাওয়ার খরচ, টিকিট পরিবর্তনের জটিলতা এবং কর্মস্থলে সময়মতো পৌঁছাতে না পারার আশঙ্কা তৈরি হয়। বিশেষ করে যাঁদের ভিসা বা কর্মস্থলে যোগদানের নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে, তাঁদের জন্য বিমান সংস্থার সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করা গুরুত্বপূর্ণ।

যাত্রীদের জন্য এখন সবচেয়ে জরুরি হলো, নিজেদের ফ্লাইটের অবস্থা সরাসরি সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া। শুধু আগের টিকিটে উল্লেখ করা সময়ের ওপর নির্ভর করে বিমানবন্দরে রওনা হওয়া উচিত নয়। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের যাত্রীরা সংস্থার হালনাগাদ ভ্রমণসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি দেখতে পারেন অথবা কল সেন্টারে যোগাযোগ করতে পারেন। ইউএস-বাংলার যাত্রীরাও সংস্থার ওয়েবসাইটে বুকিংয়ের অবস্থা যাচাই করতে পারেন এবং প্রয়োজনে বিক্রয়কেন্দ্র বা অনুমোদিত টিকিট বিক্রেতার সহায়তা নিতে পারেন।

এ ছাড়া যাঁরা ভ্রমণ সংস্থার মাধ্যমে টিকিট কিনেছেন, তাঁদের সেই সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে নতুন সময়সূচি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ফ্লাইট বাতিল হলে টিকিট পরিবর্তন, পুনরায় বুকিং কিংবা অর্থ ফেরতের নিয়ম টিকিটের শর্ত ও সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার নীতির ওপর নির্ভর করতে পারে। তাই কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে লিখিতভাবে নিশ্চিত হওয়া ভালো।

রিয়াদ বিমানবন্দরের কার্যক্রম কখন পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইটের সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে। একটি বিমান সংস্থা কোনো নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ফ্লাইট বাতিল করলেও অন্য সংস্থার সিদ্ধান্ত ভিন্ন হতে পারে। একইভাবে বিমানবন্দর পুনরায় চালু হলেও সব ফ্লাইট একসঙ্গে স্বাভাবিক হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। নিরাপত্তা পরিস্থিতি, বিমান চলাচলের অনুমতি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার পরিচালনাগত প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করবে পরবর্তী সিদ্ধান্ত।

রিয়াদ বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকার কারণে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে আকাশপথে যাতায়াতে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ঢাকা–রিয়াদ–ঢাকা রুটের নির্ধারিত ফ্লাইট স্থগিত রয়েছে এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে। যাত্রীদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত হলো, যাত্রার আগে নিজ নিজ ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা নিশ্চিত করা এবং নতুন সময়সূচি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত বিমান সংস্থার নির্দেশনা অনুসরণ করা।

ট্যাগ: বাংলাদেশসৌদিআরবরিয়াদবিমানবাংলাদেশএয়ারলাইনসইউএসবাংলাফ্লাইটবাতিলপ্রবাসীবাংলাদেশি

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।