ব্রেকিং
উত্তর কোরিয়ার একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপে জাপান সাগরে নতুন নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়লরিয়াদে হামলাকে ‘রেড লাইন’ ঘোষণা পাকিস্তানের, সৌদির নিরাপত্তায় সর্বাত্মক সহযোগিতার অঙ্গীকার২০২৮ সালের নির্বাচনে ফিরবেন কমলা হ্যারিস? মধ্যবর্তী ভোটে ডেমোক্র্যাটদের জয় ঘিরে নতুন জল্পনাপ্যারিসে শিক্ষার্থী-পুলিশ সংঘর্ষ তীব্র, বিক্ষোভ ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনাগাজায় যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ বাড়ছে, পশ্চিম তীরে জলপাই চাষিরা আক্রমণের শিকার

দামবৃদ্ধির চাপে সাধারণ মানুষ, মজুরি বাড়ে ধীরে; সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতি ৮.৩৪ শতাংশে উঠেছে

সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮.৩৪ শতাংশ, অথচ মজুরি বৃদ্ধির হার ৭.৯০ শতাংশে নেমেছে; সংসার চালাতে নিম্ন ও মধ্যআয়ের পরিবারে বাড়ছে চাপ।

দামবৃদ্ধির চাপে সাধারণ মানুষ, মজুরি বাড়ে ধীরে; সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতি ৮.৩৪ শতাংশে উঠেছে
দামবৃদ্ধির চাপে সাধারণ মানুষ, মজুরি বাড়ে ধীরে; সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতি ৮.৩৪ শতাংশে উঠেছে

বাংলাদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও বিভিন্ন পরিষেবার ব্যয়ের চাপের মধ্যে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। আয় বাড়লেও সেই বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিতে পারছে না বাজারদর। ফলে নিম্ন ও মধ্য আয়ের পরিবারগুলোকে সীমিত আয়ের মধ্যে খাবার, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, যাতায়াত ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। মূল্যস্ফীতি কমার প্রত্যাশার মধ্যেও নতুন পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, সেপ্টেম্বরে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি আবার বেড়েছে। একই সময়ে মজুরি বৃদ্ধির হার কমেছে, যা মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশে। আগস্টে এই হার ছিল ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে শূন্য দশমিক শূন্য ৮ শতাংশীয় পয়েন্ট। গত ৭ অক্টোবর প্রকাশিত এই পরিসংখ্যানের তথ্য বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও উঠে এসেছে। এর আগে আগস্টে মূল্যস্ফীতি সামান্য কমেছিল। তবে সেপ্টেম্বরে সেই প্রবণতা আর অব্যাহত থাকেনি।

খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতিও সেপ্টেম্বরে বেড়েছে। আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ০২ শতাংশ, যা সেপ্টেম্বরে বেড়ে হয়েছে ৭ দশমিক ২২ শতাংশ। অর্থাৎ চাল, ডাল, শাকসবজি ও অন্যান্য খাদ্যপণ্যের বাজারদর সাধারণ পরিবারের ব্যয়ের ওপর চাপ তৈরি করে চলেছে। অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি আগস্টের ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ থেকে সামান্য কমে সেপ্টেম্বরে ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ হয়েছে। তবে এই হার এখনো তুলনামূলকভাবে বেশি। বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, পরিবহন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় বেশি থাকায় অনেক পরিবারের জন্য সামান্য হ্রাসও যথেষ্ট স্বস্তি এনে দিতে পারছে না।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম। পরিসংখ্যান ব্যুরোর মজুরি সূচকের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে জাতীয় পর্যায়ে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৭ দশমিক ৯০ শতাংশ। আগস্টে এই হার ছিল ৮ দশমিক ০৫ শতাংশ। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে মজুরি বৃদ্ধির হার কমেছে শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশীয় পয়েন্ট। সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতির হার ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ হওয়ায় আয় বৃদ্ধির সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয়ের ব্যবধান আরও স্পষ্ট হয়েছে।

সহজভাবে বললে, কোনো পণ্যের দাম আগের বছরের তুলনায় যে হারে বাড়ছে, একজন কর্মজীবী মানুষের আয় সেই হারে না বাড়লে একই আয় দিয়ে আগের মতো পণ্য ও পরিষেবা কেনা কঠিন হয়ে পড়ে। উদাহরণ হিসেবে, কোনো পরিবারের আয় এক বছরে ১০০ টাকা থেকে ১০৭ টাকা ৯০ পয়সায় উঠলেও একই সময়ের তুলনায় জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে ১০৮ টাকা ৩৪ পয়সার সমপরিমাণ হলে আয় বৃদ্ধির পরও প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়। এই হিসাবটি জাতীয় মূল্যস্ফীতি ও মজুরি বৃদ্ধির হারের পার্থক্য বোঝানোর একটি উদাহরণ; এটি কোনো নির্দিষ্ট পরিবারের প্রকৃত আয় বা ব্যয়ের হিসাব নয়।

খাতভিত্তিক পরিসংখ্যানেও মজুরি বৃদ্ধির গতি কমার চিত্র দেখা গেছে। সেপ্টেম্বরে কৃষি খাতে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ, যা আগস্টে ছিল ৮ দশমিক ০৭ শতাংশ। শিল্প খাতে এই হার আগস্টের ৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ থেকে কমে ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ হয়েছে। সেবা খাতেও মজুরি বৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ০৭ শতাংশে নেমেছে। অর্থাৎ প্রধান তিনটি খাতেই মজুরি বৃদ্ধির গতি কমেছে। এসব তথ্য ইঙ্গিত করে যে আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান শুধু একটি পেশা বা খাতের সমস্যা নয়; অর্থনীতির বিভিন্ন অংশেই এর প্রভাব রয়েছে।

মূল্যস্ফীতি ও মজুরি বৃদ্ধির এই ব্যবধান দীর্ঘদিন ধরে চলার ফলে সঞ্চয় কমে যাওয়া, ঋণের ওপর নির্ভরতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় কেনাকাটা সীমিত করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। পরিবারের ব্যয় মেটাতে অনেকে আমিষজাতীয় খাবার, ফলমূল বা অন্যান্য পুষ্টিকর খাদ্য কেনা কমিয়ে দিতে পারেন। চিকিৎসা পিছিয়ে দেওয়া কিংবা সন্তানদের শিক্ষা ও যাতায়াতের ব্যয় কমানোর প্রবণতাও দেখা দিতে পারে। তবে এসব প্রভাবের মাত্রা পরিবারভেদে আলাদা; সবার পরিস্থিতি একই রকম নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে শুধু সামগ্রিক হার কমানোর দিকে নজর দিলেই হবে না। কোন কোন পণ্য ও পরিষেবার দাম বাড়ছে, উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় কতটা বাড়ছে এবং বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক আছে কি না, সেগুলোও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। বিদ্যুৎ ও অন্যান্য উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি হলে তার প্রভাব পণ্যের দামেও পড়তে পারে। একই সঙ্গে বাজার তদারকি, সরবরাহব্যবস্থার উন্নতি এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য কার্যকর সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে মূল্যস্ফীতি কমানোর পাশাপাশি কর্মসংস্থান, নিয়মিত আয় বৃদ্ধি এবং মজুরি সমন্বয়ের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। শুধু আয় বাড়লেই হবে না; সেই আয় দিয়ে প্রয়োজনীয় পণ্য ও পরিষেবা কেনার সক্ষমতাও বজায় রাখতে হবে। অন্যথায় কাগজে-কলমে আয় বাড়লেও মানুষের জীবনযাত্রার মানে তার সুফল সীমিত থেকে যেতে পারে।

সর্বশেষ পরিসংখ্যানের মূল বার্তা হলো, বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি এখনো উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে এবং মজুরি বৃদ্ধির হার তার চেয়ে কম। আগস্টে মূল্যস্ফীতি সামান্য কমলেও সেপ্টেম্বরে তা আবার বেড়েছে। তাই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা রক্ষার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। পরবর্তী মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতি কমে কি না এবং মজুরি বৃদ্ধির গতি বাড়ে কি না, তার ওপরই অনেক পরিবারের আর্থিক স্বস্তি নির্ভর করবে।

ট্যাগ: বাংলাদেশমূল্যস্ফীতিমজুরিদ্রব্যমূল্যনিত্যপ্রয়োজনীয়পণ্য

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।