ব্রেকিং
জ্বালানি ও খাবারের বাড়তি খরচে চাপে মার্কিন পরিবার, নির্বাচনের আগে বাড়ছে অসন্তোষফ্লু থেকে সেরে প্রচারে ফিরলেন তালারিকো, মানসিক চিকিৎসার গুজব উড়িয়ে দিলেনউত্তর কোরিয়ার একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপে জাপান সাগরে নতুন নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়লরিয়াদে হামলাকে ‘রেড লাইন’ ঘোষণা পাকিস্তানের, সৌদির নিরাপত্তায় সর্বাত্মক সহযোগিতার অঙ্গীকার২০২৮ সালের নির্বাচনে ফিরবেন কমলা হ্যারিস? মধ্যবর্তী ভোটে ডেমোক্র্যাটদের জয় ঘিরে নতুন জল্পনা

ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও ইউক্রেনে হামলার অভিযোগ, শান্তি উদ্যোগ নিয়ে সংশয়

জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধের সমঝোতার কথা ঘোষণার পরও ইউক্রেনে হামলার অভিযোগ উঠেছে; যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও ইউক্রেনে হামলার অভিযোগ, শান্তি উদ্যোগ নিয়ে সংশয়
ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও ইউক্রেনে হামলার অভিযোগ, শান্তি উদ্যোগ নিয়ে সংশয়

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে দীর্ঘদিনের যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টায় নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই দেশের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের সমঝোতা কার্যকর হওয়ার ঘোষণা দিলেও ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় রুশ হামলা অব্যাহত থাকার অভিযোগ উঠেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ঘোষণার পরও তাঁদের দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্র, জ্বালানি স্থাপনা এবং আবাসিক এলাকায় হামলা হয়েছে। ফলে ঘোষিত উদ্যোগ বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানান, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধের সমঝোতা অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং উভয় পক্ষ এতে সম্মত হয়েছে। তবে তিনি সমঝোতার বিস্তারিত শর্ত, এর আনুষ্ঠানিক কাঠামো কিংবা বাস্তবায়ন তদারকির পদ্ধতি সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি। রাশিয়া ও ইউক্রেনের পক্ষ থেকেও ঘোষণার পরপরই একটি পূর্ণাঙ্গ, আনুষ্ঠানিক চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের ঘোষণাটি ইউক্রেনের নেতৃত্বের কাছেও বিস্ময় তৈরি করে। জেলেনস্কি জানান, তিনি আগে থেকে এই উদ্যোগের বিস্তারিত জানতেন না। সংবাদমাধ্যমের খবর থেকে বিষয়টি জানার পর তিনি বলেন, রাশিয়া সত্যিই জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করলে ইউক্রেনও একই পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। তবে তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল, যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে হলে দুই পক্ষকেই সমানভাবে তা মেনে চলতে হবে।

জেলেনস্কির অভিযোগ, ঘোষণার পরও রাশিয়ার চালকবিহীন আকাশযান ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। পূর্ব ইউক্রেনের খারকিভ শহরের একটি তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রও হামলার শিকার হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। ইউক্রেনের কর্মকর্তারা আরও অভিযোগ করেছেন, জ্বালানি স্থাপনার পাশাপাশি আবাসিক এলাকাতেও হামলা হয়েছে। রয়টার্স ও অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, খারকিভে হামলায় প্রাণহানি ও বহু মানুষ আহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। এসব ঘটনার স্বাধীন যাচাই এবং প্রতিটি হামলার দায় নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।

ইউক্রেনের অবস্থান হলো, রাশিয়া তাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন, গ্যাস সরবরাহ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করলে কিয়েভও রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও জ্বালানি স্থাপনায় দূরপাল্লার হামলা বন্ধ করতে পারে। ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো থেকে পাওয়া আয় দেশটির যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। এ কারণে রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানোর যুক্তি দিয়েছে কিয়েভ।

রাশিয়া ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালিয়ে আসছে বলে ইউক্রেন ও তার পশ্চিমা মিত্ররা অভিযোগ করে আসছে। শীতকাল ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ, গরম রাখার ব্যবস্থা এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র বা গ্যাস স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন, হাসপাতাল, পরিবহন এবং শিল্পকারখানার কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। তাই জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধের উদ্যোগকে মানবিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এই উদ্যোগের পেছনে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের পরিস্থিতিও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এবং ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প ইউক্রেনের রুশ তেল শোধনাগারে হামলার সমালোচনা করেছেন এবং এসব হামলা জ্বালানির দাম বাড়ানোর অন্যতম কারণ বলে দাবি করেছেন। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্য নির্ধারণে সরবরাহ, চাহিদা, যুদ্ধ পরিস্থিতি, পরিবহনব্যয় এবং বিভিন্ন দেশের নিষেধাজ্ঞাসহ একাধিক বিষয় প্রভাব ফেলে।

রাশিয়া ও ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করা গেলে তেল, গ্যাস ও পরিশোধিত জ্বালানির সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা কিছুটা কমতে পারে। তবে কেবল একটি ঘোষণা থেকেই জ্বালানির দাম কমবে কিংবা যুদ্ধ দ্রুত শেষ হবে—এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না। সমঝোতার শর্ত, উভয় পক্ষের সম্মতি এবং তা বাস্তবায়নের নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা থাকা জরুরি।

ইউরোপীয় নেতারাও পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাস বলেছেন, রাশিয়া এই উদ্যোগ মেনে চলবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নেতারা রাশিয়ার ওপর চাপ বজায় রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন। তাঁদের মতে, শুধু জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধের উদ্যোগ নয়, বেসামরিক মানুষের জীবন রক্ষার জন্যও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

এদিকে রাশিয়ার পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির বিস্তারিত নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নিশ্চয়তা না আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ক্রেমলিন জানিয়েছে, যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য পরে জানানো হবে। একই সঙ্গে রাশিয়া বৃহত্তর শান্তিচুক্তির ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। ফলে ট্রাম্পের ঘোষণাটি বাস্তবসম্মত ও পারস্পরিকভাবে কার্যকর সমঝোতায় রূপ নেবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের উদ্যোগ কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর বাস্তব ফলাফল এখনো স্পষ্ট নয়। ইউক্রেন বলছে, হামলা চলতে থাকলে একতরফাভাবে বিরত থাকা সম্ভব নয়। অন্যদিকে, রাশিয়ার আনুষ্ঠানিক অবস্থান ও সমঝোতার শর্তও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। তাই এই মুহূর্তে ঘোষণাটিকে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। উভয় পক্ষ হামলা বন্ধ করে কি না এবং সমঝোতার বাস্তবায়ন কীভাবে নিশ্চিত করা হয়, তার ওপরই উদ্যোগটির সাফল্য নির্ভর করছে।

ট্যাগ: রাশিয়াইউক্রেনযুদ্ধডোনাল্ডট্রাম্পজ্বালানিসংকটযুদ্ধবিরতিবিশ্বসংবাদ

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।