ব্রেকিং
জ্বালানি ও খাবারের বাড়তি খরচে চাপে মার্কিন পরিবার, নির্বাচনের আগে বাড়ছে অসন্তোষফ্লু থেকে সেরে প্রচারে ফিরলেন তালারিকো, মানসিক চিকিৎসার গুজব উড়িয়ে দিলেনউত্তর কোরিয়ার একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপে জাপান সাগরে নতুন নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়লরিয়াদে হামলাকে ‘রেড লাইন’ ঘোষণা পাকিস্তানের, সৌদির নিরাপত্তায় সর্বাত্মক সহযোগিতার অঙ্গীকার২০২৮ সালের নির্বাচনে ফিরবেন কমলা হ্যারিস? মধ্যবর্তী ভোটে ডেমোক্র্যাটদের জয় ঘিরে নতুন জল্পনা

অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আরও ঘনিষ্ঠ হতে চান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বার্নহ্যাম

অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনীতি শক্তিশালী করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য, জ্বালানি ও তরুণদের চলাচল চুক্তি চান বার্নহ্যাম।

অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আরও ঘনিষ্ঠ হতে চান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বার্নহ্যাম
অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আরও ঘনিষ্ঠ হতে চান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বার্নহ্যাম

যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার উদ্যোগ নিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। তাঁর মতে, ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানো গেলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি জোরদার করা এবং অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে বাণিজ্য, জ্বালানি, পরিবেশ ও তরুণদের পারস্পরিক যাতায়াতের ক্ষেত্রে নতুন সমঝোতার সম্ভাবনাও সামনে এসেছে।

সোমবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে বার্নহ্যাম বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি যুক্তরাজ্যের জন্য যথেষ্ট নয়। দেশের অর্থনীতি এগিয়ে নেওয়া, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, মূল্যবোধ রক্ষা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে আন্তরিক হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা জরুরি। তিনি সতর্ক করে বলেন, সম্ভাবনাগুলো বিবেচনা না করে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া দেশের স্বার্থের জন্য দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত হবে না।

বার্নহ্যামের বক্তব্যের কেন্দ্রে রয়েছে ব্রেক্সিটের পর যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ক নতুনভাবে সাজানোর প্রশ্ন। ২০২০ সালের শেষে যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের একক বাজার ও শুল্ক ইউনিয়নের বাইরে চলে যাওয়ার পর দুই পক্ষের মধ্যে পণ্য পরিবহন, সীমান্তে নথিপত্র যাচাই এবং বাণিজ্যিক নিয়মকানুন নিয়ে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়। ব্রিটিশ সরকারের ধারণা, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে নিয়মের সমন্বয় করা গেলে ব্যবসায়ীদের ব্যয় কমানো এবং বাণিজ্য সহজ করা সম্ভব হতে পারে।

খাদ্য ও পানীয় পণ্যের বাণিজ্য এ আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বর্তমানে সীমান্তে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সনদ এবং পণ্য যাচাইয়ের কারণে কিছু রপ্তানিকারককে অতিরিক্ত ব্যয় ও বিলম্বের মুখোমুখি হতে হয়। বিশেষ করে তাজা মাছ, মাংস, কৃষিপণ্য এবং দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে এমন খাবারের ক্ষেত্রে বিলম্ব ব্যবসায়ীদের জন্য আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। প্রস্তাবিত সমঝোতার লক্ষ্য হলো নির্দিষ্ট মানদণ্ডের সমন্বয়ের মাধ্যমে এসব জটিলতা কমানো। তবে কী ধরনের পণ্য এই ব্যবস্থার আওতায় আসবে এবং কী শর্তে নিয়ম পরিবর্তন হবে, তা এখনো আলোচনার বিষয়।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কার্বন নিঃসরণ বাণিজ্যব্যবস্থা। যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাগুলোকে যুক্ত করা গেলে কিছু ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠানের জন্য ইউরোপীয় বাজারে কার্বনসংক্রান্ত অতিরিক্ত ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে শিল্প ও জ্বালানিনির্ভর ব্যবসায়ীরা এ ধরনের সমঝোতা থেকে উপকৃত হতে পারেন। তবে এর প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে চুক্তির শর্ত, কার্বনের মূল্য নির্ধারণ এবং দুই পক্ষের নিয়ম কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় তার ওপর।

তরুণদের জন্য একটি অভিজ্ঞতা কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা চলছে। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে নির্দিষ্ট বয়সসীমার তরুণেরা সীমিত সময়ের জন্য একে অপরের দেশে গিয়ে বসবাস, পড়াশোনা, কাজ বা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। এটি আগের অবাধ চলাচলব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার সমান নয়। কর্মসূচির অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা, ভিসার শর্ত, থাকার সময়সীমা এবং কাজের অধিকার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এখনো আলোচনা চলছে। ফলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে এর সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বার্নহ্যাম ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অপরাধী চক্রের তথ্য আদান-প্রদান, পরিচয় শনাক্তকরণ এবং মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্ত পেরিয়ে পরিচালিত অপরাধ মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের কর্তৃপক্ষের মধ্যে যোগাযোগ থাকলে তদন্তের গতি বাড়তে পারে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হলেই অবৈধ অভিবাসন স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। বাস্তব ফল নির্ভর করবে চুক্তির কাঠামো, আইন প্রয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সহযোগিতার ওপর।

যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরবর্তী শীর্ষ বৈঠক ২০ নভেম্বর ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে খাদ্য ও পানীয় বাণিজ্য, কার্বন নিঃসরণ বাণিজ্যব্যবস্থা, তরুণদের চলাচল এবং জ্বালানি সহযোগিতার মতো বিষয় নিয়ে অগ্রগতি অর্জনের লক্ষ্য রয়েছে। ব্রিটিশ সরকারের প্রত্যাশা, এসব ক্ষেত্রে সমঝোতা হলে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বার্নহ্যাম দাবি করেছেন, প্রস্তাবিত চুক্তিগুলো বাস্তবায়িত হলে ২০৪০ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে বছরে দশ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি সমপরিমাণ অবদান রাখার সম্ভাবনা রয়েছে। এটি সরকারের প্রত্যাশিত হিসাব, নিশ্চিত অর্থনৈতিক ফল নয়।

তবে ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার বিষয়টি যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে বিতর্কিত। ব্রেক্সিটের সমর্থকেরা সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, জাতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এবং ইউরোপীয় নিয়মের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন। অন্যদিকে, ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সহযোগিতার সমর্থকেরা মনে করেন, ইউরোপীয় বাজারে সহজ প্রবেশাধিকার এবং অভিন্ন কিছু নিয়ম ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে পারে। তাই প্রস্তাবগুলোর অর্থনৈতিক সুবিধার পাশাপাশি রাজনৈতিক, আইনগত ও সামাজিক প্রভাবও বিবেচনা করতে হবে।

বার্নহ্যাম বলেছেন, ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার প্রতিটি পর্যায়ে ব্রিটিশ জনগণের মতামত গুরুত্বপূর্ণ থাকবে। তাঁর তাৎক্ষণিক লক্ষ্য আসন্ন শীর্ষ বৈঠকে সফল সমঝোতা অর্জন করা; এরপর দীর্ঘমেয়াদে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক কোন পথে এগোবে, তা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করতে চান তিনি। তবে বর্তমান উদ্যোগকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে পুনরায় যোগদানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। আপাতত আলোচনার মূল বিষয় হলো ব্রেক্সিটের পর বিদ্যমান সম্পর্কের মধ্যে কীভাবে বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও অভিবাসনসংক্রান্ত সহযোগিতা বাড়ানো যায়।

বার্নহ্যামের বক্তব্য যুক্তরাজ্যের ইউরোপনীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা সামনে এনেছে। বাণিজ্য সহজ করা, জ্বালানি সহযোগিতা এবং সীমান্ত পেরিয়ে অপরাধ মোকাবিলায় সমন্বয় বাড়ানোর প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে দুই পক্ষের সম্পর্কের ধরনে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে চুক্তিগুলো এখনো আলোচনাধীন এবং চূড়ান্ত ফলাফল নির্ভর করবে আসন্ন বৈঠক, উভয় পক্ষের সম্মতি ও পরবর্তী বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার ওপর।

ট্যাগ: যুক্তরাজ্যইউরোপীয়ইউনিয়নঅবৈধঅভিবাসনব্রেক্সিটব্রিটিশরাজনীতিআন্তর্জাতিকসংবাদ

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।