ব্রেকিং
পুতিনের বার্তা, ইউরোপের সঙ্গে যুদ্ধ নয়, সম্পর্ক পুনরুদ্ধার ও সহযোগিতা চায় রাশিয়াযুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে কানাডা, যুদ্ধের আশঙ্কা অবশ্য ক্ষীণরূপপুরে পারমাণবিক যুগের নতুন মাইলফলক, প্রথম ইউনিটে শুরু নিয়ন্ত্রিত বিক্রিয়ানিউইয়র্কের নর্দমায় তিন ব্যক্তির প্রবেশ, রহস্যের কিনারা খুঁজতে নতুন করে তদন্তে পুলিশসান ফ্রান্সিসকো উপকূলে ১৬ ফুট ঢেউয়ের আশঙ্কা, উপকূলজুড়ে নতুন প্লাবন সতর্কতা জারি

রূপপুরে পারমাণবিক যুগের নতুন মাইলফলক, প্রথম ইউনিটে শুরু নিয়ন্ত্রিত বিক্রিয়া

রূপপুরের প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হয়েছে। জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের আগে আরও কয়েক ধাপের পরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রক অনুমোদন প্রয়োজন।

রূপপুরে পারমাণবিক যুগের নতুন মাইলফলক, প্রথম ইউনিটে শুরু নিয়ন্ত্রিত বিক্রিয়া
রূপপুরে পারমাণবিক যুগের নতুন মাইলফলক, প্রথম ইউনিটে শুরু নিয়ন্ত্রিত বিক্রিয়া

পাবনা, ১২ অক্টোবর ২০২৬: বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরের প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হয়েছে। দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তবে এই অগ্রগতির অর্থ এই নয় যে কেন্দ্রটি ইতিমধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের আগে আরও পরীক্ষা, প্রযুক্তিগত যাচাই এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন প্রয়োজন।

১১ অক্টোবর রোববার বিকেল ৩টা ৩৪ মিনিটের দিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে প্রথম পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হয় বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন বলে দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পারমাণবিক চুল্লির এই পর্যায়কে বলা হয় ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’। সহজ ভাষায়, এ পর্যায়ে চুল্লির ভেতরে নিয়ন্ত্রিত ও স্বনির্ভর পারমাণবিক শৃঙ্খল বিক্রিয়া শুরু হয়, যার মাধ্যমে তাপ উৎপন্ন হয়। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে বিক্রিয়া শুরু হওয়া এবং বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন দুটি সম্পূর্ণ আলাদা ধাপ।

এই পর্যায়ে পৌঁছাতে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার ৮ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়, নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর অনুমোদন দেয়। জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত করার আগে আরও কয়েকটি ধাপের পরীক্ষা ও অনুমোদন প্রয়োজন হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এর আগে প্রথম ইউনিটের স্বয়ংক্রিয় চাপমুক্তকরণ নিরাপত্তা ভালভ নিয়ে প্রযুক্তিগত জটিলতা দেখা দিয়েছিল বলে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান। রাশিয়া থেকে আসা বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় সমস্যাটি সমাধান করা হয় এবং ভালভটি বিভিন্ন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো সংবেদনশীল স্থাপনায় নিরাপত্তা সরঞ্জামের নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয় ২০২৬ সালের ২৮ এপ্রিল। এরপর বিভিন্ন পরীক্ষা ও কমিশনিং কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে কেন্দ্রটি ধাপে ধাপে পরবর্তী পর্যায়ে এগিয়েছে। দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য পারমাণবিক জ্বালানির প্রথম চালান ৩ অক্টোবর বাংলাদেশে পৌঁছেছে বলেও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে।

পাবনা জেলার ঈশ্বরদীতে নির্মিত এই প্রকল্পে রাশিয়ার আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা রয়েছে। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক প্রতিষ্ঠান রোসাটমের সহযোগী প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট নির্মাণকাজে যুক্ত রয়েছে। কেন্দ্রটিতে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। সব মিলিয়ে এর পরিকল্পিত উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়ায় চুল্লির ভেতরে পারমাণবিক বিভাজন থেকে উৎপন্ন তাপ ব্যবহার করে পানি থেকে উচ্চচাপের বাষ্প তৈরি করা হয়। সেই বাষ্প টারবাইন ঘোরায়, আর টারবাইনের সঙ্গে যুক্ত জেনারেটর বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। তবে চুল্লির তাপমাত্রা ও ক্ষমতা ধীরে ধীরে বাড়ানো, যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা যাচাই এবং প্রতিটি পর্যায়ে নিরাপত্তার শর্ত পূরণ করা জরুরি।

বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর সম্ভাব্য সময় নিয়ে সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন সময়সীমার কথা এসেছে। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার ৮ অক্টোবরের প্রতিবেদনে কর্মকর্তাদের বরাতে ডিসেম্বরের শেষ দিকে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের সম্ভাবনার কথা বলা হয়। তবে এটি সম্ভাব্য সময়সীমা, নিশ্চিত তারিখ নয়। পরবর্তী পরীক্ষা, প্রযুক্তিগত পরিস্থিতি ও নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের ওপর প্রকৃত সময় নির্ভর করবে।

রূপপুরের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের উৎস আরও বৈচিত্র্যময় হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরতা, বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার আলোচনায় প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে বাস্তব সুফল নির্ভর করবে কেন্দ্রটির নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য পরিচালনা, উৎপাদনের ধারাবাহিকতা এবং জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের কার্যকর ব্যবস্থার ওপর।

একই সঙ্গে পারমাণবিক নিরাপত্তা, তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং দক্ষ জনবল প্রস্তুত রাখার বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ। এসব ক্ষেত্রে নিয়মিত তদারকি ও স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ জনসাধারণের আস্থা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।

সার্বিকভাবে, রূপপুরের প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হওয়া বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। তবে প্রকল্পটির সাফল্য নির্ধারিত হবে পরবর্তী পরীক্ষা, নিয়ন্ত্রক অনুমোদন এবং নিরাপত্তার সব শর্ত পূরণ করে কখন নির্ভরযোগ্যভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা যায়, তার ওপর।

ট্যাগ: রূপপুরপারমাণবিকবিদ্যুৎকেন্দ্রবাংলাদেশ

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।