ফিলাডেলফিয়ায় পুলিশ কর্মকর্তা হত্যায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ৭৬টি অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় দায়িত্ব পালনকালে এক পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৭৬টি অভিযোগ আনা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিলাডেলফিয়া শহরে দায়িত্ব পালনকালে গুলিতে এক পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন তাঁর আরেক সহকর্মী। হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মোট ৭৬টি ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে তাঁকে জামিন ছাড়াই আটক রাখা হয়েছে বলে প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
নিহত পুলিশ কর্মকর্তার নাম শেন সাইবার। তাঁর বয়স ছিল ৪০ বছর। তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে ফিলাডেলফিয়া পুলিশ বিভাগে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি দুই সন্তানের বাবা ছিলেন। এর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীতেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার, সহকর্মী এবং স্থানীয় পুলিশ বিভাগে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার মধ্যরাতের পর অস্ত্রধারী এক ব্যক্তির বিষয়ে খবর পেয়ে দুই পুলিশ কর্মকর্তা পশ্চিম ফিলাডেলফিয়ার একটি বাড়ির কাছে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর তাঁরা গুলির মুখে পড়েন। এতে দুই কর্মকর্তাই আহত হন। পরে তাঁদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেন সাইবারের মৃত্যু হয়।
আহত অপর পুলিশ কর্মকর্তার বয়স ৩৩ বছর। তিনি পাঁচ সন্তানের বাবা। হামলায় তাঁর শরীরে ১২টি গুলি লাগে বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। অস্ত্রোপচারের পর তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয় এবং তাঁকে স্থিতিশীল অবস্থায় থাকার কথা জানানো হয়। তবে গুরুতর আঘাতের কারণে তাঁর চিকিৎসা ও সুস্থতার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে রয়েছে
ঘটনার খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য এবং বিশেষ অভিযানকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এ সময় পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি অন্য কর্মকর্তাদের দিকেও গুলি চালান। তবে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যদের কেউ আহত হননি বলে জানানো হয়েছে।
পরে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তাঁর নাম এরিক লুইস এবং বয়স ৩৫ বছর। পুলিশ জানিয়েছে, আটকের সময় তাঁর কাছ থেকে দুটি পিস্তল ও একটি বন্দুক উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা পিস্তলগুলোর একটি আহত পুলিশ কর্মকর্তার ছিল বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। অস্ত্রগুলো কীভাবে অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছে পৌঁছেছিল এবং হামলার সময় সেগুলো কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল, তা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
আদালতের নথি অনুযায়ী, লুইসের বিরুদ্ধে হত্যা, পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যার অভিযোগ, হত্যাচেষ্টা, গুরুতর হামলা, হুমকি এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। সব মিলিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের সংখ্যা ৭৬। তাঁকে জামিন ছাড়াই আটক রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে পরবর্তী আদালত-শুনানির তারিখ ২৬ অক্টোবর নির্ধারণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তির অতীতেও চুরি, অস্ত্রসংক্রান্ত অপরাধ এবং সাধারণ হামলার মতো ঘটনায় দণ্ডিত হওয়ার রেকর্ড রয়েছে। তবে তাঁর অতীতের অপরাধের ইতিহাস থাকলেই বর্তমান ঘটনার সব কারণ নিশ্চিতভাবে ব্যাখ্যা করা যায় না। হামলার উদ্দেশ্য, ঘটনার পূর্ণ বিবরণ এবং অস্ত্র ব্যবহারের পরিস্থিতি সম্পর্কে তদন্তের ফল গুরুত্বপূর্ণ হবে।
নিহত কর্মকর্তার মৃত্যুতে পেনসিলভানিয়ার অঙ্গরাজ্য সরকারও শোক জানিয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গভর্নর জশ শাপিরো নিহত কর্মকর্তার প্রতি সম্মান জানিয়ে সরকারি ভবনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাটিকে ভয়াবহ সহিংসতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। অস্ত্রধারী ব্যক্তির বিষয়ে পাওয়া একটি খবর যাচাই করতে গিয়ে কীভাবে কর্মকর্তারা এমন হামলার মুখে পড়লেন, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে আহত কর্মকর্তার সুস্থতা, মামলার অগ্রগতি এবং উদ্ধার করা অস্ত্রের বিষয়ে তদন্তকারীদের পরবর্তী বক্তব্যের দিকে নজর থাকবে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে জানা গেছে, একজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন, তাঁর সহকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি একাধিক ফৌজদারি অভিযোগে আটক রয়েছেন। মামলার বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তির অপরাধ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করা উচিত নয়।





