অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ভোটের রায়, কংগ্রেসের দুই কক্ষই ডেমোক্র্যাটদের দখলে
মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় রাজনৈতিক ধাক্কা খেলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। এতে আগামী দুই বছর ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি, অভিবাসন কার্যক্রম ও সরকারি সিদ্ধান্তের ওপর বাড়বে কংগ্রেসের নজরদারি।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলকে হারিয়ে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিতে যাচ্ছে দলটি। নির্বাচনের এই ফলকে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে আগামী দুই বছর ওয়াশিংটনে আইন প্রণয়ন, সরকারি ব্যয় এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে দুই দলের মধ্যে টানাপোড়েন বাড়তে পারে।
৬ নভেম্বর প্রকাশিত এবিসি নিউজের সর্বশেষ নির্বাচনী তথ্য অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটরা ২৫৩টি আসনে এগিয়ে রয়েছে, রিপাবলিকানদের আসন ১৫৭টি। আরও ২৫টি আসনের ফল তখনো চূড়ান্ত হয়নি। সিনেটেও ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। তবে মিসিসিপি ও আলাস্কার দুটি আসনের ভোট গণনা তখনো চলছিল। ফলে কিছু আসনের চূড়ান্ত ফল ঘোষণার অপেক্ষা রয়েছে।
এই নির্বাচনে ভোটারদের অসন্তোষের বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে জীবনযাত্রার ব্যয়, অর্থনৈতিক চাপ এবং ইরান যুদ্ধের প্রভাব। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় নিয়ে মানুষের উদ্বেগ নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি নিয়েও ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর ডেমোক্র্যাট নেতারা জানিয়েছেন, নতুন কংগ্রেসে তাঁদের অন্যতম অগ্রাধিকার হবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত করা। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় তাঁরা বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কার্যক্রম তদন্ত, শুনানি আয়োজন এবং প্রশাসনের কাছে নথিপত্র চাওয়ার সুযোগ পাবেন।
বিশেষ করে অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন কংগ্রেসে বিতর্ক বাড়তে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন কার্যক্রম, আইসিইর অভিযান, আটককেন্দ্র এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের প্রশ্ন তোলার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অভিবাসী পরিবার, বৈধ কাগজপত্রের অপেক্ষায় থাকা মানুষ এবং আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য এসব আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে নির্বাচনের ফলের কারণে অভিবাসন আইন বা নীতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তিত হবে না।
স্বাস্থ্যসেবা, মেডিকেইড, শিক্ষা এবং সরকারি সহায়তা কর্মসূচিও নতুন কংগ্রেসের আলোচনায় আসতে পারে। ডেমোক্র্যাট নেতারা স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় কমানো, মেডিকেইডে কাটছাঁটের বিরোধিতা এবং সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা ধরে রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য আইন প্রণয়ন ও রাজনৈতিক সমঝোতা প্রয়োজন হবে।
রিপাবলিকানদের জন্য এই পরাজয় আরও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ নির্বাচনের আগে কয়েকটি রাজ্যে নিজেদের সুবিধামতো প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই পরিকল্পনাও প্রত্যাশিত ফল দেয়নি। রয়টার্সের ৫ নভেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিপাবলিকানরা যেসব আসন নিজেদের অনুকূলে আনতে চেয়েছিল, সেগুলোর বেশির ভাগেই ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে রয়েছে বা জয় পেয়েছে।
নির্বাচনের পর ট্রাম্প অবশ্য পরাজয়কে নিজের ব্যক্তিগত ব্যর্থতা হিসেবে দেখতে রাজি হননি। অন্যদিকে রিপাবলিকান নেতাদের কেউ কেউ নির্বাচনী ফলকে দলের জন্য বড় সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। টেক্সাসের রিপাবলিকান সিনেটর টেড ক্রুজও দলের নির্বাচনী ফল নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন।
তবে কংগ্রেসের দুই কক্ষে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতা বহাল থাকবে। ট্রাম্প প্রশাসন নির্বাহী আদেশ ও বিদ্যমান আইনের আওতায় বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে। আবার কংগ্রেসে পাস হওয়া কোনো বিলে প্রেসিডেন্ট ভেটো দিতে পারেন। সেই ভেটো অতিক্রম করতে উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন। ফলে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা না হলে গুরুত্বপূর্ণ আইন পাসে অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে।
এদিকে নির্বাচনের পর বিচার বিভাগের নাগরিক অধিকার বিভাগের প্রধান হারমিত ধিলন পদত্যাগ করেছেন বলে গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ট্রাম্প প্রশাসনের কোনো উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তার পদত্যাগের ঘটনা হিসেবে বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। নতুন কংগ্রেস প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রমে নজরদারি বাড়াতে পারে—এমন পরিস্থিতির মধ্যেই এ পদত্যাগের খবর আসে।
২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন এনেছে। ট্রাম্প প্রশাসনকে এখন এমন এক কংগ্রেসের সঙ্গে কাজ করতে হবে, যেখানে উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ বিরোধী দলের হাতে। অভিবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনীতি, সরকারি ব্যয় ও প্রশাসনিক জবাবদিহি—এসব বিষয়ে আগামী দুই বছর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নির্বাচনে হারার ভয়ে ইসরায়েলে আশ্রয় নেওয়ার কথা বলে মজা করেন ট্রাম্পের দুই উপদেষ্টা

মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে, চাপে ট্রাম্প প্রশাসন

কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের ঐতিহাসিক উত্থান, রিপাবলিকানদের পরাজয়ে মাইক জনসনের নেতৃত্ব ছাড়ার ঘোষণা







মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।