সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
১০ সেকেন্ডের ভিডিওতে মিলল নয় বছর নিখোঁজ ছেলের খোঁজ, বাড়ি ফিরেও মাকে পেলেন না তিনিট্রাম্পের বিরুদ্ধে ভোটের রায়, কংগ্রেসের দুই কক্ষই ডেমোক্র্যাটদের দখলেকলেজে শিশু পরিচর্যার অনুদান কমায় বিপাকে যুক্তরাষ্ট্রের বহু নিম্ন আয়ের শিক্ষার্থী-অভিভাবকব্রুকলিনে ভয়াবহ আগুনে প্রাণ গেল ৬ জনের, আহত ৯; তদন্তে দমকল বিভাগযুক্তরাষ্ট্রে থেকেই গ্রিন কার্ড পাওয়া কঠিন হচ্ছে, নতুন নিয়মে বাড়ছে কড়াকড়ি

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি বাড়লেও নিয়োগের ধীরগতিতে কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা বাড়ছে দিন দিন

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির সুযোগ থাকলেও নিয়োগের গতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। নতুন কর্মী নিয়োগে সতর্কতা, মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে অনিশ্চয়তা।

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি বাড়লেও নিয়োগের ধীরগতিতে কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা বাড়ছে দিন দিন
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি বাড়লেও নিয়োগের ধীরগতিতে কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা বাড়ছে দিন দিন

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে একদিকে নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে নিয়োগের ধীরগতি ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা চাকরিপ্রার্থীদের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বিভিন্ন খাতে কর্মীর চাহিদা থাকলেও সব খাতে সমানভাবে কর্মসংস্থান বাড়ছে না। ফলে দেশটির চাকরির বাজারে এখন এক ধরনের বিপরীত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কোথাও নতুন কর্মী নেওয়া হচ্ছে, আবার কোথাও প্রতিষ্ঠানগুলো স্থায়ী নিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর সেপ্টেম্বর মাসের কর্মসংস্থান প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশটিতে ওই মাসে মোট বেসরকারি ও সরকারি খাত মিলিয়ে মাত্র ২৯ হাজার নতুন চাকরি যুক্ত হয়েছে। আগস্ট মাসে সংশোধিত হিসাবে এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৩ হাজার। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

একই প্রতিবেদনে দেখা যায়, সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বেকারত্বের হার ছিল ৪ দশমিক ২ শতাংশ। আগের মাসের তুলনায় এই হার সামান্য বেড়েছে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতি কমে যাওয়া এবং বেকারত্বের হার প্রত্যাশিতভাবে না কমায় দেশটির অর্থনীতিবিদদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর ৩ নভেম্বর প্রকাশিত সেপ্টেম্বর মাসের চাকরির শূন্যপদসংক্রান্ত প্রতিবেদনে কিছুটা ইতিবাচক চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শেষ কর্মদিবসে দেশটিতে প্রায় ৭৫ লাখ চাকরির পদ খালি ছিল। আগস্ট মাসে সংশোধিত হিসাবে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৭২ লাখ। অর্থাৎ এক মাসে চাকরির শূন্যপদ বেড়েছে।

একই সময়ে নিয়োগের সংখ্যা ছিল প্রায় ৫৪ লাখ এবং চাকরি ছেড়ে দেওয়া, ছাঁটাইসহ বিভিন্ন কারণে কর্মী হারানোর সংখ্যা ছিল প্রায় ৫৩ লাখ। এর মধ্যে প্রতিষ্ঠান থেকে ছাঁটাই ও চাকরিচ্যুতির সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬ লাখে। এতে বোঝা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাপক হারে কর্মী ছাঁটাই করছে না। তবে নতুন কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রেও আগের মতো আগ্রহ দেখাচ্ছে না।

চাকরির বাজারের এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি চাপে রয়েছেন নতুন চাকরিপ্রার্থী, সদ্য স্নাতক এবং দীর্ঘদিন ধরে কাজ খুঁজছেন এমন মানুষ। কারণ চাকরির বিজ্ঞপ্তি থাকলেও অনেক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগপ্রক্রিয়া দীর্ঘ হচ্ছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান একাধিক ধাপে সাক্ষাৎকার নিচ্ছে, আবার কিছু প্রতিষ্ঠান নিয়োগের সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছে।

বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি, আর্থিক সেবা, পেশাগত পরামর্শ এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক খাতে কর্মসংস্থানের গতি নিয়ে আলোচনা রয়েছে। অন্যদিকে স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ এবং কিছু উৎপাদনমুখী খাতে কর্মীর চাহিদা এখনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সেপ্টেম্বর মাসে স্বাস্থ্যসেবা খাতে ১৭ হাজার নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। তবে আগের সময়ের তুলনায় এই খাতেও নিয়োগের গতি কমেছে।

শ্রমবাজারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলো বেকারত্ব ভাতার আবেদন। ৫ নভেম্বর প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৩১ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে প্রথমবার বেকারত্ব ভাতার জন্য আবেদন করেছেন প্রায় ১ লাখ ৮৯ হাজার মানুষ। আগের সপ্তাহের তুলনায় এই সংখ্যা ৬ হাজার কম। ১৯৬৯ সালের পর এটি অন্যতম সর্বনিম্ন পর্যায়ের আবেদনসংখ্যা।

এই তথ্য কর্মী ছাঁটাই কম থাকার ইঙ্গিত দিলেও চাকরিপ্রার্থীদের জন্য পরিস্থিতি যে সহজ, তা বলা যাচ্ছে না। কারণ চাকরি হারানোর সংখ্যা কম থাকলেও নতুন চাকরি পাওয়ার সুযোগ অনেক ক্ষেত্রে সীমিত। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন বেকার রয়েছেন, তাদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানে প্রবেশ করা কঠিন হয়ে উঠছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অক্টোবর মাসে ৪৩ হাজার ৯৯৪টি চাকরি ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। আগের বছরের একই মাসের তুলনায় এই সংখ্যা অনেক কম। তবে একই সময়ে প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় ৪ লাখ ৪৪ হাজার ৬৯২ জন কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। এই নিয়োগের বড় অংশই ছুটির মৌসুমকে কেন্দ্র করে অস্থায়ী কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে এসব পদকে স্থায়ী কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতিও কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা বাড়ানোর অন্যতম কারণ। খাদ্য, জ্বালানি, বাসস্থান এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় বাড়লে সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় কমে যায়। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসায়িক ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়। নতুন কর্মী নিয়োগ, বেতন বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থান তৈরির ক্ষেত্রে তারা সতর্ক সিদ্ধান্ত নেয়।

এদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারও শ্রমবাজারে নতুন পরিবর্তন আনছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করছে, যার মাধ্যমে আগের তুলনায় কম কর্মী দিয়ে বেশি কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব। এতে উৎপাদনশীলতা বাড়লেও কিছু পেশায় নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। তবে প্রযুক্তির কারণে সব খাতেই চাকরি কমছে, এমন কোনো নিশ্চিত প্রমাণ নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে অভিবাসননীতির পরিবর্তনও শ্রমবাজারের ওপর প্রভাব ফেলছে। বিদেশি কর্মীদের প্রবেশ ও কর্মসংস্থানের নিয়মে পরিবর্তন এলে কৃষি, নির্মাণ, আতিথেয়তা এবং বিভিন্ন সেবামূলক খাতে কর্মী সরবরাহে প্রভাব পড়তে পারে। এসব খাতে বিদেশি কর্মীদের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় শ্রমবাজারের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থানের এই পরিস্থিতি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে অনেক মানুষ উচ্চশিক্ষা, পেশাগত দক্ষতা এবং কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার চেষ্টা করেন। দেশটিতে নিয়োগের গতি কমে গেলে নতুন বিদেশি কর্মীদের জন্য প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে। বিশেষ করে অভিজ্ঞতা ও প্রয়োজনীয় দক্ষতা ছাড়া চাকরি পাওয়া কঠিন হতে পারে।

তবে স্বাস্থ্যসেবা, প্রকৌশল, নির্মাণ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং দক্ষ কারিগরি পেশায় যোগ্য কর্মীদের জন্য সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। বরং নিয়োগদাতারা এখন প্রয়োজনীয় দক্ষতা, কাজের অভিজ্ঞতা এবং পেশাগত যোগ্যতাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। বিদেশি চাকরিপ্রার্থীদের ক্ষেত্রে বৈধ কাজের অনুমতি ও উপযুক্ত ভিসা পাওয়ার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে বর্তমানে চাকরির সুযোগ এবং নিয়োগের অনিশ্চয়তা পাশাপাশি অবস্থান করছে। শূন্যপদ বৃদ্ধি, কম ছাঁটাই এবং বেকারত্ব ভাতার আবেদন কমে আসা ইতিবাচক সংকেত দিলেও নতুন নিয়োগের ধীরগতি উদ্বেগ তৈরি করছে। আগামী কয়েক মাসে চাকরির সংখ্যা, বেতন বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়োগ পরিকল্পনা নির্ধারণ করবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থানের প্রকৃত চিত্র কোন দিকে এগোবে।


ট্যাগ: যুক্তরাষ্ট্রের চাকরিমার্কিন শ্রমবাজারকর্মসংস্থানবেকারত্বচাকরির বাজারবিদেশে চাকরিবাংলাদেশি প্রবাসীযুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিচাকরির সুযোগআন্তর্জাতিক সংবাদ

প্রতিবেদক

CSB News USA

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।