সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
১০ সেকেন্ডের ভিডিওতে মিলল নয় বছর নিখোঁজ ছেলের খোঁজ, বাড়ি ফিরেও মাকে পেলেন না তিনিট্রাম্পের বিরুদ্ধে ভোটের রায়, কংগ্রেসের দুই কক্ষই ডেমোক্র্যাটদের দখলেকলেজে শিশু পরিচর্যার অনুদান কমায় বিপাকে যুক্তরাষ্ট্রের বহু নিম্ন আয়ের শিক্ষার্থী-অভিভাবকব্রুকলিনে ভয়াবহ আগুনে প্রাণ গেল ৬ জনের, আহত ৯; তদন্তে দমকল বিভাগযুক্তরাষ্ট্রে থেকেই গ্রিন কার্ড পাওয়া কঠিন হচ্ছে, নতুন নিয়মে বাড়ছে কড়াকড়ি

১০ সেকেন্ডের ভিডিওতে মিলল নয় বছর নিখোঁজ ছেলের খোঁজ, বাড়ি ফিরেও মাকে পেলেন না তিনি

নয় বছর ধরে নিখোঁজ ছেলেকে খুঁজছিল একটি পরিবার। হঠাৎ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মাত্র ১০ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে পরিচিত হাসি দেখে তাঁকে চিনে ফেলেন স্বজনেরা। অবশেষে বাড়ি ফিরলেন ছেলে, কিন্তু অপেক্ষায় থাকা মা মারা গেছেন তিন বছর আগেই। আনন্দের পুনর্মিলন পরিণত হলো কান্নায়।

দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ ছেলে ইয়াসিন শেখ।
দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ ছেলে ইয়াসিন শেখ।

ভারতের ঝাড়খণ্ডের এক পরিবারের কাছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মাত্র ১০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও হয়ে উঠল দীর্ঘ নয় বছরের অপেক্ষার অবসানের কারণ। ভিডিওতে জাতীয় পতাকা হাতে হাসিমুখে হাঁটছিলেন এক ব্যক্তি। তাঁর পরিচিত হাসি দেখে স্বজনদের সন্দেহ হয়, এই মানুষটিই তাঁদের দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ ছেলে ইয়াসিন শেখ। পরে পরিচয় যাচাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়, তাঁদের ধারণাই ঠিক ছিল। তবে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ছেলেকে ফিরে পেলেও তাঁকে আর জীবিত অবস্থায় দেখতে পারেননি তাঁর মা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার ৬ নভেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়াসিন শেখ ঝাড়খণ্ডের সাহিবগঞ্জ জেলার নারায়ণপুর এলাকার বাসিন্দা। ২০১৭ সালে তাঁর বয়স ছিল ২৬ বছর। বন্ধুদের সঙ্গে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তিনি আর ফিরে আসেননি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেন এবং নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগও জানান। কিন্তু দীর্ঘদিন তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

একই সময়ে ভারতের কেরালা রাজ্যের কোঝিকোড় জেলার চেরুভাদি এলাকায় এক তরুণকে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরতে দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি পুলিশকে জানান। পরে তাঁকে জেলা শিশু কল্যাণ কমিটির কাছে নেওয়া হয়। নিজের পরিচয়, বাড়ির ঠিকানা কিংবা পরিবারের বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য দিতে না পারায় তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। বয়সের তুলনায় তাঁকে কমবয়সী মনে হওয়ায় প্রথমে একটি শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়েছিল। সেখানে তিনি ‘রশিদ’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন।

এভাবেই কেরালার একটি পরিচর্যা কেন্দ্রে কয়েক বছর কেটে যায় তাঁর। অন্যদিকে ঝাড়খণ্ডে পরিবারটি ছেলের অপেক্ষা ছাড়েনি। সময় গড়িয়েছে, কিন্তু ইয়াসিনের কোনো সন্ধান মেলেনি।

ঘটনার মোড় ঘুরে যায় ২০২৬ সালের ১৫ আগস্ট ভারতের স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপনের সময়। কেরালার কারুণ্যতীর্থম ক্যাম্পাসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট নির্মাতা পেভুন্ডারা ইয়াসির উপস্থিত ছিলেন। তিনি সেখানে থাকা কয়েকজনের একটি ছোট ভিডিও ধারণ করেন। ভিডিওতে রশিদকে জাতীয় পতাকা হাতে অন্যদের সঙ্গে হাঁটতে এবং ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে হাসতে দেখা যায়।

ভিডিওটি ‘বিলাইকইয়াসির’ নামের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা হয়। মাত্র ১০ সেকেন্ডের সেই ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে ১০ লাখের বেশি দর্শক তা দেখেন।

ভিডিওটি দেখতে গিয়ে ইয়াসিনের এক চাচাতো ভাই তাঁর পরিচিত হাসি ও চেহারা দেখে সন্দেহ করেন, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিই হয়তো তাঁদের হারিয়ে যাওয়া স্বজন। এরপর তিনি পরিবারের অন্য সদস্যদের বিষয়টি জানান। পরিবার যোগাযোগ করে কেরালার পরিচর্যা কেন্দ্রের সঙ্গে।

তবে শুধু ভিডিও দেখে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে ইয়াসিনের আধার কার্ডসহ পরিচয়সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সরবরাহ করা হয়। পরিচর্যা কেন্দ্রের কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তায় এসব তথ্য যাচাই করেন। যাচাই শেষে নিশ্চিত হওয়া যায়, রশিদ নামে পরিচিত ওই ব্যক্তিই ঝাড়খণ্ডের নিখোঁজ ইয়াসিন শেখ।

এরপর ভিডিও কলে বাবার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয় ইয়াসিনের। ভাইবোনদের সঙ্গেও যোগাযোগ হয় তাঁর। ছোট ভাই আজুল শেখ তাঁকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিতে কেরালায় যান। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে সেপ্টেম্বর মাসে ইয়াসিন ফিরে আসেন ঝাড়খণ্ডের সাহিবগঞ্জে নিজের পরিবারের কাছে।

কিন্তু নয় বছর পর ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আনন্দের সঙ্গে মিশে যায় গভীর বেদনা। ইয়াসিনের মা নূরফুল দিদি ২০২৩ সালে মারা যান। দীর্ঘদিন ছেলের অপেক্ষায় থাকা মা তাঁর ফিরে আসা দেখে যেতে পারেননি। পরিচর্যা কেন্দ্রে থাকার সময়ও ইয়াসিন মায়ের কথা স্মরণ করতেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিবারের জন্য এটি একদিকে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান, অন্যদিকে প্রিয়জনকে হারানোর কষ্ট। যে মা ছেলের ফিরে আসার আশায় দিন কাটিয়েছেন, সেই মা আর নেই। ছেলেকে ফিরে পাওয়ার খবরটি তাই পরিবারের কাছে একই সঙ্গে আনন্দ ও বেদনার স্মৃতি হয়ে থাকবে।

এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি ছোট ভিডিওর অসাধারণ ভূমিকা তুলে ধরেছে। লাখো মানুষের কাছে ভিডিওটি ছিল সাধারণ একটি দৃশ্য, কিন্তু একটি পরিবারের কাছে সেটিই হয়ে ওঠে হারিয়ে যাওয়া সন্তানকে ফিরে পাওয়ার সূত্র। একই সঙ্গে ঘটনাটি পরিচয়হীন ও যোগাযোগে অক্ষম মানুষের পরিচয় শনাক্ত করতে পরিচর্যা কেন্দ্র, প্রশাসন এবং পরিবারের মধ্যে সমন্বয়ের গুরুত্বও সামনে এনেছে।

ট্যাগ: নিখোঁজ ব্যক্তিনয় বছর পর পরিবারের কাছে ফেরাইয়াসিন শেখঝাড়খণ্ডকেরালাভাইরাল ভিডিওআবেগঘন ঘটনাসামাজিক যোগাযোগমাধ্যম

প্রতিবেদক

CSB News USA

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।