সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
১০ সেকেন্ডের ভিডিওতে মিলল নয় বছর নিখোঁজ ছেলের খোঁজ, বাড়ি ফিরেও মাকে পেলেন না তিনিট্রাম্পের বিরুদ্ধে ভোটের রায়, কংগ্রেসের দুই কক্ষই ডেমোক্র্যাটদের দখলেকলেজে শিশু পরিচর্যার অনুদান কমায় বিপাকে যুক্তরাষ্ট্রের বহু নিম্ন আয়ের শিক্ষার্থী-অভিভাবকব্রুকলিনে ভয়াবহ আগুনে প্রাণ গেল ৬ জনের, আহত ৯; তদন্তে দমকল বিভাগযুক্তরাষ্ট্রে থেকেই গ্রিন কার্ড পাওয়া কঠিন হচ্ছে, নতুন নিয়মে বাড়ছে কড়াকড়ি

পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন কমলেও আশুলিয়ায় এখনো বন্ধ রয়েছে বহু কারখানা

আন্দোলন কিছুটা শান্ত হলেও আশুলিয়ায় এখনো বহু পোশাক কারখানা বন্ধ, মজুরি বৃদ্ধির দাবি ঘিরে উৎপাদন ও রপ্তানি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।

পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন কমলেও আশুলিয়ায় এখনো বন্ধ রয়েছে বহু কারখানা
পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন কমলেও আশুলিয়ায় এখনো বন্ধ রয়েছে বহু কারখানা

আশুলিয়া ও সাভারের শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন কিছুটা কমে এলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। বেতন বৃদ্ধির দাবিতে টানা কয়েক দিনের বিক্ষোভ, কর্মবিরতি ও কারখানা বন্ধের ঘটনায় দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ৬ নভেম্বর প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্যান্য শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকেরা কাজে ফিরতে শুরু করলেও আশুলিয়ার বেশ কিছু কারখানায় এখনো অস্থিরতা বিরাজ করছে।

শ্রমিকদের প্রধান দাবি, মাসিক ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করা। তাঁদের বক্তব্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য, বাড়িভাড়া, যাতায়াত ও চিকিৎসা ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান মজুরিতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছেন তাঁরা।

গত কয়েক দিনের আন্দোলনের মধ্যে আশুলিয়া, সাভার, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। কোথাও শ্রমিকেরা কারখানার ভেতরে কর্মবিরতি পালন করেন, আবার কোথাও সড়কে নেমে বিক্ষোভ ও অবরোধ করেন। কয়েকটি স্থানে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।

গত ২ নভেম্বর সাভার ও আশুলিয়ার ২৬৪টি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা অথবা উৎপাদন বন্ধ রাখার তথ্য প্রকাশ করে দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার। ওই দিন বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, ভাঙচুর এবং যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে।

পরবর্তী সময়ে ৫ নভেম্বরও আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে শ্রমিক বিক্ষোভ দেখা যায়। শ্রমিকেরা কয়েকটি কারখানায় হাজিরা দেওয়ার পর কর্মস্থল থেকে বেরিয়ে আসেন। অন্য কারখানার শ্রমিকদেরও আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এতে আশপাশের একাধিক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।

৬ নভেম্বর প্রকাশিত ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫ নভেম্বরের পরিস্থিতির তুলনায় ৬ নভেম্বর দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে আশুলিয়ায় বিক্ষিপ্ত বিক্ষোভের কারণে ৭০টি কারখানায় কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়েছে। আশুলিয়া শিল্প পুলিশের দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে এ সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকার শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের জন্য নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। বোর্ডের মাধ্যমে নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সংশোধিত মজুরি কাঠামো ডিসেম্বর থেকে কার্যকর করার কথা রয়েছে। তবে শ্রমিকদের জন্য নতুন ন্যূনতম মজুরি কত হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি।

এই অনিশ্চয়তাই শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষের অন্যতম কারণ হয়ে রয়েছে। অনেক শ্রমিক মনে করছেন, মজুরি বোর্ড গঠন করা হলেও তাঁদের প্রত্যাশিত বেতন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না।

শ্রমিকদের পাশাপাশি মালিকপক্ষও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাঁদের আশঙ্কা, কয়েক দিন উৎপাদন বন্ধ থাকলে নির্ধারিত সময়ে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে পণ্য পাঠানো কঠিন হয়ে পড়বে। বিশেষ করে ডিসেম্বরের বড়দিন উপলক্ষে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক সরবরাহের জন্য এই সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প দেশের রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। এ খাতে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করেন। তাঁদের বড় একটি অংশ নারী। ফলে কারখানায় দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকলে শুধু মালিকপক্ষ নয়, শ্রমিকদের আয় ও পরিবারের জীবনযাত্রার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু মনে করেন, শ্রমিকদের সঙ্গে মালিকপক্ষের নিয়মিত আলোচনা এবং কার্যকর শ্রমিক সংগঠনের ভূমিকা থাকলে পরিস্থিতি এতটা জটিল হওয়ার আগেই সমাধান করা সম্ভব হতো। তাঁর মতে, শ্রমিকদের মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দেওয়া জরুরি।

তিনি আরও মনে করেন, শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শ্রমিকদের মধ্যে ভয় বা আতঙ্ক থাকলে তাঁদের কাজে ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে। তাই অভিযোগ ও অসন্তোষ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।

অন্যদিকে, পোশাক কারখানার উদ্যোক্তাদের মতে, উৎপাদন বন্ধ থাকলে সময়মতো পণ্য সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ে। বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পণ্য পাঠাতে হয়। নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ করতে না পারলে ক্রেতাদের আস্থা কমতে পারে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে ক্রয়াদেশ বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

শ্রমিকদের আরেকটি অভিযোগ হলো, তাঁদের দাবি যথাযথভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। শুধু বেতন বৃদ্ধি নয়, চাকরির নিরাপত্তা, কালো তালিকাভুক্ত করার চর্চা বন্ধ, কর্মপরিবেশ উন্নয়ন এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।

শ্রমিকদের দাবি ও মালিকদের উদ্বেগের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করাই এখন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। একদিকে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে হবে, অন্যদিকে শিল্পের উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখতে হবে।

বিশেষজ্ঞ ও শ্রমিক নেতাদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে দেশের পোশাকশিল্পের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই শ্রমিক প্রতিনিধি, মালিকপক্ষ এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মধ্যে দ্রুত কার্যকর আলোচনা প্রয়োজন।

আশুলিয়ার পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির দিকে গেলেও শ্রমিকদের মজুরি নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। নতুন মজুরি কাঠামোর চূড়ান্ত ঘোষণা, শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কারখানায় স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনের পরিস্থিতি। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি পূরণ এবং শিল্পের উৎপাদন সচল রাখার মধ্যে সমন্বয় করা না গেলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই রপ্তানি খাত আরও চাপের মুখে পড়তে পারে।


ট্যাগ: পোশাকশ্রমিকদেরআন্দোলনকমলেওআশুলিয়ায়এখনোবন্ধ

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।