ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সেনা রাখতে দেশটির সঙ্গে চুক্তি করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র
ভেনেজুয়েলায় দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন সেনা মোতায়েনের সুযোগ তৈরি করতে দেশটির সরকারের সঙ্গে সামরিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন।
ভেনেজুয়েলায় দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন সেনা মোতায়েনের সুযোগ তৈরি করতে দেশটির সরকারের সঙ্গে সামরিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে বলে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। দুই দেশের মধ্যে সেনাদের অবস্থান ও কার্যক্রম পরিচালনা-সংক্রান্ত একটি চুক্তির বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এ ধরনের চুক্তির মাধ্যমে কোনো দেশে অবস্থানরত বিদেশি সেনাদের আইনি অবস্থান, দায়িত্ব এবং কার্যক্রম পরিচালনার নিয়ম নির্ধারণ করা হয়।
প্রস্তাবিত চুক্তি কার্যকর হলে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক সদস্যদের অবস্থান ও বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার আইনি ভিত্তি তৈরি হতে পারে। এর আওতায় সামরিক জাহাজের যাতায়াত, সেনাদের প্রশিক্ষণ, যৌথ সামরিক মহড়া এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে কতজন মার্কিন সেনা সেখানে অবস্থান করবেন, কোথায় থাকবেন এবং কত দিন থাকবেন, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
এদিকে, ভেনেজুয়েলায় নতুন করে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। তবে নতুন সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের বিষয়টি বর্তমানে আলোচনায় নেই।
এই আলোচনার পেছনে রয়েছে দুই দেশের সম্পর্কের সাম্প্রতিক বড় পরিবর্তন। চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালিয়ে দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যায়। ওই অভিযান দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন নিয়ে আসে।
এরপর ভেনেজুয়েলার তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির উপকূল ক্যারিবীয় সাগরের সঙ্গে যুক্ত। এ ছাড়া কলম্বিয়া, ব্রাজিল ও গায়ানার সঙ্গে দেশটির সীমান্ত রয়েছে। ফলে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা এবং সামরিক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে ভেনেজুয়েলার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
তবে দেশটিতে দীর্ঘমেয়াদি মার্কিন সেনা উপস্থিতির বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করতে পারে। ভেনেজুয়েলার অনেক মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দেশটিতে বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে আসছেন। বিশেষ করে মাদুরোকে আটক করার সামরিক অভিযানের পর মার্কিন সেনাদের দীর্ঘদিন অবস্থানের সম্ভাবনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিতে পারে।
এখন পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য সামরিক চুক্তির চূড়ান্ত রূপ, সেনা মোতায়েনের স্থান কিংবা সময়সীমা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। ফলে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক উপস্থিতি বাস্তবে কতটা বিস্তৃত হবে, তা নির্ভর করছে চলমান আলোচনার ফলাফলের ওপর।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।