সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
মুক্তির মাত্র তিন মিনিটের মাথায় আবার অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হাতে গ্রেপ্তার নিকারাগুয়ার অভিবাসিস্প্যাংলের গুলিতে তিনজন নিহত, প্রাণসংকটে দুই পুলিশ সদস্য, আহত আরও একজনহরমুজ প্রণালীতে কাতারসহ ৪ দেশের জাহাজকে ছাড় দিল ইরানযুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর নির্বাচিত আবদুল এল-সাইয়েদ, মিশিগানে জয়সীমান্ত নিরাপত্তায় প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার কোনো বিকল্প নেই:স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

হরমুজ প্রণালীতে কাতারসহ ৪ দেশের জাহাজকে ছাড় দিল ইরান

হরমুজ প্রণালীতে কাতার, ভারত, চীন ও ইরাকের জাহাজ চলাচলে বিশেষ ছাড় দিয়েছে ইরান। তবে পথটি এখনো সবার জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত নয়।

হরমুজ প্রণালীতে কাতারসহ ৪ দেশের জাহাজকে ছাড় দিল ইরান
হরমুজ প্রণালীতে কাতারসহ ৪ দেশের জাহাজকে ছাড় দিল ইরান

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই চারটি দেশের বাণিজ্যিক জাহাজকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। দেশগুলো হলো কাতার, ভারত, চীন ও ইরাক। ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতার বক্তব্য অনুযায়ী, এসব দেশের জাহাজকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধিনিষেধ থেকে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে কাতার, ভারত, চীন ও ইরাকের জাহাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ ব্যবহার তুলনামূলক সহজ হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে হরমুজ প্রণালী সব দেশের জাহাজের জন্য সম্পূর্ণ খুলে দেওয়া হয়েছে। বরং নির্দিষ্ট চারটি দেশের জাহাজকে বিশেষ সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরানিয়ান স্টুডেন্টস নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিষয়টি জানান দেশটির পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির উপপ্রধান আমির হায়াত মোঘাদ্দাম। তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সিও তাঁর বক্তব্যের ভিত্তিতে এ খবর প্রকাশ করেছে।
ইরানি এই আইনপ্রণেতা জানান, ভারত, চীন, ইরাক ও কাতারের জাহাজকে বর্তমানে হরমুজ প্রণালীতে চলাচলের বিধিনিষেধ থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, এসব দেশের জাহাজ চলাচলের সময় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও বাধা দেওয়া হচ্ছে না।
তবে এই বক্তব্য ইরানের একজন আইনপ্রণেতার দেওয়া তথ্য। চার দেশের জন্য ছাড়ের বিষয়টি বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হচ্ছে, কত দিন পর্যন্ত এই সুবিধা থাকবে এবং প্রতিটি দেশের জাহাজের জন্য কী ধরনের শর্ত প্রযোজ্য হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা এখনো প্রকাশিত হয়নি। ফলে ঘোষণাটিকে সব ধরনের বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
ইরানের এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে দেশটির নিজস্ব অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক স্বার্থ। বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে ওষুধ আমদানি, চীনের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক এবং কাতারের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আমির হায়াত মোঘাদ্দাম জানিয়েছেন, ভারতীয় জাহাজ চলাচলের সুযোগ সহজ করার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো ভারত থেকে ইরানে ওষুধ আমদানির পথ সুগম করা। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও চলমান সংঘাতের কারণে ইরানের আমদানি কার্যক্রম নানা ধরনের সমস্যার মুখে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভারত থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী আনার সুযোগ বজায় রাখা তেহরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে চীনের জাহাজকে চলাচলের সুযোগ দেওয়ার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই আইনপ্রণেতা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, চীনের জাহাজ চলাচলে সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে বেইজিংয়ের রাজনৈতিক সমর্থন ধরে রাখতে চায় ইরান।
চীন ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক অংশীদার। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, জ্বালানি ও কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যে চীনের সমর্থন ইরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিরোধ এবং আন্তর্জাতিক চাপের সময়ে বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখা তেহরানের কৌশলগত স্বার্থের অংশ।
চার দেশের মধ্যে কাতারের অবস্থান কিছুটা আলাদা। ইরানি আইনপ্রণেতার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কাতারের জাহাজ হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের জন্য কোনো ট্রানজিট ফি বা পারাপার মাশুল দিতে হবে না। অর্থাৎ কাতারের জাহাজ বিনা মাশুলে এই সমুদ্রপথ ব্যবহার করতে পারবে।
অন্যদিকে ভারত ও চীনের জাহাজকে চলাচলের সুযোগ দেওয়া হলেও তাদের কাছ থেকে পারাপার মাশুল নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে ইরাকের জাহাজের ক্ষেত্রে কোনো মাশুল নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি পরিষ্কার করে কিছু জানাননি।
এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ চারটি দেশকে বিধিনিষেধ থেকে ছাড় দেওয়া হলেও সবার জন্য একই ধরনের আর্থিক সুবিধা ঘোষণা করা হয়নি। বিশেষ করে কাতারের জাহাজের জন্য বিনা মাশুলে চলাচলের বিষয়টি আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালী কেন এত গুরুত্বপূর্ণ, তা বুঝতে হলে এর ভৌগোলিক অবস্থান সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। ইরান ও ওমানের মাঝখানে অবস্থিত এই সরু সমুদ্রপথ পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। সৌদি আরব, ইরাক, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোর জ্বালানি রপ্তানির জন্য এই পথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী দিয়ে স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট ব্যবহৃত জ্বালানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হয়। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল, তরল প্রাকৃতিক গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানিপণ্যবাহী জাহাজ এই পথ ব্যবহার করে। ফলে এখানে সামান্য অস্থিরতা তৈরি হলেও তার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, এশিয়া, ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের বাজারে ছড়িয়ে পড়ে।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার পর ইরানকে ঘিরে সংঘাত আরও জটিল হয়ে ওঠে। এরপর পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ, সমুদ্রপথে নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের বিরোধের কারণে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হতে থাকে।
ইরান সমুদ্রপথে চলাচলের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। বিভিন্ন দেশের জাহাজের পরিচয়, পণ্য ও গন্তব্য সম্পর্কে তথ্য যাচাই এবং চলাচলের অনুমতি নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরগুলোকে ঘিরে নৌ অবরোধ কার্যক্রম চালিয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার তথ্যের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাত শুরুর পর ফেব্রুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাণিজ্যিক জাহাজে অন্তত ৭০টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় নাবিকদের প্রাণহানিও হয়েছে।
ভারতের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশটি বিপুল পরিমাণ জ্বালানি বিদেশ থেকে আমদানি করে। ভারতের মোট অপরিশোধিত তেলের চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। এর মধ্যে বর্তমানে প্রায় ৩০ শতাংশ তেল হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে শুধু অপরিশোধিত তেল নয়, রান্নার গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রেও এই সমুদ্রপথ ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস আমদানির প্রায় ৯০ শতাংশ এবং কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসা তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের অর্ধেকের বেশি এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয় বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এ কারণে ভারতীয় জাহাজের জন্য ইরানের বিশেষ ছাড় দেশটির জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে এই ছাড়ের ফলে ভারতের সব জ্বালানি আমদানি স্বাভাবিক হয়ে যাবে, এমন নিশ্চয়তা এখনো নেই। জাহাজের নিরাপত্তা, বীমা, সমুদ্রপথের পরিস্থিতি এবং অন্যান্য দেশের সামরিক তৎপরতার ওপরও সরবরাহ নির্ভর করবে।
কাতারের জন্যও হরমুজ প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের অন্যতম বড় প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে কাতারের জ্বালানি পরিবহনের বড় অংশ এই সমুদ্রপথের ওপর নির্ভরশীল। কাতারের জাহাজকে বিনা মাশুলে চলাচলের সুযোগ দেওয়ার বক্তব্য দুই দেশের মধ্যে বিশেষ সমঝোতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
কাতার দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাতে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করে আসছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টাতেও দেশটির ভূমিকা রয়েছে। এ অবস্থায় কাতারের জাহাজকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে এই ছাড়ের বিনিময়ে কাতার ইরানকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বা সামরিক সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে—এমন তথ্য প্রকাশিত হয়নি।

ইরাকের ক্ষেত্রেও এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির অর্থনীতি তেল রপ্তানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের বন্দরগুলো দিয়ে তেল পরিবহনের ক্ষেত্রে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ইরাকি জাহাজকে চলাচলের ছাড় দেওয়া হলে দেশটির বাণিজ্যিক কার্যক্রমে কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে। তবে ইরাকের জন্য ছাড়ের সুনির্দিষ্ট শর্ত এবং পারাপার মাশুলের বিষয়টি এখনো পরিষ্কার নয়।
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের বিষয়টিও আলোচনায় আসছে। কারণ বাংলাদেশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি আমদানি করে। বিশেষ করে কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের জ্বালানি ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে দীর্ঘদিন অস্থিরতা থাকলে জ্বালানি পরিবহন ব্যয়, জাহাজের ভাড়া, বীমার খরচ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশের জন্য চার দেশের বিশেষ ছাড়ের ঘোষণাটি সরাসরি কোনো সুবিধা নিশ্চিত করছে না। কারণ বাংলাদেশ এই তালিকায় নেই। বাংলাদেশের জাহাজও একই শর্তে চলাচল করতে পারবে কি না, সে বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি। তবে কাতারের জাহাজ চলাচল সহজ হলে কাতার থেকে জ্বালানি পরিবহনের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাস্তবে সেই সুবিধা কতটা কাজে আসবে, তা নির্ভর করবে সমুদ্রপথের নিরাপত্তা ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর।
হরমুজ প্রণালীতে নতুন এই সিদ্ধান্তের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ইরান দেশভেদে আলাদা নীতি অনুসরণ করছে। ভারতের ক্ষেত্রে ওষুধ আমদানির প্রয়োজন, চীনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সমর্থন এবং কাতারের ক্ষেত্রে বিনা মাশুলে চলাচলের সুযোগের কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ শুধু সামরিক বা নিরাপত্তার বিষয় নয়, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক স্বার্থও এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে জড়িত।
এদিকে ভারতসহ বিভিন্ন দেশ বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ করা এবং সব দেশের জন্য নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জোরালো হচ্ছে।
সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালীতে কাতার, ভারত, চীন ও ইরাকের জাহাজকে বিশেষ ছাড় দেওয়ার ঘোষণা ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে দেশটি একদিকে প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির পথ সচল রাখতে চাইছে, অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্কও ধরে রাখতে চাইছে। তবে এই সিদ্ধান্ত সংঘাতের অবসান ঘটাবে কি না, কিংবা অন্য দেশগুলোর জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বাণিজ্যিক নিরাপত্তার জন্য হরমুজ প্রণালীতে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত জরুরি। তাই ইরানের এই বিশেষ ছাড়ের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেও নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।


ট্যাগ: হরমুজ প্রণালীইরানকাতারভারতচীনইরাকমধ্যপ্রাচ্যজাহাজ চলাচলআন্তর্জাতিক বাণিজ্যজ্বালানি সংকটকাতার সংবাদবিশ্ব রাজনীতিসমুদ্রপথের নিরাপত্তা

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।