তেহরানে ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি দিয়ে বিশাল বিলবোর্ড স্থাপন,এ নিয়ে ইরানজুড়ে শুরু হয়েছে আলোচনা
ইরানের রাজধানী তেহরানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কারাগারে বন্দি দেখিয়ে বিশাল বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। এতে তাঁকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি হত্যার হুমকি দিয়ে বিশাল বিলবোর্ড স্থাপন করেছে ইরান। দেশটির রাজধানী তেহরানের ব্যস্ত এনকেলাব স্কয়ারে স্থাপন করা এই বিলবোর্ডে ট্রাম্পকে কারাগারের ভেতরে বন্দি অবস্থায় দেখানো হয়েছে। এর ওপরে লেখা রয়েছে, ‘আমরা ট্রাম্পকে হত্যা করব’। নতুন এই বিলবোর্ড ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আবারও আলোচনায় এসেছে।
বিলবোর্ডটিতে ট্রাম্পের মাথা নিচু করে রাখা এবং তাঁকে কারাগারের পেছনে বন্দি অবস্থায় দেখানো হয়েছে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ইরানের কঠোর রাজনৈতিক অবস্থান প্রকাশ করা হয়েছে।
শুধু ট্রাম্পকে নিয়েই নয়, তেহরানের অন্য একটি বড় প্রদর্শনীতেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করে ব্যঙ্গাত্মক ছবি ও বার্তা তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে ট্রাম্পের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে রক্তাক্ত মুখ ও ছেঁড়া পোশাকে দেখানো হয়েছে। পেছনে রয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পতাকার ছবি।
এদিকে এনকেলাব স্কয়ারে নতুন বিলবোর্ড ঘিরে অনেক মানুষ জড়ো হন। তাঁদের হাতে ছিল লাল পতাকা ও বিভিন্ন স্লোগান লেখা ব্যানার। কেউ কেউ ইরানের হয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার দাবি জানান। সেখানে ‘রক্ত ঝরবে’ অর্থের বার্তাও দেখা যায়।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত হওয়ার পর দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী প্রচার আরও জোরালো হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতের পর থেকে তেহরানের বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নানা ধরনের বিলবোর্ড, ছবি ও প্রদর্শনী দেখা যাচ্ছে।
ইরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় দেশটির বেসামরিক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একটি স্কুল ও বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলার অভিযোগও তুলেছে তেহরান। এসব ঘটনার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনকে দায়ী করছে ইরান। তবে এসব অভিযোগের প্রতিটি বিষয় স্বাধীনভাবে যাচাই করা জরুরি।
তেহরানের উত্তরাঞ্চলের তাজরিশ স্কয়ারেও ট্রাম্পকে নিয়ে ব্যতিক্রমী প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে একটি নকল কারাগার তৈরি করা হয়েছে। এর ভেতরে ট্রাম্পের মতো দেখতে পোশাক ও মুখোশ পরা একজন অভিনয়শিল্পীকে বন্দি অবস্থায় রাখা হয়েছে। দর্শনার্থীরা সেখানে ছবি তুলছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে নিয়ে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন।
ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এ ধরনের রাজনৈতিক বিলবোর্ড স্থাপনের ঘটনা নতুন নয়। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে দেশটির জনসমাগমপূর্ণ স্থানে রাজনৈতিক বার্তা, সামরিক সাফল্য এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী প্রচারণা তুলে ধরতে বড় বড় বিলবোর্ড ও ম্যুরাল ব্যবহার করা হয়ে আসছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনা শুরুর চেষ্টা চলছে। সংঘাত আবার ছড়িয়ে পড়লে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি দিয়ে তেহরানে নতুন বিলবোর্ড স্থাপনের ঘটনাটি দুই দেশের মধ্যকার বৈরী সম্পর্কের আরও একটি প্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এই বিলবোর্ডের বার্তা কোনো সামরিক হামলার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নয়; এটি ইরানের পক্ষ থেকে প্রকাশিত রাজনৈতিক ও প্রচারণামূলক বার্তা।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।