নিউইয়র্কে সন্তান লালন-পালনেই বছরে প্রায় ২০ হাজার ডলার! কঠিন সিদ্ধান্তে প্রবাসী পরিবার
যুক্তরাষ্ট্রে স্বপ্নের জীবন গড়তে এসে সন্তানদের যত্নের খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন বহু পরিবার। নিউইয়র্কে শিশুদের ডে-কেয়ার বাবদ মাসে গড়ে ১ হাজার ৬২১ ডলার ব্যয় করছেন অভিভাবকেরা। বিশেষ করে কর্মজীবী মা-বাবার জন্য এটি বড় আর্থিক চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে উন্নত জীবন, ভালো শিক্ষা ও নিরাপদ ভবিষ্যতের আশায় প্রতিবছর অসংখ্য অভিবাসী পরিবার নিউইয়র্কে বসবাস শুরু করেন। কিন্তু এখানে সন্তান লালন-পালনের বাস্তব খরচ অনেক পরিবারের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি। বিশেষ করে ছোট শিশুদের ডে-কেয়ার বা দেখাশোনার ব্যয় এখন কর্মজীবী মা-বাবার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
৩ নভেম্বর প্রকাশিত লে মঁদের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউইয়র্কে পূর্ণকালীন ডে-কেয়ারের খরচ বছরে গড়ে প্রায় ২১ হাজার ডলার হতে পারে। অভিজাত ও ব্যয়বহুল এলাকাগুলোতে এই খরচ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এর সঙ্গে স্কুল-পরবর্তী যত্ন, ছুটির দিনের কার্যক্রম, শিশুদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট খরচ যোগ হলে পরিবারের ব্যয় আরও বেড়ে যায়।
নিউইয়র্কের ২০২৬ সালের অভিভাবক জরিপেও উঠে এসেছে একই ধরনের চিত্র। রবিন হুড, নিউ আমেরিকা এবং এনওআরসি পরিচালিত জরিপ অনুযায়ী, যেসব পরিবার ছয় বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য নিজেদের পকেট থেকে ডে-কেয়ারের খরচ দেয়, তাদের মাসিক গড় ব্যয় ১ হাজার ৬২১ ডলার। অর্থাৎ বছরে প্রায় ১৯ হাজার ৪৫২ ডলার। জরিপে অংশ নেওয়া অভিভাবকদের প্রায় ৬০ শতাংশ শিশুদের যত্নের জন্য অর্থ ব্যয় করছেন।
শিশুর বয়স যত কম, খরচও তত বেশি। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, যেসব পরিবারের সবচেয়ে ছোট শিশুর বয়স এক বছরের কম, তাদের মাসিক গড় ব্যয় প্রায় ২ হাজার ৩৯৫ ডলার। অন্যদিকে সবচেয়ে ছোট শিশুর বয়স পাঁচ বছর হলে মাসিক ব্যয় গড়ে প্রায় ৮১৮ ডলার। অর্থাৎ শিশুর বয়স ও যত্নের ধরনের ওপর নির্ভর করে পরিবারের খরচে বড় পার্থক্য তৈরি হচ্ছে।
এই ব্যয়ের সবচেয়ে বড় চাপ পড়ছে কর্মজীবী মা-বাবার ওপর। অনেক পরিবারে দুজন অভিভাবকই কাজ করেন। সকালে সন্তানকে ডে-কেয়ারে রেখে কাজে যেতে হয়, আবার কাজ শেষে শিশুকে নিয়ে বাসায় ফিরতে হয়। যেসব পরিবারের আত্মীয়স্বজন কাছাকাছি থাকেন না, তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজে পাওয়া আরও কঠিন।
বিশেষ করে বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারগুলোর অনেকেই সন্তানদের দেখাশোনার জন্য দাদা-দাদি, নানা-নানি বা আত্মীয়স্বজনের সহায়তা পান না। ফলে বেসরকারি ডে-কেয়ারের ওপর নির্ভর করতে হয়। কারও কারও ক্ষেত্রে মাসিক ভাড়া, খাবার, পরিবহন, স্বাস্থ্যবিমা ও অন্যান্য বিলের পাশাপাশি শিশুর যত্নের খরচ মেটাতে গিয়ে সঞ্চয় কমে যাচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে কর্মজীবী মায়েদের ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। রবিন হুডের ২০২৬ সালের গবেষণায় দেখা গেছে, নিউইয়র্কের কর্মজীবী অভিভাবকদের মধ্যে পাঁচজনের একজনের বেশি শিশুদের যত্নসংক্রান্ত আর্থিক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। কেউ খরচের কারণে ডে-কেয়ারের সময় কমিয়েছেন, কেউ প্রয়োজনের তুলনায় কম উপযুক্ত ব্যবস্থায় সন্তানকে রেখেছেন। একক মায়েদের মধ্যে এ সমস্যা আরও বেশি।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।