সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
ইরান যুদ্ধই কাল হলো রিপাবলিকানদের, নির্বাচনী বিপর্যয়ের কারণ স্বীকার করলেন ট্রাম্পমধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের দখলে, ঐতিহাসিক ফলাফলে চাপে ট্রাম্প প্রশাসনবেতন বাড়ার আশায় পোশাকশ্রমিকরা, নতুন মজুরি নির্ধারণে আজ বসছে বিশেষ বোর্ডের প্রথম সভাঅবৈধ ভোটের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে চার বিদেশি নাগরিক গ্রেপ্তার, তদন্ত তিন রাজ্যেনিউ জার্সির তিন আসনে ভোটের লড়াই, বড় চমকে পিছিয়ে পড়ল রিপাবলিকানরা

অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬

মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের দখলে, ঐতিহাসিক ফলাফলে চাপে ট্রাম্প প্রশাসন

টেক্সাস, কানসাস, ওহাইওসহ গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে জয়ের মাধ্যমে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। সুসান কলিন্সের পরাজয়েও বদলে গেছে রাজনৈতিক সমীকরণ।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের দখলে, ঐতিহাসিক ফলাফলে চাপে ট্রাম্প প্রশাসন
মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের দখলে, ঐতিহাসিক ফলাফলে চাপে ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। দীর্ঘদিন রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পুনরুদ্ধার করেছে দলটি। টেক্সাস, কানসাস, ওহাইও, আইওয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা ও সাউথ ক্যারোলাইনায় গুরুত্বপূর্ণ জয়ের মাধ্যমে মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে গেছে।

নির্বাচনের রাতে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ফলাফল অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটরা সিনেটে ৫১টি আসনে জয় পেয়েছে এবং রিপাবলিকানরা ৩৯টি আসনে জয় পেয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সব আসনের ফলাফল চূড়ান্ত হওয়ার আগে এই সংখ্যাকে সম্পূর্ণ সিনেটের চূড়ান্ত আসনবণ্টন হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

নির্বাচনের অন্যতম বড় চমক এসেছে টেক্সাস থেকে। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকো রিপাবলিকান কেন প্যাক্সটনকে পরাজিত করেছেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

১৯৮৮ সালের পর এই প্রথম টেক্সাসে ডেমোক্র্যাটরা সিনেট নির্বাচনে জয় পেল। দীর্ঘদিন রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত রাজ্যটিতে এই ফলাফল মার্কিন রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানরা টেক্সাসে বড় ব্যবধানে জয়ের আশা করেছিল। কিন্তু ভোটারদের অর্থনৈতিক উদ্বেগ, জ্বালানির মূল্য এবং ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির প্রতি অসন্তোষ নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে ।

কানসাসেও ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিলটন। তিনি রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শালকে পরাজিত করেছেন বলে নির্বাচনী প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

১৯৩২ সালের পর কানসাস থেকে প্রথমবারের মতো একজন ডেমোক্র্যাট সিনেট নির্বাচনে জয়ী হলেন। দীর্ঘদিন রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকা রাজ্যটিতে এই ফলাফল দলটির জন্য উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মেইনের নির্বাচনে দীর্ঘদিনের রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্সকে পরাজিত করেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ট্রয় জ্যাকসন বলে এবিসি নিউজ ও অন্যান্য সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

কলিন্স প্রায় ৩০ বছর ধরে মার্কিন সিনেটে প্রতিনিধিত্ব করে আসছিলেন। তাঁর পরাজয় ডেমোক্র্যাটদের সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

মেইনের এই ফলাফল রিপাবলিকানদের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ কলিন্স ছিলেন দলের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ ও প্রভাবশালী সিনেটরদের একজন।

ওহাইওতে সাবেক সিনেটর শেরড ব্রাউন রিপাবলিকান জন হাস্টেডকে পরাজিত করে আবার সিনেটে ফিরেছেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর তাঁর এই প্রত্যাবর্তন ডেমোক্র্যাটদের জন্য বড় সাফল্য।

আইওয়াতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জশ টুরেক রিপাবলিকান অ্যাশলি হিনসনকে পরাজিত করেছেন। এই জয়ের মাধ্যমে সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় আসন পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা।

সাউথ ক্যারোলাইনায়ও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যানি অ্যান্ড্রুজ জয় পেয়েছেন। রাজ্যটিতে দীর্ঘদিন রিপাবলিকানদের শক্ত অবস্থান থাকা সত্ত্বেও এই ফলাফল নির্বাচনের অন্যতম বড় চমক হিসেবে উঠে এসেছে।

নর্থ ক্যারোলাইনায় সাবেক গভর্নর রয় কুপার রিপাবলিকান মাইকেল হোয়াটলিকে পরাজিত করে সিনেট আসনটি ডেমোক্র্যাটদের দখলে এনেছেন।

নির্বাচনের ফলাফল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে রিপাবলিকানদের আইন প্রণয়ন, সরকারি নিয়োগ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে বাধার মুখে পড়তে হতে পারে।

ডেমোক্র্যাটরা সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ব্যবহার করে প্রেসিডেন্টের মনোনীত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ আটকে দিতে পারে। পাশাপাশি প্রশাসনের কার্যক্রম নিয়ে তদন্ত ও শুনানির ক্ষেত্রেও তাদের ক্ষমতা বাড়বে।

নির্বাচনের আগে ইরান যুদ্ধ, জ্বালানির উচ্চমূল্য, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগ রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল। এসব বিষয় রিপাবলিকানদের নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

সিনেটের পাশাপাশি প্রতিনিধি পরিষদেও ডেমোক্র্যাটরা নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার পথে রয়েছে বলে এবিসি নিউজ ও সিবিএস নিউজ জানিয়েছে। দুই কক্ষেই ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রতিষ্ঠিত হলে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য কংগ্রেসে আইন পাস করা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

ডেমোক্র্যাট নেতারা নির্বাচনী সাফল্যের পর ভোটারদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং অর্থনৈতিক স্বস্তি, জবাবদিহি ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা করেছে। টেক্সাস ও কানসাসের মতো রাজ্যে ঐতিহাসিক জয়, মেইনে সুসান কলিন্সের পরাজয় এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আসন দখলের মাধ্যমে ডেমোক্র্যাটরা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছে। এই ফলাফল আগামী দুই বছর মার্কিন প্রশাসন ও কংগ্রেসের সম্পর্ককে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি করবে।

ট্যাগ: যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনমার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনডেমোক্র্যাটিক পার্টিরিপাবলিকান পার্টিডোনাল্ড ট্রাম্পমার্কিন সিনেটসিনেট নির্বাচনঐতিহাসিক নির্বাচনী জয়টেক্সাস নির্বাচনকানসাস নির্বাচনওহাইও নির্বাচনসুসান কলিন্সমার্কিন রাজনীতিযুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতিপ্রতিনিধি পরিষদট্রাম্প প্রশাসন

প্রতিবেদক

Mukti Dipita

INTERNATIONAL BROADCAST JOURNALIST

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।