সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর নির্বাচিত আবদুল এল-সাইয়েদ, মিশিগানে জয়সীমান্ত নিরাপত্তায় প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার কোনো বিকল্প নেই:স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীতৃণমূলের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা শুনলেন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব , উপস্থাপিত হলো ১৭ বছরের নির্যাতনের নথিইরান যুদ্ধই কাল হলো রিপাবলিকানদের, নির্বাচনী বিপর্যয়ের কারণ স্বীকার করলেন ট্রাম্পমধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের দখলে, ঐতিহাসিক ফলাফলে চাপে ট্রাম্প প্রশাসন

বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাজের অনুমতিতে ৭০ হাজার ডলার ফি প্রস্তাব, মতামতের শেষ সময় ৯ নভেম্বর

যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষে কাজ করতে চান বিদেশি শিক্ষার্থীরা? তাঁদের কাজের অনুমতি দিতে প্রথমবার ৭০ হাজার ডলার ফি নেওয়ার প্রস্তাব করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন বিভিন্ন দেশের বিদেশি শিক্ষার্থীরা।
যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন বিভিন্ন দেশের বিদেশি শিক্ষার্থীরা।

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা শেষে কাজ করার সুযোগ আরও ব্যয়বহুল করার প্রস্তাব দিয়েছে দেশটির সরকার। এফ-১ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের জন্য ঐচ্ছিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ বা ওপিটি কর্মসূচিতে প্রথমবারের অনুমতির ক্ষেত্রে ৭০ হাজার ডলার ফি নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে আবার এই কর্মসূচির আওতায় কাজের অনুমতি নিতে হলে ৩০ হাজার ডলার ফি দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ এবং অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা এই প্রস্তাব সামনে এনেছে। ৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে সরকারি ফেডারেল রেজিস্টারে প্রস্তাবটি প্রকাশ করা হয়। এর লক্ষ্য হিসেবে ওপিটি কর্মসূচিতে জালিয়াতি ও অনিয়ম কমানো, অভিবাসন ব্যবস্থার নিয়মকানুন আরও শক্তিশালী করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের চাকরির সুযোগ রক্ষা করার কথা উল্লেখ করেছে কর্তৃপক্ষ।

তবে প্রস্তাবটি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। ৭০ হাজার ডলার সরাসরি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে নেওয়ার কথা বলা হয়নি। প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য এই অর্থ সরকারকে দিতে হবে। কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীর কাজের অনুমতির সুপারিশ করার আগে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হবে। তবে প্রতিষ্ঠান চাইলে এই খরচ শিক্ষার্থী, সব শিক্ষার্থী অথবা সংশ্লিষ্ট নিয়োগদাতার ওপর চাপাতে পারে।

কোনো শিক্ষার্থী প্রথমবার ওপিটির সুযোগ নিতে চাইলে তাঁর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ৭০ হাজার ডলার দিতে হবে। পরবর্তী সময়ে আবার ওপিটি বা এর আওতায় বিশেষ মেয়াদের কাজের অনুমতি নিতে হলে ৩০ হাজার ডলার দিতে হবে। অর্থাৎ প্রথমবারের পরবর্তী অনুমতির ক্ষেত্রেও বড় অঙ্কের অর্থ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা তৈরি হতে পারে।

ওপিটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে এফ-১ ভিসায় পড়াশোনা করা বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি কাজের সুযোগ। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের পড়াশোনার বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত কাজে যুক্তরাষ্ট্রে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন। সাধারণ বিষয়ে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ ১২ মাস কাজের অনুমতি পেতে পারেন। আর বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত বিষয়ে পড়াশোনা করা যোগ্য শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ২৪ মাসের বিশেষ সুযোগ পেতে পারেন। এই বিশেষ সুযোগকে স্টেম ওপিটি বলা হয়।

এই কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশ, ভারতসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষ করে নিজেদের পেশাগত অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পান। অনেক শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে চাকরি এবং দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের সুযোগ খোঁজেন।

নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ এবং নিয়োগদাতাদের ওপরও আর্থিক চাপ বাড়তে পারে। বিশেষ করে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক বিদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেন, তাদের জন্য প্রত্যেক শিক্ষার্থীর পেছনে এত বড় অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

সরকারি প্রস্তাবে বলা হয়েছে, এই নতুন ফি চালুর মাধ্যমে ওপিটি কর্মসূচির অপব্যবহার কমানো এবং প্রকৃত যোগ্য শিক্ষার্থীদের সুযোগ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এই অর্থ দিতে না পারলে অথবা দিতে না চাইলে অনেক শিক্ষার্থীর কাজের সুযোগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

এদিকে প্রস্তাবটির বিষয়ে সাধারণ মানুষের মতামত ও আপত্তি জানানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। আগামী ৯ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত এ বিষয়ে মতামত জমা দেওয়া যাবে। আগ্রহীরা যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বিধিমালা সংক্রান্ত ওয়েবসাইটে গিয়ে প্রস্তাবটির বিষয়ে নিজেদের মতামত জানাতে পারবেন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি এখনো চূড়ান্ত আইন নয়। অর্থাৎ বর্তমানে সব বিদেশি শিক্ষার্থীর ওপিটি অনুমতির জন্য ৭০ হাজার ডলার ফি দিতে হচ্ছে না। প্রস্তাবটি চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হলে এবং কার্যকর হওয়ার তারিখ নির্ধারিত হলে নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হবে। তাই বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের যেসব শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করছেন কিংবা ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের এ বিষয়ে সতর্কভাবে নজর রাখা প্রয়োজন।

ট্যাগ: বিদেশি শিক্ষার্থীযুক্তরাষ্ট্রশিক্ষার্থীকাজের অনুমতিবাংলাদেশি শিক্ষার্থী

প্রতিবেদক

Staff Reporter

Reporter

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।