যুক্তরাজ্যের হাসপাতালে অচেতন সাংবাদিক রিয়াজ চৌধুরী, শয্যাপাশে গিয়ে আবেগঘন অভিজ্ঞতা জানালেন কাফি কামাল
যুক্তরাজ্যের লিডস জেনারেল ইনফার্মারিতে সাংবাদিক রিয়াজ চৌধুরীকে দেখতে গিয়ে তাঁর গুরুতর মস্তিষ্কের আঘাত ও চলমান চিকিৎসা নিয়ে আবেগঘন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন সাংবাদিক কাফি কামাল।
যুক্তরাজ্যের লিডসের একটি হাসপাতালে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন সাংবাদিক রিয়াজ চৌধুরীকে দেখতে গিয়ে আবেগঘন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশি সাংবাদিক কাফি কামাল। দুর্ঘটনার দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো জ্ঞান ফেরেনি রিয়াজের। হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকা সহকর্মীকে দেখে তাঁর শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেছেন কাফি কামাল।
বাংলাদেশের সাংবাদিকতা অঙ্গনে দীর্ঘদিন কাজ করা কাফি কামাল বর্তমানে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। সহকর্মী রিয়াজ চৌধুরীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়মিত রাখলেও বিভিন্ন ব্যস্ততা ও অন্য শহরে বসবাসের কারণে এত দিন সরাসরি হাসপাতালে যাওয়া সম্ভব হয়নি তাঁর। অবশেষে লিডসের The General Infirmary at Leeds (LGI)-এর Jubilee Wing-এ গিয়ে রিয়াজকে কাছ থেকে দেখেন তিনি।
নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে কাফি কামাল লিখেছেন, হাসপাতালের বিছানায় বন্ধুবর সাংবাদিক রিয়াজ চৌধুরীর এমন অসহায় অবস্থা দেখে জীবনের অনিশ্চয়তা নতুন করে উপলব্ধি করেছেন তিনি। দৃশ্যটি এতটাই বেদনাদায়ক ছিল যে মনের ভার ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন হয়ে পড়েছিল।
দুই সপ্তাহেও ফেরেনি জ্ঞান, নিবিড় পর্যবেক্ষণে রিয়াজ
কাফি কামালের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রিয়াজ চৌধুরী লিডসের হাসপাতালের L25 High Observation Bay-তে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। দুর্ঘটনার দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো তাঁর জ্ঞান ফেরেনি।
হাসপাতালে গিয়ে রিয়াজের অচেতন অবস্থায় হাত-পা নাড়ানো, গোঙানো এবং অস্ফুট স্বরে কথা বলার চেষ্টা করতে দেখেছেন কাফি কামাল। কয়েকবার তাঁকে ‘আল্লাহ, আল্লাহ’ বলতেও শুনেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। সম্ভাব্য ব্যথার কারণে রিয়াজ নিজের হাত কামড়ানোর চেষ্টা করছেন বলে তাঁর ধারণা হয়েছে। এ কারণে তাঁর দুই হাতে বিশেষ ধরনের মোটা কভার পরিয়ে রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সহকর্মীর এমন অসহায় অবস্থা দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন কাফি কামাল। তাঁর ভাষায়, চোখের পানি ধরে রাখা সত্যিই কঠিন হয়ে পড়েছিল।
গুরুতর মস্তিষ্কে আঘাত, ঘাড়ের হাড়েও ফ্র্যাকচার
হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা একজন নার্সের সঙ্গে কথা বলে রিয়াজের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে কিছু তথ্য জানতে পেরেছেন বলে জানিয়েছেন কাফি কামাল।
তাঁর পোস্ট অনুযায়ী, রিয়াজ চৌধুরীর মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাত (Severe Brain Injury) লেগেছে। পাশাপাশি তাঁর ঘাড়ের হাড়েও ফ্র্যাকচার হয়েছে। এ কারণে ঘাড়ে বিশেষ ধরনের কলার পরিয়ে রাখা হয়েছে।
নার্সের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য উল্লেখ করে কাফি কামাল জানান, চিকিৎসকেরা আশা করছেন কয়েক সপ্তাহের মধ্যে রিয়াজের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হতে পারে। তবে তিনি কখন জ্ঞান ফিরে পাবেন, কবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন কিংবা পূর্ণাঙ্গ সুস্থতা অর্জন করবেন কি না, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না।
ঘাড়ের আঘাতের কারণে অন্তত ১২ সপ্তাহ বিশেষ কলারটি ব্যবহার করতে হতে পারে বলেও তাঁকে জানিয়েছেন হাসপাতালের নার্স।
সহকর্মীর সুস্থতা কামনায় আবেগঘন প্রার্থনা
রিয়াজ চৌধুরীর শয্যাপাশে দাঁড়িয়ে জীবনের অনিশ্চয়তা ও মানবিক সম্পর্কের গভীরতা নতুন করে অনুভব করেছেন কাফি কামাল। তাঁর প্রত্যাশা, রিয়াজ আবার চোখ মেলে তাকাবেন, কথা বলবেন এবং ফিরে আসবেন তাঁর চেনা জীবনে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে তিনি সহকর্মী, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে রিয়াজের সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়েছেন। মহান আল্লাহ যেন তাঁকে পূর্ণ আরোগ্য দান করেন এবং তাঁর পরিবার ও স্বজনদের এই কঠিন সময় পার করার শক্তি দেন এমন প্রার্থনাও জানিয়েছেন তিনি।
সহকর্মীদের মানবিক সহযোগিতার কথাও তুলে ধরেছেন কাফি কামাল
রিয়াজ চৌধুরীকে হাসপাতালে দেখতে যাওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য অগ্রজ সাংবাদিক মোহাম্মদ জাকারিয়া ভাইয়ের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন কাফি কামাল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পারিবারিক অনুষ্ঠান থাকা সত্ত্বেও জাকারিয়া হাসপাতালে ছুটে এসেছেন।
এ ছাড়া রিয়াজ দুর্ঘটনায় পড়ার পর থেকে জাকারিয়া, কিবরিয়া এবং মাহমুদ আজহার আন্তরিকতার সঙ্গে রিয়াজ ও তাঁর পরিবারের খোঁজখবর রাখছেন এবং পাশে রয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
বন্ধুর বিপদে সহকর্মীদের এমন আন্তরিকতা ও মানবিক দায়িত্ববোধকে হৃদয়স্পর্শী হিসেবে বর্ণনা করেছেন কাফি কামাল।
একজন সাংবাদিকের অসুস্থতা ঘিরে সহকর্মীদের এই উদ্বেগ, যোগাযোগ ও পাশে থাকার প্রচেষ্টা সাংবাদিক সমাজের পারস্পরিক সম্পর্কের একটি মানবিক দিক তুলে ধরেছে।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।