অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬
অবৈধ ভোটের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে চার বিদেশি নাগরিক গ্রেপ্তার, তদন্ত তিন রাজ্যে
২০২৪ সালের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অভিযোগে টেনেসি, ওকলাহোমা এবং নিউ জার্সিতে চার বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ বলে জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল নির্বাচনে অবৈধভাবে ভোট দেওয়ার অভিযোগে চার বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার তদন্তকারীরা। টেনেসি, ওকলাহোমা ও নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যে পরিচালিত পৃথক তিনটি তদন্তের ভিত্তিতে তাঁদের আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অভিযোগগুলোর মধ্যে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও ভোট দেওয়ার বিষয় রয়েছে। তবে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার তদন্ত বিভাগ জানিয়েছে, নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে তদন্ত চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব বিদেশি নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব না থাকা সত্ত্বেও ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, তাঁদের শনাক্ত করতে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।
টেনেসি অঙ্গরাজ্যে গ্রেপ্তার হওয়া দুজনের পরিচয় প্রকাশ করেছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম। তাঁরা হলেন ফরাসি নাগরিক ফ্রেডেরিক জ্যাঁ রেনে সিকার্ড এবং ইরাকি নাগরিক মার্ক আদওয়ার ওদিশো। গত ২৯ অক্টোবর টেনেসির ক্লিভল্যান্ড এলাকায় তাঁদের আটক করা হয় বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুজনের বিরুদ্ধেই ২০২৪ সালের যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অবৈধভাবে ভোট দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাঁদের আদালতে হাজির করা হয়। এই অভিযান পরিচালনায় তদন্তকারীদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এবং স্থানীয় পুলিশ সহযোগিতা করেছে।
নিউ জার্সিতে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ৭২ বছর বয়সী ইতালীয় নাগরিক আন্দ্রেয়া মরজেত্তা। তাঁর বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের নভেম্বরের নির্বাচনসহ চারটি ফেডারেল নির্বাচনে অবৈধভাবে ভোট দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার আবেদন করার সময় নিজের ভোট দেওয়ার ইতিহাস সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
ওকলাহোমায় গ্রেপ্তার হওয়া চতুর্থ ব্যক্তির পরিচয় ও মামলার বিস্তারিত বিষয়ে পর্যাপ্ত স্বাধীন তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর নাম, জাতীয়তা কিংবা ঠিক কোন নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে উল্লেখ করা যাচ্ছে না।
এই গ্রেপ্তারের ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন দেশজুড়ে নির্বাচনী অনিয়ম শনাক্তে তদন্ত জোরদার করছে। বিশেষ করে নাগরিকত্ব না থাকা ব্যক্তিদের ভোটার হিসেবে নিবন্ধন এবং ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অভিযোগকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট, প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট নির্বাচনের মতো ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য মার্কিন নাগরিক হওয়া বাধ্যতামূলক। স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি থাকলেও কোনো বিদেশি নাগরিক সাধারণত এসব নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন না।
তবে কিছু স্থানীয় নির্বাচনে বিদেশি নাগরিকদের ভোট দেওয়ার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন এলাকার নিজস্ব আইন থাকতে পারে। তাই স্থানীয় নির্বাচনের নিয়ম এবং জাতীয় পর্যায়ের ফেডারেল নির্বাচনের নিয়ম এক করে দেখা উচিত নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ দেশজুড়ে নির্বাচনী অপরাধের অভিযোগে বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছে। এসব মামলার মধ্যে বিদেশি নাগরিকদের অবৈধ ভোট দেওয়া, ভোটার হিসেবে প্রতারণামূলক নিবন্ধন এবং নাগরিকত্ব সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
বিচার বিভাগের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আগের নয় সপ্তাহে ২৫টি অঙ্গরাজ্যে ১৯৫ জন বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে অবৈধ ভোট দেওয়া ও ভোটার নিবন্ধনসংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে নির্বাচনী অপরাধসংক্রান্ত অভিযোগে অভিযুক্তের সংখ্যা ২৩৯ বলে জানিয়েছে বিভাগটি।
প্রকাশিত মামলাগুলোর মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিক মোহাম্মদ হাচিবুর রহমানের নামও রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অবৈধভাবে ভোট দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে তাঁর মামলার চূড়ান্ত বিচারিক ফলাফল সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
নির্বাচনে বিদেশি নাগরিকদের ভোট দেওয়ার ঘটনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিতর্কও বাড়ছে। ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, নির্বাচনের স্বচ্ছতা রক্ষার জন্য অনিয়মের প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করা প্রয়োজন। অন্যদিকে বিরোধী রাজনৈতিক দল, নাগরিক অধিকার সংগঠন এবং নির্বাচনী বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ বলছেন, বিচ্ছিন্ন কিছু অপরাধের ঘটনাকে দেশজুড়ে ব্যাপক নির্বাচনী জালিয়াতির প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক নয়।
নির্বাচনী গবেষকদের বিশ্লেষণেও দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি নাগরিকদের ভোটার হিসেবে নিবন্ধন এবং নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অভিযোগ তদন্তের পর অনেক ক্ষেত্রেই সন্দেহের ভিত্তি দুর্বল হয়েছে। কিছু ঘটনায় অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলেও সেগুলো মোট ভোটারের তুলনায় খুবই সামান্য।
এ ধরনের মামলায় ভোটার নিবন্ধনের সময় দেওয়া তথ্য, নাগরিকত্বের নথি, নির্বাচনী তালিকা এবং ভোট দেওয়ার রেকর্ড পরীক্ষা করা হয়। তদন্তকারীরা অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। আদালতে অভিযোগ প্রমাণের দায়িত্ব সরকারের। শুধু গ্রেপ্তার কিংবা অভিযোগ দায়েরের মাধ্যমে কাউকে অপরাধী ঘোষণা করা যায় না।
সব মিলিয়ে চার বিদেশি নাগরিকের গ্রেপ্তার যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী আইন প্রয়োগের চলমান কঠোর অবস্থানের একটি নতুন ঘটনা। তবে এই চারটি গ্রেপ্তারকে দেশজুড়ে ব্যাপক নির্বাচনী জালিয়াতির প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। অভিযোগগুলোর বিচারিক নিষ্পত্তি, আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণ এবং তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফলই নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সত্যিই আইন ভঙ্গ করেছেন কি না।
যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি প্রত্যেক অভিযুক্ত ব্যক্তির ন্যায়বিচার ও আইনি অধিকার নিশ্চিত করাও জরুরি। তাই গ্রেপ্তারের খবরের পাশাপাশি মামলার অগ্রগতি এবং আদালতের সিদ্ধান্তের দিকেও নজর রাখছেন সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকরা।

মিশিগানে ডেমোক্র্যাটদের মনোনয়ন জিতে আলোচনায় আবদুল এল-সায়েদ, সমর্থকদের অভিনন্দনে উচ্ছ্বাস

আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দিয়ে গণতন্ত্রের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করলেন সাবরিনা চৌধুরী

নিউ জার্সির তিন আসনে ভোটের লড়াই, বড় চমকে পিছিয়ে পড়ল রিপাবলিকানরা



মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।