অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রেকর্ড ব্যয়, ইলন মাস্কের অনুদান ৪৭ কোটি ডলার ছাড়াল
দ্রব্যমূল্যের চাপে সাধারণ মানুষ, অথচ যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রেকর্ড অর্থ ব্যয় করছেন প্রার্থী, ধনকুবের ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলো।
৯,৭৬৮ বার পড়া হয়েছে ৮ মিনিটে পড়ুন
২০২৬ সালের ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হচ্ছে মধ্যবর্তী নির্বাচন। এই নির্বাচনকে ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে যেমন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তেমনি নির্বাচনী অর্থের বিশাল প্রবাহও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয়, বাড়িভাড়া, স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্যপণ্য এবং জ্বালানির দাম নিয়ে যখন সাধারণ আমেরিকানদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে, তখন নির্বাচনে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার ব্যয়ের পূর্বাভাস নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
ওপেনসিক্রেটসের ৩১ অক্টোবর প্রকাশিত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রার্থী, রাজনৈতিক দল এবং বাইরের রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর মোট ব্যয় শেষ পর্যন্ত ১ হাজার ১৯০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে। অর্থাৎ প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার। এটি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ব্যয়ের নতুন রেকর্ড হতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, এটি চূড়ান্ত হিসাব নয়; নির্বাচনের পর সব আর্থিক প্রতিবেদন জমা ও বিশ্লেষণ হলে প্রকৃত ব্যয়ের পরিমাণ জানা যাবে।
এই বিপুল অর্থের আলোচনায় সবচেয়ে বেশি উঠে এসেছে বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবেরদের একজন ইলন মাস্কের নাম। ফেডারেল নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত আর্থিক তথ্য বিশ্লেষণ করে ওপেনসিক্রেটস জানিয়েছে, মাস্ক ২০২৬ সালের নির্বাচনী অর্থায়নে ফেডারেল রাজনৈতিক সংগঠনগুলোকে প্রায় ৪৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার দিয়েছেন। এর মধ্যে নিজের প্রতিষ্ঠিত আমেরিকা পিএসি পেয়েছে প্রায় ২১ কোটি ৫০ লাখ ডলার। আর রিপাবলিকানদের পক্ষে কাজ করা সিনেট লিডারশিপ ফান্ড পেয়েছে প্রায় ১৬ কোটি ৮০ লাখ ডলার। এই হিসাবের একটি অংশ ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।
তবে ২ নভেম্বর প্রকাশিত নিউইয়র্ক টাইমসের আর্থিক নথি বিশ্লেষণের বরাতে কোয়ার্টজ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের নির্বাচনী চক্রে মাস্কের মোট ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্যভিত্তিক রাজনৈতিক অনুদান প্রায় ৪৭ কোটি ৪০ লাখ ডলারে পৌঁছেছে। অর্থাৎ ৪৪ কোটি ৫০ লাখ ডলারের আগের হিসাবের চেয়ে পরবর্তী হিসাবে অঙ্ক আরও বেড়েছে। এই হিসাবের মধ্যেও কিছু অনুদান অপ্রকাশিত থাকতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মাস্কের অর্থের বড় অংশ গেছে রিপাবলিকান প্রার্থীদের রাজনৈতিকভাবে সহায়তা করা সংগঠনগুলোর কাছে। আমেরিকা পিএসি তাঁর নিজের প্রতিষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক ব্যয়সংগঠন। এটি নির্বাচনে ভোটারদের কাছে পৌঁছানো, প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা, বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া এবং নির্দিষ্ট প্রার্থীদের পক্ষে জনসমর্থন তৈরিতে কাজ করে। অন্যদিকে সিনেট লিডারশিপ ফান্ড রিপাবলিকানদের সিনেট নির্বাচনী প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এসব সংগঠনের মাধ্যমে বিপুল অর্থ নির্বাচনী বিজ্ঞাপন, প্রচার ও ভোটারদের প্রভাবিত করার কাজে ব্যয় করা হচ্ছে।
মাস্কের রাজনৈতিক অর্থায়নের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো টেক্সাসের সিনেট নির্বাচন। সেখানে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটন এবং ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকোর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন এই লড়াইয়ে বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে। ওপেনসিক্রেটসের তথ্য অনুযায়ী, তালারিকো তাঁর নির্বাচনী তহবিলে প্রায় ১৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার সংগ্রহ করেছেন। অন্যদিকে প্যাক্সটনের নিজস্ব নির্বাচনী তহবিলে অর্থ সংগ্রহ তুলনামূলকভাবে অনেক কম হয়েছে। রিপাবলিকান প্রার্থীর পক্ষে বাইরের সংগঠনগুলোর অর্থায়ন তাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নির্বাচনী ব্যয়ের সামগ্রিক চিত্রে দেখা যাচ্ছে, শুধু প্রার্থীদের নিজস্ব প্রচার তহবিল নয়, বাইরের রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর ব্যয়ও রেকর্ড বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। ওপেনসিক্রেটসের হিসাবে, ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মোট ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৮৯০ কোটি ডলার। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করলে সেই ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার ২০ কোটি ডলার। ২০২৬ সালের সম্ভাব্য ১ হাজার ১৯০ কোটি ডলারের ব্যয় আগের নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাইরের রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর ব্যয় এবার ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ২০২২ সালের নির্বাচনে এসব সংগঠন প্রায় ২০০ কোটি ডলার ব্যয় করেছিল। ২০২৬ সালে এই ব্যয় প্রায় ৩৯০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ওপেনসিক্রেটস। অর্থাৎ চার বছরের ব্যবধানে এই খাতে ব্যয় প্রায় ৮৫ শতাংশ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী অর্থায়নে বিশেষ ভূমিকা রাখে সুপার পিএসি নামে পরিচিত রাজনৈতিক ব্যয়সংগঠন। সাধারণ রাজনৈতিক কমিটির মতো এসব সংগঠন ব্যক্তিগত দানের নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে আবদ্ধ নয়। ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, শ্রমিক সংগঠন ও অন্যান্য রাজনৈতিক কমিটি থেকে তারা বিপুল অর্থ সংগ্রহ করতে পারে। তবে আইন অনুযায়ী তারা কোনো প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচার পরিচালনার সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় করে সেই অর্থ ব্যয় করতে পারে না। তারা স্বাধীনভাবে বিজ্ঞাপন, প্রচার এবং প্রার্থীকে সমর্থন বা বিরোধিতা করে বিভিন্ন কার্যক্রম চালাতে পারে।
এই ব্যবস্থার কারণে একজন ধনকুবের বা বড় প্রতিষ্ঠান বিপুল অর্থ দিয়ে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শ কিংবা প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণাকে শক্তিশালী করতে পারে। ফলে নির্বাচনে অর্থের প্রভাব কতটা হওয়া উচিত, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক চলছে।
ওপেনসিক্রেটসের ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, রিপাবলিকানপন্থী বাইরের রাজনৈতিক সংগঠনগুলো প্রায় ২০৩ কোটি ডলার ব্যয় করেছে। বিপরীতে ডেমোক্র্যাটপন্থী সংগঠনগুলোর ব্যয় প্রায় ১৬৭ কোটি ডলার। অর্থাৎ বাইরের সংগঠনগুলোর ব্যয়ে রিপাবলিকানদের প্রায় ৩৬ কোটি ডলারের ব্যবধান রয়েছে।
এই ব্যয়ের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে রিপাবলিকানদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সিনেট লিডারশিপ ফান্ড। সংগঠনটি প্রায় ৪৮ কোটি ৯০ লাখ ডলার ব্যয় করেছে। এরপর রয়েছে ট্রাম্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠন মাগা ইনকরপোরেটেড, যার ব্যয় প্রায় ৩৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার। ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে সিনেট মেজরিটি পিএসি প্রায় ২৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার এবং হাউস মেজরিটি পিএসি প্রায় ১৯ কোটি ২০ লাখ ডলার ব্যয় করেছে।
তবে শুধু বাইরের সংগঠনগুলোর ব্যয় দেখলে পুরো নির্বাচনী চিত্র বোঝা যাবে না। প্রার্থীদের নিজস্ব নির্বাচনী তহবিল থেকেও বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে। ওপেনসিক্রেটসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের প্রার্থীরা নির্বাচনী চক্রের শেষ নাগাদ নিজেদের প্রচার তহবিল থেকে প্রায় ৩৭০ কোটি ডলার ব্যয় করতে পারেন।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈপরীত্য রয়েছে। বাইরের সংগঠনগুলোর ব্যয়ে রিপাবলিকানরা এগিয়ে থাকলেও প্রার্থীদের নিজস্ব তহবিলের হিসাবে ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে রয়েছেন। ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের সম্ভাব্য ব্যয় ২২০ কোটি ডলারের বেশি হতে পারে। অন্যদিকে রিপাবলিকান প্রার্থীদের ব্যয় প্রায় ১৪০ কোটি ডলারে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। অর্থাৎ উভয় দলের অর্থায়নের কৌশলে পার্থক্য রয়েছে।
নির্বাচনী অর্থায়নের আরেকটি উদ্বেগজনক দিক হলো অজ্ঞাত উৎসের অর্থ। যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আলোচনায় এই অর্থকে সাধারণত অন্ধকার অর্থায়ন বলা হয়। কিছু অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, মধ্যবর্তী সংগঠন কিংবা এমন সংস্থার মাধ্যমে রাজনৈতিক অর্থ স্থানান্তর করা হয়, যাদের মূল অর্থদাতার পরিচয় সাধারণ মানুষের কাছে সহজে প্রকাশ পায় না।
ওপেনসিক্রেটসের হিসাবে, ২০২৬ সালের নির্বাচনী চক্রে এ ধরনের অর্থের পরিমাণ ইতিমধ্যে প্রায় ১৪৭ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট ও কংগ্রেস নির্বাচনে এই পরিমাণ ছিল প্রায় ১৩৫ কোটি ডলার। অর্থাৎ ২০২৪ সালের রেকর্ডও এবার ছাড়িয়ে গেছে। নির্বাচনের পর আরও আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে এই পরিমাণ বাড়তে পারে।
এবারের নির্বাচনে শুধু মাস্ক নন, অন্যান্য ধনকুবের ও বড় অর্থদাতারাও বিপুল অর্থ দিয়েছেন। ওপেনসিক্রেটসের তথ্য অনুযায়ী, মাইকেল ব্লুমবার্গ, রিচার্ড ইউলিন এবং জেফরি ইয়াসের মতো ধনকুবেরদের অনুদানও ১০ কোটি ডলারের বেশি। অন্যদিকে জর্জ সরোসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি সংগঠন জিওসর করপোরেশন ও ফান্ড ফর পলিসি রিফর্ম সম্মিলিতভাবে ডেমোক্র্যাটপন্থী সংগঠনগুলোকে ১০ কোটি ২০ লাখ ডলারের বেশি দিয়েছে। ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতের দুটি প্রতিষ্ঠান রিপল ও কয়েনবেসও রাজনৈতিক ব্যয়সংগঠনগুলোকে সম্মিলিতভাবে প্রায় ৬ কোটি ৩০ লাখ ডলার দিয়েছে।
এত বিপুল অর্থ ব্যয়ের পেছনে রয়েছে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দলের লড়াই। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের সব আসন এবং সিনেটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসনে ভোট হয়। প্রেসিডেন্টের চার বছরের মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে অনুষ্ঠিত হওয়ায় এই নির্বাচন সরকারের জনপ্রিয়তা, নীতি এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হয়।
কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ যে দলের হাতে থাকবে, তারা আইন প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদন, সরকারি ব্যয় এবং প্রেসিডেন্টের নীতিগত পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখতে পারবে। ফলে শুধু প্রার্থীদের জয়-পরাজয় নয়, পরবর্তী দুই বছরের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তও এই নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে।
এদিকে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাচনের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয়। বাড়িভাড়া, খাবার, চিকিৎসা, স্বাস্থ্যবিমা, বিদ্যুৎ এবং জ্বালানির খরচ অনেক পরিবারের বাজেটে চাপ তৈরি করছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো প্রতিদিনের ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। ফলে ভোটারদের কাছে নির্বাচনী প্রচারের পাশাপাশি বাস্তব অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলই অর্থনীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের সমর্থন চাইছে। তবে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন ও প্রচারণায় শত শত কোটি ডলার ব্যয় হলেও সেই অর্থ সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে ব্যবহৃত হচ্ছে না। এখানেই তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। একদিকে সাধারণ মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ে চিন্তিত, অন্যদিকে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অর্থের প্রবাহ ক্রমেই বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্যও এই নির্বাচনের গুরুত্ব রয়েছে। কারণ কংগ্রেসের সিদ্ধান্তের সঙ্গে অভিবাসননীতি, শিক্ষাঋণ, স্বাস্থ্যবিমা, করব্যবস্থা, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক সুবিধার বিষয়গুলো জড়িত। বিশেষ করে যেসব পরিবার বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ব্যয় ও দৈনন্দিন খরচের চাপে রয়েছে, তাদের জীবনেও নির্বাচনের ফল প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে নির্বাচনে বেশি অর্থ ব্যয় করলেই কোনো প্রার্থী জয়ী হবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। অর্থ নির্বাচনী প্রচারকে শক্তিশালী করতে পারে, ভোটারদের কাছে বার্তা পৌঁছাতে সাহায্য করতে পারে এবং মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম বাড়াতে পারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভোটারদের সিদ্ধান্ত, প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা এবং স্থানীয় ইস্যুগুলোই ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসে শুধু ব্যয়ের রেকর্ডের জন্য নয়, নির্বাচনী অর্থের উৎস, ধনকুবেরদের প্রভাব এবং সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক উদ্বেগের বৈপরীত্যের কারণেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নির্বাচনের পর চূড়ান্ত হিসাব প্রকাশিত হলে বোঝা যাবে, এই বিপুল অর্থের কতটা প্রার্থীদের প্রচারে, কতটা রাজনৈতিক সংগঠনের বিজ্ঞাপনে এবং কতটা ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর কাজে ব্যয় হয়েছে।
তথ্যসূত্র হিসেবে ওপেনসিক্রেটস, ফেডারেল নির্বাচন কমিশনের আর্থিক নথি বিশ্লেষণ, নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের ২ ও ৩ নভেম্বরের প্রতিবেদন বিবেচনা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬

গুয়ামের গভর্নর নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী এগিয়ে, অভিনন্দন জানালেন ট্রাম্প

মিশিগানে এল-সাইয়েদের পক্ষে ম্যাকমরোর জোরালো আহ্বান, ভোটারদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক

যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি রাজ্যে ভোট দেখতে ১ হাজার কর্মকর্তা পাঠাল বিচার বিভাগ




মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।