যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থী ও প্রবাসীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তিন ঘোষণা
৮,৬৫৯ বার পড়া হয়েছে ১০ মিনিটে পড়ুন
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী তরুণ এবং প্রবাসীদের জন্য নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা সামনে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে ঐচ্ছিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের নতুন ফি নিয়ে মতামত জমা দেওয়ার শেষ দিন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির আবেদন এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের মোবাইল কনস্যুলার সেবা। তবে এসব ঘোষণার ক্ষেত্রে একটি বিষয় পরিষ্কার রাখা জরুরি। কোনো প্রস্তাবিত নিয়মকে কার্যকর আইন হিসেবে প্রচার করা যাবে না। একইভাবে বৃত্তির নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং কনস্যুলার ক্যাম্পের স্থান ও তারিখও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। প্রাপ্ত সরকারি নথি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ঐচ্ছিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির প্রস্তাবিত ফি নিয়ে জনমত দেওয়ার শেষ তারিখ ৯ নভেম্বর ২০২৬। এই তথ্যটি সরকারি ফেডারেল নিবন্ধনে প্রকাশিত নথির সঙ্গে মিলে গেছে। ছবি: যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের প্রতীকী আলোকচিত্র। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও উচ্চশিক্ষায় আগ্রহীদের জন্য এই তিনটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তবে তথ্য যাচাইয়ে কয়েকটি সংশোধন পাওয়া গেছে। বিশেষ করে কনস্যুলার ক্যাম্পের স্থান সম্পর্কে প্রচারিত তথ্যের সঙ্গে দূতাবাসের প্রকাশিত তালিকার মিল নেই। যুক্তরাষ্ট্রের ঐচ্ছিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে নতুন ফি আরোপের প্রস্তাব নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতামত জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে দুটি বৃত্তির আবেদন নিয়ে আগ্রহীদের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় এসেছে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রকাশিত মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্পের তালিকায় নভেম্বর ও ডিসেম্বরের কয়েকটি কর্মসূচির তথ্য পাওয়া গেছে। ঐচ্ছিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের ফি নিয়ে ৯ নভেম্বর পর্যন্ত মতামত যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগ। এ ক্ষেত্রে এফ-১ শিক্ষার্থীদের জন্য ঐচ্ছিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের পড়াশোনার বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত কাজে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পান। কিন্তু এই কর্মসূচিতে বড় অঙ্কের নতুন ফি আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ। ২০২৬ সালের ৮ অক্টোবর সরকারি ফেডারেল নিবন্ধনে প্রকাশিত প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো শিক্ষার্থীর জন্য প্রথমবারের মতো এই প্রশিক্ষণের সুপারিশ করলে সংশ্লিষ্ট অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ৭০ হাজার ডলার দিতে হতে পারে। পরবর্তী সময়ে একই শিক্ষার্থীর জন্য নতুন করে সুপারিশের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত ফি ৩০ হাজার ডলার। অর্থাৎ, প্রস্তাবটি কার্যকর হলে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ এবং পরবর্তী প্রশিক্ষণের সুপারিশের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর বড় আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত বিষয়ে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত প্রশিক্ষণের সুযোগও এই প্রস্তাবের আওতায় আসতে পারে। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। ৭০ হাজার বা ৩০ হাজার ডলার শিক্ষার্থীর কাছ থেকে সরাসরি সরকারকে দেওয়ার প্রস্তাবিত ফি নয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, অর্থ পরিশোধের দায়িত্ব থাকবে অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের। তবে প্রতিষ্ঠান চাইলে এই ব্যয়ের প্রভাব শিক্ষার্থী কিংবা নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের ওপরও দিতে পারে। ফলে শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের আর্থিক চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সরকারের যুক্তি হচ্ছে, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অনিয়ম ও জালিয়াতি কমানো, ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং যুক্তরাষ্ট্রের কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ, এত বড় অঙ্কের ফি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পক্ষে বহন করা কঠিন হতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে বিদেশি শিক্ষার্থীদের চাকরির সুযোগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী আকর্ষণের ক্ষেত্রেও। সরকারি নথিতে বলা হয়েছে, প্রস্তাবটির বিষয়ে জনসাধারণের লিখিত মতামত জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৯ নভেম্বর ২০২৬। মতামত জমা দিতে হবে সরকারি নিয়মপ্রণয়নসংক্রান্ত ওয়েবসাইটে। সংশ্লিষ্ট নথির পরিচিতি নম্বরও উল্লেখ করতে হবে। মতামত ইংরেজিতে জমা দিতে হবে অথবা ইংরেজি অনুবাদ যুক্ত করতে হবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ৯ নভেম্বরের পরপরই চূড়ান্ত নিয়ম ঘোষণা করা হবে—এমন নিশ্চয়তা সরকারি নথিতে দেওয়া হয়নি। এটি মতামত জমা দেওয়ার শেষ তারিখ। এরপর সরকার জমা পড়া মতামত পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে। প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হলে কার্যকর হওয়ার আগে ৬০ দিনের প্রস্তুতিমূলক সময় রাখার কথাও নথিতে রয়েছে। সুতরাং, বর্তমানে এই ফি কার্যকর হয়েছে বলে প্রচার করা সঠিক হবে না। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের এখনই আতঙ্কিত না হয়ে নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী সহায়তা দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা উচিত। নারীদের উচ্চশিক্ষায় পিইও বৃত্তির আবেদন ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী আন্তর্জাতিক নারী শিক্ষার্থীদের জন্য পিইও ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কলারশিপ একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর বা উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করতে আগ্রহী বিদেশি নারীদের এই বৃত্তি দেওয়া হয়। ২০২৭-২০২৮ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রকাশিত আবেদনপঞ্জি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে যোগ্যতা যাচাইয়ের আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। আবেদন করার শেষ দিন ১৫ ডিসেম্বর ২০২৬। এই বৃত্তির সর্বোচ্চ আর্থিক সহায়তা ১২ হাজার ৫০০ ডলার। তবে প্রত্যেক আবেদনকারী এই পরিমাণ অর্থ পাবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। আবেদনকারীর প্রয়োজন, আর্থিক অবস্থা এবং অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করে কম পরিমাণ অর্থও দেওয়া হতে পারে। এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা দরকার। অনেক জায়গায় এই বৃত্তিকে সম্পূর্ণ অর্থায়নের সুযোগ হিসেবে প্রচার করা হলেও বাস্তবে এটি সব শিক্ষাব্যয় বহন করার নিশ্চয়তা দেয় না। বৃত্তির অর্থের পাশাপাশি আবেদনকারীকে নিজের অন্যান্য আর্থিক সংস্থানের তথ্যও দেখাতে হয়। আবেদনের ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত রয়েছে। আবেদনকারীকে নারী হতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র বা কানাডার বাইরের দেশের নাগরিক হতে হবে। তাঁকে যুক্তরাষ্ট্র অথবা কানাডার স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের পরিকল্পনা থাকতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষাজীবন শেষে নিজ দেশে ফিরে নিজের অর্জিত শিক্ষা ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা রয়েছে। যাঁরা ইতিমধ্যে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়ছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে আরও কিছু শর্ত রয়েছে। নির্ধারিত শিক্ষাবর্ষে অন্তত এক বছরের নিয়মিত পাঠ্যক্রম বাকি থাকতে হবে এবং পুরো শিক্ষাবর্ষে যুক্তরাষ্ট্র অথবা কানাডায় অবস্থান করতে হবে। শুধু গবেষণা, অনলাইন কোর্স, শিক্ষানবিশি কিংবা ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের জন্য এই বৃত্তি দেওয়া হয় না। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র বা কানাডার নাগরিক কিংবা স্থায়ী বাসিন্দারা এই বৃত্তির জন্য যোগ্য নন। আবেদনকারীদের নির্ধারিত যোগ্যতা ও আর্থিক প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে হবে। বাংলাদেশি নারী শিক্ষার্থীদের জন্য এই সুযোগ বিশেষভাবে বিবেচনার যোগ্য। তবে আবেদন করার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি, বৃত্তির শর্ত এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক কাগজপত্র ভালোভাবে প্রস্তুত করা প্রয়োজন। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, ১৫ ডিসেম্বর হচ্ছে যোগ্যতা যাচাইয়ের আবেদন জমা দেওয়ার শেষ দিন। এটি সব আবেদনকারীর জন্য সম্পূর্ণ বৃত্তির আবেদনপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন নয়। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট স্নাতকোত্তর কর্মসূচিতে ভর্তি হওয়া এবং এখনো ভর্তি না হওয়া আবেদনকারীদের সম্পূর্ণ কাগজপত্র জমা দেওয়ার আলাদা সময়সীমা রয়েছে। কমিউনিটি সলিউশনস কর্মসূচিতে আবেদন ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্ব এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের আরেকটি সুযোগ হচ্ছে কমিউনিটি সলিউশনস কর্মসূচি। ২০২৭ সালের কর্মসূচির আবেদন ২৭ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ২৪ নভেম্বর ২০২৬, রাত ১১টা ৫৯ মিনিট (ওয়াশিংটন সময়)। এই কর্মসূচি পরিচালনা করছে আইরেক্স এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সহায়তা রয়েছে। বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য সুখবর হলো, বাংলাদেশ এই কর্মসূচির যোগ্য দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে নির্বাচিত অংশগ্রহণকারীরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় তিন থেকে চার মাসের পেশাগত বিনিময় কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। এর মধ্যে ১২ সপ্তাহের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ রয়েছে। অংশগ্রহণকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করে নেতৃত্ব, ব্যবস্থাপনা, ব্যবসা উন্নয়ন এবং সামাজিক সমস্যা সমাধানের অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের যাতায়াত, আবাসন, খাবার, জীবনযাপনের মাসিক ভাতা, স্বাস্থ্যসুরক্ষা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচের বেশির ভাগ বহন করা হবে। নির্বাচিত ব্যক্তিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াতের বিমানভাড়া এবং প্রয়োজনীয় ভিসা সহায়তাও রয়েছে। তবে এটিকে সব ধরনের ব্যক্তিগত খরচসহ শতভাগ অর্থায়িত বৃত্তি বলা ঠিক হবে না। আয়োজকদের ভাষায়, কর্মসূচির সঙ্গে সম্পর্কিত অধিকাংশ ব্যয় বহন করা হয়। আবেদনের জন্য বয়স হতে হবে ২৭ থেকে ৩৯ বছরের মধ্যে। নিজ দেশে সামাজিক উন্নয়ন, স্থানীয় অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, ব্যবসা কিংবা জনকল্যাণমূলক কাজে অন্তত পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। পাশাপাশি নিজের কাজের মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কী ধরনের উন্নতি হয়েছে, তার প্রমাণ দেখাতে হবে। ইংরেজিতে কথা বলা ও লেখার ভালো দক্ষতাও প্রয়োজন। আবেদনকারীকে নিজের দেশের নাগরিক হতে হবে এবং আবেদনের সময় নিজ দেশে বসবাস ও কাজ করতে হবে। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা শুধু বাংলাদেশি নাগরিক হওয়ার কারণে এই কর্মসূচির জন্য যোগ্য হবেন না। নিজ দেশে বসবাস ও কাজ করার শর্তটি তাঁদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাধা। নির্বাচিত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসূচি শেষ করে নিজ দেশে কমপক্ষে দুই বছর ফিরে থাকার এবং স্থানীয় উন্নয়নে একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের অঙ্গীকারও করতে হবে। আবেদন করতে হবে নির্ধারিত অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে। ডাকযোগে, ফ্যাক্সে কিংবা ই-মেইলে পাঠানো আবেদন গ্রহণ করা হবে না। আবেদনপত্র ইংরেজিতে পূরণ করতে হবে এবং নিজের অভিজ্ঞতা ও অর্জনের তথ্য সঠিকভাবে তুলে ধরতে হবে। আবেদনকারীদের জন্য ২৪ নভেম্বরের সময়সীমা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শেষ মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা না করে প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ দূতাবাসের মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য দূতাবাসের মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি সেবা। বিশেষ করে যাঁরা ওয়াশিংটন ডিসিতে গিয়ে পাসপোর্ট, ভ্রমণসংক্রান্ত কাগজপত্র কিংবা অন্যান্য কনস্যুলার সেবা নিতে পারেন না, তাঁদের জন্য এসব ক্যাম্প সুবিধা তৈরি করে। ওয়াশিংটনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ২৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাদের সরকারি ওয়েবসাইটে আসন্ন মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্পের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। তবে এই তালিকায় নভেম্বর মাসে নিউইয়র্ক ও লস অ্যাঞ্জেলেসে ক্যাম্প আয়োজনের তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ওই দুই শহরে নভেম্বর মাসে ক্যাম্প হবে—এমন দাবি আপাতত সরকারি ঘোষণার সঙ্গে মিলছে না। দূতাবাসের প্রকাশিত তালিকায় যে কর্মসূচিগুলোর তথ্য রয়েছে, সেগুলো হলো: টেক্সাসের হিউস্টনে ৩১ অক্টোবর ও ১ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে ক্যাম্প। মিশিগানের ওয়ারেনে ১৪ ও ১৫ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে ক্যাম্প। টেক্সাসের ডালাসে ৫ ও ৬ ডিসেম্বর ২০২৬ তারিখে ক্যাম্প। অর্থাৎ, নভেম্বর মাসে মিশিগানের ওয়ারেনে কনস্যুলার ক্যাম্প আয়োজনের ঘোষণা রয়েছে। অন্যদিকে ডিসেম্বর মাসে ডালাসে ক্যাম্প হওয়ার কথা রয়েছে। হিউস্টনের কর্মসূচিটি ৩১ অক্টোবর ও ১ নভেম্বর নির্ধারিত ছিল। ২ নভেম্বরের হিসাবে এটি ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। এখানে একটি বিষয় লক্ষণীয়, দূতাবাসের প্রকাশিত তালিকায় ডালাসের তারিখের পাশে বছর লেখার ক্ষেত্রে মুদ্রণগত ভুল রয়েছে। সেখানে ২০২০৬ লেখা হয়েছে। তবে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির প্রেক্ষাপট এবং ২০২৬ সালের অন্যান্য কর্মসূচির সঙ্গে মিলিয়ে তারিখটি ৫ ও ৬ ডিসেম্বর ২০২৬ বলে বোঝা যায়। কনস্যুলার ক্যাম্পে সাধারণত পাসপোর্টসংক্রান্ত আবেদন, ভ্রমণসংক্রান্ত কাগজপত্র, বিভিন্ন প্রত্যয়ন এবং অন্যান্য দূতাবাসসংশ্লিষ্ট সেবা দেওয়া হতে পারে। তবে কোন ক্যাম্পে ঠিক কী কী সেবা দেওয়া হবে, তা নির্দিষ্ট বিজ্ঞপ্তির ওপর নির্ভর করে। তাই ক্যাম্পে যাওয়ার আগে দূতাবাসের সরকারি বিজ্ঞপ্তি দেখে সেবার তালিকা, আবেদনপদ্ধতি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ফি এবং সময় জেনে নেওয়া জরুরি। কোনো ব্যক্তি বা অননুমোদিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর আগে সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে নিউইয়র্ক ও ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের উদ্দেশে বলা যায়, নতুন কোনো সরকারি ঘোষণা না আসা পর্যন্ত নভেম্বর মাসে ওই দুই শহরে ক্যাম্প হবে ধরে নিয়ে যাতায়াতের পরিকল্পনা করা উচিত নয়। দূতাবাসের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি থেকেই সর্বশেষ তথ্য যাচাই করতে হবে। সব মিলিয়ে নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী এবং প্রবাসীদের জন্য তিনটি বিষয় বিশেষভাবে নজরে রাখা প্রয়োজন। ৯ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশিক্ষণ ফি প্রস্তাব নিয়ে মতামত জমা দেওয়ার শেষ দিন। ১৫ ডিসেম্বর নারী শিক্ষার্থীদের জন্য পিইও বৃত্তির যোগ্যতা যাচাইয়ের আবেদন শেষ হবে। আর ২৪ নভেম্বর কমিউনিটি সলিউশনস কর্মসূচির আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময়। অন্যদিকে কনস্যুলার সেবার ক্ষেত্রে নিউইয়র্ক ও লস অ্যাঞ্জেলেসের পরিবর্তে সরকারি ঘোষণায় থাকা হিউস্টন, ওয়ারেন ও ডালাসের তারিখগুলো অনুসরণ করতে হবে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও প্রবাসীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্যের ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সরকারি বিজ্ঞপ্তি যাচাই করা। কারণ একটি ভুল তারিখ, ভুল যোগ্যতার তথ্য কিংবা প্রস্তাবিত নিয়মকে কার্যকর আইন হিসেবে ধরে নেওয়া বড় ধরনের আর্থিক ও প্রশাসনিক সমস্যার কারণ হতে প
মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।