সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
নয় অঙ্গরাজ্যে অ-নাগরিক ভোটার তদন্তে বাধা, ট্রাম্প প্রশাসনকে আদালতের নির্দেশমূল্যস্ফীতির চাপে মার্কিন পরিবার, সুদের সিদ্ধান্তের দিকে নজরঅভিবাসন আদালতের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন, চাপের অভিযোগ সাবেক বিচারকেরমূল্যস্ফীতি ও সুদের হার নিয়ে নজর, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ সপ্তাহ শুরু২০২৭ সালের গ্রিন কার্ড লটারি নিয়ে আদালতের নির্দেশ, ট্রাম্প প্রশাসনের আপিলে বাড়ল অনিশ্চয়তা

২০২৭ সালের গ্রিন কার্ড লটারি নিয়ে আদালতের নির্দেশ, ট্রাম্প প্রশাসনের আপিলে বাড়ল অনিশ্চয়তা

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের গ্রিন কার্ড লটারি চালুর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের আপিলের কারণে আবেদন শুরুর সময়সূচি নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

২০২৭ সালের গ্রিন কার্ড লটারি নিয়ে আদালতের নির্দেশ, ট্রাম্প প্রশাসনের আপিলে বাড়ল অনিশ্চয়তা
২০২৭ সালের গ্রিন কার্ড লটারি নিয়ে আদালতের নির্দেশ, ট্রাম্প প্রশাসনের আপিলে বাড়ল অনিশ্চয়তা

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের গ্রিন কার্ড লটারি নিয়ে নতুন করে আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আবেদন শুরুর তারিখ ঘোষণা না করায় দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরকে কর্মসূচিটি পুনরায় চালুর নির্দেশ দিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালত। তবে আদালতের এই নির্দেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। ফলে আবেদনকারীদের জন্য লটারি আবার চালু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত কবে আবেদন শুরু হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার জেলা আদালতের বিচারক জিনসুক ওহতা ১৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে একটি প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। মামলাটি করেছিল রেড ঈগল ল নামের একটি অভিবাসন আইন প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ ছিল, পররাষ্ট্র দপ্তর ২০২৭ অর্থবছরের ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচির আবেদন শুরুর তারিখ ঘোষণা না করায় কার্যত পুরো কর্মসূচি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, ২০২৭ সালের লটারিতে আবেদনপ্রক্রিয়ায় কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে এবং আবেদন শুরুর তারিখ পরে জানানো হবে। কিন্তু এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও আবেদন গ্রহণ শুরু হয়নি। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে আবেদন পিছিয়ে দেওয়ার কথা জানানো হলেও পরে তা অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্থগিত রাখার যথেষ্ট ব্যাখ্যা সরকার দেয়নি। এই কারণেই আদালত কর্মসূচিটি পুনরায় চালুর নির্দেশ দেয়।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সংশোধিত সময়সূচিতে পররাষ্ট্র দপ্তরকে ২৯ অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যে আবেদনসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে এবং ১ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন গ্রহণ শুরু করতে বলা হয়েছে। আবেদন গ্রহণের সময়সীমা ৩০ দিন রাখার কথা রয়েছে। আদালতের নির্দেশে নির্বাচিত আবেদনকারীদের ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে জানানোর সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সরকার আপিল করেছে এবং আদালতের নির্দেশ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার আবেদন জানিয়েছে। এই আবেদনে আদালত কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার ওপর নির্ধারিত সময়সূচি বদলে যেতে পারে।

গ্রিন কার্ড লটারি যুক্তরাষ্ট্রের ডাইভারসিটি ইমিগ্র্যান্ট ভিসা কর্মসূচি নামে পরিচিত। এই কর্মসূচির মাধ্যমে আইন অনুযায়ী প্রতি বছর সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার অভিবাসন ভিসার সুযোগ রাখা হয়। যেসব দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে তুলনামূলক কম মানুষ অভিবাসন করেন, সেসব দেশের যোগ্য আবেদনকারীদের জন্য এই সুযোগ নির্ধারিত থাকে। তবে লটারিতে নির্বাচিত হলেই কেউ নিশ্চিতভাবে গ্রিন কার্ড পান না। নির্বাচিত ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা পূরণ, কাগজপত্র যাচাই, সাক্ষাৎকার এবং অন্যান্য ভিসা-সংক্রান্ত শর্ত সম্পন্ন করতে হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভিসা পাওয়া না গেলে নির্বাচনও স্থায়ী বসবাসের নিশ্চয়তা দেয় না।

২০২৭ সালের আবেদনপ্রক্রিয়ায় পরিবর্তনের কথাও জানিয়েছে পররাষ্ট্র দপ্তর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী আবেদনকারীদের বৈধ পাসপোর্টের তথ্য এবং পাসপোর্টের নির্দিষ্ট পাতার ছবি জমা দেওয়ার শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে। আবেদন ফি হিসেবেও এক ডলারের নিয়ম চালুর কথা রয়েছে। তবে আবেদন করার আগে পররাষ্ট্র দপ্তরের চূড়ান্ত নির্দেশনা দেখে সব শর্ত নিশ্চিত করা জরুরি। অনুমাননির্ভর তথ্য বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অনানুষ্ঠানিক তারিখের ওপর নির্ভর করে আবেদন করা উচিত নয়।

বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতি বছর কোন কোন দেশের নাগরিকেরা লটারিতে অংশ নিতে পারবেন, সেই তালিকা আলাদাভাবে প্রকাশ করা হয়। আগের বছরের তালিকা দেখে ২০২৭ সালের যোগ্যতা নিশ্চিত করা যাবে না। তাই বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে নতুন বছরের সরকারি যোগ্য দেশের তালিকা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। সাধারণত যোগ্যতা নির্ধারণে জন্মদেশ গুরুত্বপূর্ণ; শুধু বর্তমানে কোন দেশে বসবাস করছেন, তা দিয়ে যোগ্যতা নির্ধারিত হয় না।

আদালতের নির্দেশের বিরুদ্ধে প্রশাসনের আপিলের অর্থ এই নয় যে লটারি ইতিমধ্যে বাতিল হয়ে গেছে। আবার আদালত চালুর নির্দেশ দিয়েছেন বলেই আবেদন এখনই শুরু হয়েছে, এমনটিও নয়। আপিলের পাশাপাশি নির্দেশ স্থগিতের আবেদনের নিষ্পত্তি এবং পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা—দুটিই নজরে রাখা প্রয়োজন। আবেদন শুরুর তারিখ, শেষ তারিখ, যোগ্য দেশের তালিকা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে চূড়ান্ত তথ্য পাওয়া যাবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সরকারি ওয়েবসাইটে।

সব মিলিয়ে, ২০২৭ সালের গ্রিন কার্ড লটারি নিয়ে আদালতের নির্দেশ আবেদনপ্রত্যাশীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। কিন্তু সরকারের আপিলের কারণে প্রক্রিয়াটি এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। তাই আবেদনকারীদের উচিত সরকারি ঘোষণা অনুসরণ করা, পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রাখা এবং কোনো অননুমোদিত ব্যক্তি বা ওয়েবসাইটকে অর্থ কিংবা ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার আগে সতর্ক থাকা।

ট্যাগ: গ্রিনকার্ডগ্রিনকার্ডলটারিযুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসনডাইভারসিটি ভিসাভিসাসংবাদ

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।