সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
বাংলাদেশ বিমানের নামে ভুয়া নিয়োগ ফরম, ব্যক্তিগত তথ্য ও টাকা না দিতে সতর্কতাভুয়া চাকরির প্রলোভনে করপোরেট তথ্য চুরি, ২৩২ ওয়েবসাইট নিয়ে সাইবার হামলাচাকরি হারালে বিদেশি কর্মীদের ৬০ দিনের থাকার সুযোগ বাতিলের প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনেরঅন্ধকারে বাড়তে পারে সড়ক দুর্ঘটনা, নিউইয়র্কজুড়ে পুলিশের বিশেষ তৎপরতাআইস আতঙ্কে অপরাধের শিকার হয়েও পুলিশের কাছে যাচ্ছেন না অভিবাসীরা!

চাকরি হারালে বিদেশি কর্মীদের ৬০ দিনের থাকার সুযোগ বাতিলের প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারালে বিদেশি কর্মীদের নতুন চাকরি খোঁজার জন্য পাওয়া ৬০ দিনের সুযোগ বাতিল করতে চায় ট্রাম্প প্রশাসন। এতে বিপাকে পড়তে পারেন হাজারো কর্মী।

চাকরি হারালে বিদেশি কর্মীদের ৬০ দিনের থাকার সুযোগ বাতিলের প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের
চাকরি হারালে বিদেশি কর্মীদের ৬০ দিনের থাকার সুযোগ বাতিলের প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারানো বিদেশি কর্মীদের জন্য বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। নির্দিষ্ট কয়েক ধরনের কর্মভিসায় থাকা বিদেশি কর্মীরা চাকরি হারানোর পর যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ ৬০ দিন পর্যন্ত থাকার যে সুযোগ পান, তা বাতিল করতে চায় দেশটির স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ। প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হলে চাকরি হারানোর পর নতুন চাকরি খোঁজা বা যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য কর্মীরা আগের মতো এই অতিরিক্ত সময় পাবেন না।

২০২৬ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রেজিস্টারে প্রস্তাবটি প্রকাশ করা হয়। দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা বিভাগ এবং স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ যৌথভাবে এ পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে। সরকারি নথিতে বলা হয়েছে, চাকরি বা সংশ্লিষ্ট কাজ বন্ধ হয়ে গেলে কর্মীর ভিসার ভিত্তিও আর আগের মতো বহাল রাখার সুযোগ থাকা উচিত নয় বলে তারা মনে করছে। 

বর্তমান নিয়মে নির্দিষ্ট কিছু কর্মভিসায় থাকা বিদেশি কর্মীরা চাকরি হারালে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের অতিরিক্ত সময় পাওয়ার সুযোগ পান। এই সময়কে বলা হয় অতিরিক্ত থাকার সুযোগ। তবে এটি সবার জন্য নিশ্চিত নয়। অভিবাসন কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই সময় কমাতে বা বাতিল করতে পারে। এই সময়ের মধ্যে কর্মীরা নতুন নিয়োগকর্তা খুঁজতে পারেন, নতুন নিয়োগকর্তার মাধ্যমে ভিসার আবেদন করতে পারেন অথবা যোগ্যতা অনুযায়ী অন্য ধরনের বৈধ অবস্থানের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে এই সময়ের মধ্যে আলাদা অনুমতি ছাড়া কাজ করার সুযোগ থাকে না।

প্রস্তাবিত পরিবর্তনটি কার্যকর হলে এই সুবিধা আর থাকবে না। অর্থাৎ, সংশ্লিষ্ট কর্মীর চাকরি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর কর্মভিসার ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার বৈধতা নিয়েও সমস্যা তৈরি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হতে পারে। নতুন কোনো নিয়োগকর্তা তাঁকে নিয়োগ দিতে চাইলে নতুন করে প্রয়োজনীয় আবেদন করার বিষয়টি বিবেচনায় আসতে পারে। তবে নতুন আবেদন করলেই আগের মতো থাকার সুযোগ নিশ্চিত হবে না।

এই প্রস্তাব শুধু এইচ-১বি ভিসাধারীদের জন্য নয়। এর আওতায় ই-১, ই-২, ই-৩, এইচ-১বি, এইচ-১বি১, এল-১, ও-১ এবং টিএন শ্রেণির কর্মভিসাধারীদের রাখার কথা বলা হয়েছে। এসব কর্মীর নির্দিষ্ট কিছু পরিবারের সদস্যও পরিবর্তনের প্রভাবের মুখে পড়তে পারেন।

এইচ-১বি ভিসা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন পেশায় বিদেশি কর্মীদের নিয়োগের সুযোগ দেয়। প্রযুক্তি, প্রকৌশল, চিকিৎসা ও বিভিন্ন পেশাগত খাতে এই ভিসায় অনেক বিদেশি কাজ করেন। অন্যদিকে এল-১ ভিসায় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা বা ব্যবস্থাপকেরা যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ পান। ও-১ ভিসা দেওয়া হয় বিজ্ঞান, শিক্ষা, ব্যবসা, খেলাধুলা ও শিল্পকলায় বিশেষ দক্ষতা বা স্বীকৃতি থাকা ব্যক্তিদের। ফলে প্রস্তাবটি কার্যকর হলে বিভিন্ন পেশায় কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। 

বিশেষ করে যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন এবং পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন, তাঁদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। চাকরি হারানোর পর নতুন কাজ খুঁজে পাওয়া, পরিবারের বাসস্থান ঠিক রাখা, সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ব্যবস্থা করার জন্য সময় প্রয়োজন হয়। বর্তমান ৬০ দিনের সুযোগ তাঁদের এসব কাজ গুছিয়ে নেওয়ার কিছুটা সময় দেয়। এই সুবিধা বাতিল হলে কর্মী ও তাঁদের পরিবারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।

অভিবাসন আইনজীবী ও অধিকারকর্মীরা প্রস্তাবটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, চাকরি হারানোর পর এত দ্রুত নতুন নিয়োগকর্তা খুঁজে পাওয়া অনেকের জন্য কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানে কর্মী ছাঁটাই হয়, সেখানে বিদেশি কর্মীদের নতুন চাকরি খোঁজার সময় আরও কমে যেতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের যুক্তি, সংশ্লিষ্ট পদগুলোতে যোগ্য মার্কিন কর্মীদের নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হতে পারে। 

এদিকে প্রস্তাবটি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের সরকার সাধারণ মানুষের মতামত নেওয়ার জন্য সময় নির্ধারণ করেছে। ফেডারেল রেজিস্টারের সরকারি নথি অনুযায়ী, ১০ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত এ বিষয়ে লিখিত মতামত জমা দেওয়া যাবে। মতামত পর্যালোচনার পর সরকার প্রস্তাবটি পরিবর্তন, চূড়ান্ত বা বাতিল করতে পারে। তাই এখনই ৬০ দিনের সুযোগ বাতিল হয়ে গেছে বলে মনে করার কারণ নেই।

বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মভিসায় যাওয়া মানুষের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যাঁরা এইচ-১বি বা অন্য কর্মভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করছেন, তাঁদের প্রস্তাবটির অগ্রগতি সম্পর্কে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। তবে নিয়মটি চূড়ান্ত হওয়ার আগে বর্তমান নিয়ম ও ব্যক্তিগত অভিবাসন পরিস্থিতি সম্পর্কে সরকারি তথ্যের ওপর নির্ভর করা উচিত। কারও চাকরি চলে গেলে নিজের ভিসার ধরন ও অবস্থার ভিত্তিতে যোগ্য অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

সব মিলিয়ে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই প্রস্তাব কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারানো নির্দিষ্ট শ্রেণির বিদেশি কর্মীদের জন্য নতুন চাকরি খোঁজা এবং বৈধভাবে অবস্থান বজায় রাখা আরও কঠিন হতে পারে। তবে প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপরই এর বাস্তব প্রভাব নির্ভর করবে।

ট্যাগ: যুক্তরাষ্ট্রএইচ১বি_ভিসাপ্রবাসী_খবরবিদেশে_চাকরি

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।