গাজীপুরের শ্রমিক আন্দোলনে রাজনৈতিক বিতর্ক, সাজবুলকে ঘিরে রাশেদ খানের অভিযোগ
শ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে আন্দোলনের মধ্যে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক।
গাজীপুরের পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শ্রমিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ছাত্রলীগ নেতা সাজবুল ইসলামের বিরুদ্ধে। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ অভিযোগ তুলেছেন।
রোববার (১ নভেম্বর) দেওয়া ওই পোস্টে রাশেদ খাঁন দাবি করেন, গাজীপুরের শ্রমিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন জবি ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজবুল ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা চলছে এবং জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীরাও এতে যুক্ত রয়েছেন।
রাশেদ খাঁনের পোস্টে আরও দাবি করা হয়, ডিসেম্বর মাসকে লক্ষ্য করে একাধিক আন্দোলন গড়ে তোলার অপচেষ্টা চলছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে তিনি কী ধরনের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেয়েছেন, তা পোস্টে বিস্তারিত তুলে ধরেননি।
এদিকে শ্রমিকদের আন্দোলনের পেছনে রয়েছে বেতন বৃদ্ধির দাবি। বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকেরা মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন। ১ নভেম্বর গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিস্থিতির কারণে অন্তত ৪৫টি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পাঁচ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়।
সাজবুল ইসলামের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ২০২৬ সালের ২৯ মে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের এক প্রতিবেদনে তাঁকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তিনি নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দিতেন।
তবে শ্রমিক আন্দোলনে তাঁর সরাসরি নেতৃত্বের অভিযোগ এবং আন্দোলনকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সাজবুল ইসলামের বক্তব্যও এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও অধিকার আদায়ের আন্দোলন এবং সেই আন্দোলনে কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের প্রভাব বা সংশ্লিষ্টতা—দুটি বিষয়ই এখন আলোচনায়। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, আন্দোলনের মাঠপর্যায়ের তথ্য এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্ন উঠছে—শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলনের নেতৃত্ব কি শ্রমিকদের হাতেই রয়েছে, নাকি এর আড়ালে সক্রিয় হচ্ছে রাজনৈতিক শক্তি?






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।