সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
এইচএসসি ফল পুনর্নিরীক্ষণ শুরু, ৭ নভেম্বরের পর আর মিলবে না আবেদনের সুযোগনভেম্বরেও বাড়ল না জ্বালানি তেলের দাম, আগের মূল্যেই মিলবে চার ধরনের জ্বালানিরিয়াদে ভয়াবহ বিমানবন্দর হামলায় আহত প্রবাসীদের পাশে দাঁড়ালেন ফিলিপাইনের শীর্ষ কর্মকর্তারা৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে উত্তাল পোশাকশিল্প, বিক্ষোভে বন্ধ বহু কারখানার উৎপাদনক্যালিফোর্নিয়ায় হ্যালোইন দোকানে গুলিতে অন্তঃসত্ত্বা নারী নিহত, আহত ছয়জন

রিয়াদে ভয়াবহ বিমানবন্দর হামলায় আহত প্রবাসীদের পাশে দাঁড়ালেন ফিলিপাইনের শীর্ষ কর্মকর্তারা

সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় আহত চার ফিলিপিনো কর্মীর খোঁজ নিতে ২৭ অক্টোবর হাসপাতালে সশরীরে যান দেশটির রাষ্ট্রদূত ও অভিবাসীকল্যাণমন্ত্রী।

রিয়াদে ভয়াবহ বিমানবন্দর হামলায় আহত প্রবাসীদের পাশে দাঁড়ালেন ফিলিপাইনের শীর্ষ কর্মকর্তারা
রিয়াদে ভয়াবহ বিমানবন্দর হামলায় আহত প্রবাসীদের পাশে দাঁড়ালেন ফিলিপাইনের শীর্ষ কর্মকর্তারা

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত প্রবাসী কর্মীদের দেখতে হাসপাতালে গেছেন ফিলিপাইনের শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তারা। গত ২৭ অক্টোবর দেশটির সৌদি আরবে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত রেমন্ড বালাতবাত এবং অভিবাসীকল্যাণমন্ত্রী হান্স লিও কাকদাক আহত ফিলিপিনো কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তাঁরা আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে ফিলিপাইন সরকার যে গুরুত্ব দিচ্ছে, এই সফরকে তারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ফিলিপাইনের দূতাবাসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবর রাষ্ট্রদূত রেমন্ড বালাতবাত অভিবাসীকল্যাণমন্ত্রী হান্স লিও কাকদাকের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বিমানবন্দরে হামলায় আহত ফিলিপিনোদের দেখতে যান। প্রতিনিধিদলে ছিলেন অভিবাসীকল্যাণ বিভাগের উপমন্ত্রী জাইনাল রাসুল জুনিয়র এবং সংশ্লিষ্ট শ্রম ও অভিবাসীকল্যাণ দপ্তরের কর্মকর্তারা। তাঁরা আহত কর্মীদের চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চান। পাশাপাশি সৌদি কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় চিকিৎসা ও পরিচর্যার ব্যবস্থা করায় দেশটির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

এর আগে গত ১০ অক্টোবর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় ১২ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক ছাড়াও বাংলাদেশের দুইজন নাগরিক এবং যুক্তরাষ্ট্র, মিসর, জর্ডান, সিরিয়া, ফিলিস্তিন ও সুদানের নাগরিক ছিলেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

হামলার জন্য ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের দায়ী করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেও হুতিদের হামলার দাবি এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য উঠে এসেছে। বিমানবন্দরের যাত্রী টার্মিনাল লক্ষ্য করে চালানো এই হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা পরীক্ষা করার জন্য বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। বিভিন্ন দেশের বিমান সংস্থার উড়োজাহাজ চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে।

তবে ১০ অক্টোবরের হামলার পরদিন, অর্থাৎ ১১ অক্টোবর বিমানবন্দরে আবারও হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলায় আরও একজন নিহত এবং ১১ জন আহত হন বলে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়। ফলে দুই দিনের হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৩ জনে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েক দিনের ব্যবধানে রিয়াদের এই গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর একাধিকবার হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। এ কারণে যাত্রীদের নিরাপত্তা, বিমান চলাচল এবং সৌদি আরবের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে।

এই ঘটনায় ফিলিপিনো অভিবাসী কর্মীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফিলিপাইনের অভিবাসীকল্যাণ বিভাগের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হামলায় প্রথমে দুইজন ফিলিপিনো নাগরিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। পরবর্তী সময়ে আহতের সংখ্যা চারজনে পৌঁছায়। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। রিয়াদে অবস্থিত ফিলিপাইনের অভিবাসী কর্মী দপ্তর এবং প্রবাসীকল্যাণ সংস্থার কর্মকর্তারা আহতদের চিকিৎসার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন। তাঁদের প্রয়োজনীয় সহায়তা, চিকিৎসা এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়েও নজর রাখা হয়।

২০ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, আহত ফিলিপিনোদের মধ্যে তিনজনের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছিল। তাঁদের মধ্যে একজনকে নিবিড় পরিচর্যা থেকে সাধারণ চিকিৎসা ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছিল। আরেকজনকেও সাধারণ ওয়ার্ডে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। একজন তখনো নিবিড় পরিচর্যায় ছিলেন, তবে তাঁর অবস্থার উন্নতির খবর পাওয়া যায়। পরবর্তী সময়ে ২৭ অক্টোবর ফিলিপাইনের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল তাঁদের দেখতে যায়। এই সফরের মাধ্যমে আহত কর্মীদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের বিষয়ে সরকারের সরাসরি নজরদারির বিষয়টি সামনে আসে।

ফিলিপাইনের অভিবাসীকল্যাণমন্ত্রী হান্স লিও কাকদাক আহত কর্মীদের পাশে থাকার পাশাপাশি সৌদি আরবে কর্মরত অন্যান্য ফিলিপিনো নাগরিকের নিরাপত্তার বিষয়েও গুরুত্ব দেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন দপ্তর এবং রিয়াদে ফিলিপাইনের দূতাবাস স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে প্রবাসীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। দূতাবাসের পক্ষ থেকেও নাগরিকদের সতর্ক থাকার এবং সৌদি সরকারের নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ফিলিপাইনের কর্মকর্তারা প্রবাসীদের সামরিক স্থাপনা, তেল স্থাপনা এবং জনসমাগমপূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে সংঘাতপূর্ণ এলাকায় অপ্রয়োজনে যাতায়াত না করা, জরুরি পরিস্থিতিতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করা এবং দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এদিকে সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশে ফিরতে ইচ্ছুক কর্মীদের সহায়তাও করছে ফিলিপাইন সরকার। দেশটির অভিবাসীকল্যাণ বিভাগের ১৬ অক্টোবরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় রিয়াদে আটকে পড়া এবং দেশে ফিরতে আগ্রহী কর্মীদের জন্য প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ২০০ জন কর্মীকে দেশে ফেরানোর পরিকল্পনা করা হয়। তাঁদের মধ্যে ১৪৯ জনের প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। আটকে পড়া কর্মীদের খাবার, অস্থায়ী আশ্রয়, যাতায়াত, আর্থিক সহায়তা এবং চিকিৎসাসেবাও দেওয়া হচ্ছিল।

সৌদি আরবে বিপুলসংখ্যক ফিলিপিনো নাগরিক কাজ করেন। তাঁদের অনেকেই গৃহকর্ম, নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা ও বিভিন্ন পেশাগত খাতে নিয়োজিত। ফলে দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হলে তাঁদের জীবন, জীবিকা এবং পরিবারের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ে। বিমানবন্দরে হামলার পর উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ বা সীমিত হয়ে পড়ায় অনেক কর্মী দেশে ফেরার ক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়েন।

রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় শুধু প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যাই নয়, বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ফিলিপাইনের কর্মকর্তাদের হাসপাতালে গিয়ে আহত কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং প্রত্যাবাসন কার্যক্রম জোরদার করার উদ্যোগ প্রবাসী সুরক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবে কর্মরত বিদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দূতাবাস ও কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।


ট্যাগ: ৌদি আরবরিয়াদ বিমানবন্দরফিলিপাইনপ্রবাসী শ্রমিকবিমানবন্দরে হামলাক্ষেপণাস্ত্র হামলামধ্যপ্রাচ্য সংঘাতআহত প্রবাসীশ্রমিক নিরাপত্তাবাংলাদেশি প্রবাসী

প্রতিবেদক

CSB News USA

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।