যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি কর্মীদের স্বামী-স্ত্রীর কাজের অনুমতির মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়ানোর সুবিধা বন্ধ
যুক্তরাষ্ট্রে নির্দিষ্ট কিছু বিদেশি কর্মীর স্বামী-স্ত্রীর কাজের অনুমতি নবায়নে আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেয়াদ বাড়বে না। তাই নতুন নিয়ম জেনে সময়মতো আবেদন করা জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিদেশি কর্মী ও অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। দেশটির সরকার নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির অভিবাসীদের কাজের অনুমতিপত্রের মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়ানোর সুবিধা বন্ধের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে। ফলে কাজের অনুমতিপত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নবায়নের আবেদন করলেও নতুন অনুমতিপত্র হাতে না পাওয়া পর্যন্ত অনেকেই আগের মতো স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন না। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএস এই নিয়ম চূড়ান্ত করেছে। নতুন চূড়ান্ত নিয়মটি ১৪ অক্টোবর ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে। এর মাধ্যমে আগের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তকে স্থায়ী নিয়মে পরিণত করা হয়েছে।
আগে নির্দিষ্ট শ্রেণির অভিবাসীরা কাজের অনুমতিপত্র বা ইএডি নবায়নের আবেদন সময়মতো জমা দিলে পুরোনো অনুমতিপত্রের মেয়াদ সর্বোচ্চ ৫৪০ দিন পর্যন্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়ানোর সুযোগ পেতেন। এর ফলে নতুন অনুমতিপত্র হাতে পেতে দেরি হলেও অনেকেই চাকরি চালিয়ে যেতে পারতেন। কিন্তু নতুন নিয়মে ৩০ অক্টোবর ২০২৫ বা তার পরে জমা দেওয়া নির্দিষ্ট শ্রেণির নবায়ন আবেদনের ক্ষেত্রে এই স্বয়ংক্রিয় সুবিধা আর পাওয়া যাবে না। অর্থাৎ শুধু আবেদন জমা দেওয়ার রসিদ দেখিয়ে আগের মতো কাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকবে না।
এই পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে পারে এইচ-১বি ভিসাধারীদের যোগ্য স্ত্রী বা স্বামীদের ওপর। তাদের মধ্যে যারা এইচ-৪ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন এবং আলাদা কাজের অনুমতিপত্র ব্যবহার করেন, তারা বিশেষভাবে প্রভাবিত হতে পারেন। একইভাবে যারা যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করেছেন এবং কাজের অনুমতিপত্র নবায়নের অপেক্ষায় রয়েছেন, তাদেরও সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ধরুন একজন অভিবাসীর কাজের অনুমতিপত্রের মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। তিনি নিয়ম অনুযায়ী নতুন অনুমতিপত্রের আবেদন জমা দিলেন। আগে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে নতুন কার্ড হাতে না পেলেও তিনি সর্বোচ্চ ৫৪০ দিন পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যেতে পারতেন। কিন্তু নতুন নিয়মে সেই স্বয়ংক্রিয় সুবিধা আর থাকবে না। ফলে পুরোনো কার্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নতুন অনুমতি না এলে তাকে সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রাখতে হতে পারে।
এর ফলে শুধু কর্মীরাই নয়, তাদের নিয়োগকর্তারাও সমস্যায় পড়তে পারেন। কারণ কোনো কর্মীর কাজের অনুমতির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে নতুন অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান তাকে কাজে রাখতে পারবে না, যদি তার অন্য কোনো বৈধ কাজের অনুমতি না থাকে। এতে কর্মীর আয় বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের কাজেও বিঘ্ন ঘটতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, অভিবাসীদের কাজের অনুমতি নবায়নের আগে তাদের যোগ্যতা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয় আরও ভালোভাবে যাচাই করার উদ্দেশ্যে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। সরকারের মতে, শুধু নবায়নের আবেদন জমা দেওয়ার কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজের অনুমতি বাড়ানো উচিত নয়।
তবে নতুন নিয়মটি সবার জন্য এক নয়। যেসব নবায়ন আবেদন ৩০ অক্টোবর ২০২৫-এর আগে জমা দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর ক্ষেত্রে আগের নিয়ম অনুযায়ী প্রযোজ্য স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধা বহাল থাকতে পারে। এ ছাড়া আইন বা সরকারি বিশেষ ঘোষণার মাধ্যমে যেসব ক্ষেত্রে আলাদা সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেগুলোও ব্যতিক্রম হতে পারে। বিশেষ করে নির্দিষ্ট কিছু সাময়িক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় থাকা ব্যক্তিদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকতে পারে।
বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য খবরটি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যারা এইচ-১বি কর্মীদের পরিবারের সদস্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন অথবা গ্রিন কার্ডের আবেদন করে কাজের অনুমতিপত্র ব্যবহার করছেন, তাদের নিজেদের অনুমতিপত্রের মেয়াদ ভালোভাবে খেয়াল রাখা উচিত।
কাজের অনুমতিপত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করা এবং আবেদনটির অগ্রগতি নিয়মিত দেখা জরুরি। শুধু আবেদন জমা দেওয়ার রসিদ হাতে থাকলেই কাজ চালিয়ে যাওয়া যাবে—এমন ধারণা করা ঠিক হবে না। নিজের নির্দিষ্ট অভিবাসন অবস্থার বিষয়ে ইউএসসিআইএসের নির্দেশনা এবং প্রয়োজনে অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া উচিত।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।