সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
জ্বালানি সংকটে কম্বোডিয়ায় দুই শতাধিক যাত্রীকে ফেলে বন্ধ হলো বিলাসবহুল প্রমোদতরিএইচএসসির ফলে বড় ধাক্কা, পাসের হার কমে ৫২ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেলেন ৪০ হাজার শিক্ষারমৃত্যুদণ্ডের ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর তীব্র যন্ত্রণায় দিন কাটছে ক্রিস্টা পাইকেরজর্জিয়ায় বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ গ্রেপ্তার, যৌন অসদাচরণের দুই অভিযোগে তদন্ত ঘিরে চাঞ্চল্যসৌদির আগুনে প্রাণ হারানো ১৬ বাংলাদেশির শেষ সাতজনের মরদেহ ফিরল দেশে

জনমতে পিছিয়ে রিপাবলিকানরা, শেষ মুহূর্তে সমাবেশ ফিরিয়ে ভোটার টানতে মরিয়া ট্রাম

নির্বাচনের আগে কানসাস ও আইওয়ায় বাতিল হওয়া সমাবেশ ফিরিয়ে এনেছেন ট্রাম্প; রিপাবলিকানদের ভোট বাড়াতে শেষ মুহূর্তে প্রচারে নতুন গতি আনছেন তিনি।

জনমতে পিছিয়ে রিপাবলিকানরা, শেষ মুহূর্তে সমাবেশ ফিরিয়ে ভোটার টানতে মরিয়া ট্রাম
জনমতে পিছিয়ে রিপাবলিকানরা, শেষ মুহূর্তে সমাবেশ ফিরিয়ে ভোটার টানতে মরিয়া ট্রাম

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে নির্বাচনী প্রচারসূচিতে নাটকীয় পরিবর্তন এনেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রথমে কানসাস ও আইওয়ায় নির্ধারিত দুটি সরাসরি নির্বাচনী সমাবেশ বাতিল করার পর শুক্রবার আবারও সেগুলো আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে এই সিদ্ধান্ত রিপাবলিকানদের ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর প্রচেষ্টায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে প্রচারসূচির এই পরিবর্তনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হলেও এর পেছনে একাধিক সাংগঠনিক ও নির্বাচনী কারণ রয়েছে।

এএফপির ৩০ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প বৃহস্পতিবার কানসাস ও আইওয়ায় সরাসরি নির্বাচনী সমাবেশ বাতিল করেছিলেন। শুক্রবার তাঁর প্রচারসূচিতে আবারও ওই দুটি সমাবেশ অন্তর্ভুক্ত করা হয়। দলীয় সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী রোববার কানসাস ও আইওয়ায় পরপর দুটি সমাবেশে অংশ নেবেন ট্রাম্প। পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে প্রায় ২০টি টেলিফোনভিত্তিক প্রচার অনুষ্ঠানে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। আল জাজিরার ৩১ অক্টোবরের প্রতিবেদনেও সমাবেশ পুনর্বহালের বিষয়টি উঠে এসেছে।

প্রথমে সমাবেশ বাতিলের সিদ্ধান্তের পর ট্রাম্পের শারীরিক অবস্থা এবং দীর্ঘ প্রচারযাত্রার চাপ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তবে ট্রাম্প নিজেই অসুস্থতার ধারণা প্রত্যাখ্যান করে বলেছিলেন, তিনি ভালো আছেন। কানসাসে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও তিনি মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, অঙ্গরাজ্যটিতে রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শাল ভালো অবস্থানে রয়েছেন এবং দলটি নির্বাচনে শক্তিশালী ফল করতে পারে। পরে সমাবেশ পুনর্বহালের সিদ্ধান্তে প্রচারসূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা কমলেও নির্বাচনী প্রতিযোগিতার গুরুত্ব স্পষ্ট হয়েছে।

কানসাস ও আইওয়া দুটি অঙ্গরাজ্যই ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পকে সমর্থন করেছিল। কিন্তু এবার কংগ্রেসের নির্বাচনে কয়েকটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসন রিপাবলিকানদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। কানসাসে রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শালের প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিলটন। অন্যদিকে আইওয়ায় রিপাবলিকান প্রতিনিধি অ্যাশলি হিনসনের সঙ্গে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জশ টুরেকের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঘনিষ্ঠ বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে শেষ মুহূর্তে ট্রাম্পের সরাসরি উপস্থিতি দলীয় সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৩ নভেম্বর। এ নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের সব আসন এবং সিনেটের একাংশের জন্য ভোট হবে। নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করবে কংগ্রেসের দুই কক্ষে কোন দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারবে। ট্রাম্প নিজে এ নির্বাচনে প্রার্থী নন, তবে তাঁর প্রশাসনের নীতি, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং জনসমর্থন নির্বাচনী আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। রিপাবলিকানরা বর্তমানে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার চেষ্টা করছে।

আল জাজিরার ৩১ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতীয় পর্যায়ের কংগ্রেসভিত্তিক জনমত জরিপে ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে রয়েছেন। রিয়েলক্লিয়ারপোলিংয়ের গড় হিসাবে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন ৫১ দশমিক ৪ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের ৪৩ দশমিক ২ শতাংশ। ব্যবধান ৮ দশমিক ২ শতাংশ পয়েন্ট। এই পরিসংখ্যান নির্বাচনের আগে ডেমোক্র্যাটদের জাতীয় পর্যায়ের সুবিধার ইঙ্গিত দিলেও প্রতিটি অঙ্গরাজ্য কিংবা আসনের ফল একই হবে এমন নিশ্চয়তা দেয় না।

জাতীয় জরিপের পাশাপাশি স্থানীয় নির্বাচনী প্রতিযোগিতার গুরুত্বও অনেক বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থা অঙ্গরাজ্যভিত্তিক ও আসনভিত্তিক হওয়ায় জাতীয় ভোটের গড় থেকে কংগ্রেসের চূড়ান্ত আসনসংখ্যা সরাসরি অনুমান করা যায় না। কোনো দলের জাতীয় সমর্থন বেশি থাকলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অঙ্গরাজ্য বা নির্দিষ্ট আসনে ভোটের ব্যবধান খুব কম হতে পারে। এ কারণে দুই দলই শেষ মুহূর্তে স্থানীয় প্রচার, সমাবেশ এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে জোর দিচ্ছে।

নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্পের আরেকটি আলোচিত বিষয় হলো প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিককে পাঁচ হাজার ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি। তিনি বলেছেন, রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট দুই কক্ষেই জয়ী হলে এই অর্থ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে এটি এখনো রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি; কোনো সরকারি অর্থপ্রদান শুরু হয়নি। এ ধরনের অর্থ বিতরণ বাস্তবায়নে আইনগত অনুমোদন, অর্থের উৎস এবং কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন হতে পারে। ফলে প্রতিশ্রুতিটিকে নিশ্চিত আর্থিক সুবিধা হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না।

নির্বাচনের আগে অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সরকারের নীতির প্রশ্ন ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। ডেমোক্র্যাটরা জাতীয় জরিপে এগিয়ে থাকলেও রিপাবলিকানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোতে প্রতিযোগিতা এখনো উন্মুক্ত। ট্রাম্পের সমাবেশ পুনর্বহাল তাই একদিকে দলীয় কর্মীদের উৎসাহিত করার প্রচেষ্টা, অন্যদিকে নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে ভোটারদের সক্রিয় করার কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে সমাবেশে উপস্থিত মানুষের সংখ্যা কিংবা প্রচারসূচির পরিবর্তন একাই নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করে না। আগাম ভোট, স্থানীয় প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা, ভোটার উপস্থিতি এবং নির্বাচনী এলাকার জনমিতিক বৈশিষ্ট্যও ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ৩ নভেম্বরের ভোটের আগে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত রিপাবলিকান প্রচারে গতি আনতে পারে, কিন্তু কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে যাবে, তা নির্ধারিত হবে ভোট গণনার পরেই।


ট্যাগ: োনাল্ড ট্রাম্পযুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনমধ্যবর্তী নির্বাচনরিপাবলিকান দলডেমোক্র্যাট দলনির্বাচনী প্রচারভোটার উপস্থিতিকংগ্রেস নির্বাচনজনমত জরিপ

প্রতিবেদক

CSB News USA

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।