যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব অনুমোদন ৭২ শতাংশ কমেছে, অপেক্ষায় প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার অভিবাসী
যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়া ধীর হয়ে গেছে। অনুমোদন কমায় বিপাকে পড়েছেন লাখ লাখ গ্রিন কার্ডধারী অভিবাসী।
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন নাগরিকত্ব অনুমোদনের সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমে গেছে। গত বছরের তুলনায় ২০২৬ সালে নাগরিকত্বের আবেদন অনুমোদনের হার প্রায় ৭২ শতাংশ কমেছে। এর ফলে প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার অভিবাসী আগের গতিতে নাগরিকত্ব পেলে যে সুযোগ পেতে পারতেন, তা থেকে পিছিয়ে পড়েছেন। নাগরিকত্বের অপেক্ষায় থাকা এসব অভিবাসীর মধ্যে অনেকেই আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগও হারাতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস) ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত প্রায় ৫৫ হাজার নাগরিকত্বের আবেদন অনুমোদন করেছে। অথচ আগের বছরের একই সময়ে অনুমোদনের সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৩০ হাজারের বেশি।
ইউএসসিআইএসের ত্রৈমাসিক তথ্য বিশ্লেষণেও নাগরিকত্ব অনুমোদনের বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। ২০২৬ অর্থবছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত প্রায় ৫৭ হাজার ৭০০টি আবেদন অনুমোদিত হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ২ লাখ ৪১ হাজার ৩০০। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে অনুমোদন কমেছে প্রায় ৭৬ শতাংশ। ওয়াশিংটন পোস্টের ২৩ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে প্রায় ১ লাখ ৭৩ হাজার মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেয়েছেন। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা ৭২ শতাংশ কম। একই সঙ্গে নাগরিকত্বের জন্য অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা বেড়ে আগস্ট মাসে ৮ লাখ ছাড়িয়েছে।
নাগরিকত্ব অনুমোদন কমে যাওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে আবেদন যাচাইয়ের নিয়ম কঠোর করা, ইংরেজি ভাষার দক্ষতা যাচাই এবং নাগরিকত্ব পরীক্ষায় পরিবর্তন। পাশাপাশি আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম এবং ব্যক্তিগত তথ্যও আরও গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে।মার্কিন অভিবাসন কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, নাগরিকত্বের আবেদন যাচাই আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। আবেদনকারীর ভালো নৈতিক চরিত্র, সংবিধানের প্রতি আনুগত্য এবং প্রয়োজনীয় যোগ্যতা নিশ্চিত করতেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তাদের বক্তব্য, যোগ্যতা যাচাই না করে কাউকে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে না।
তবে অভিবাসন অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বলছে, আবেদন প্রক্রিয়া অতিরিক্ত ধীর হয়ে যাওয়ায় বৈধ অভিবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। অনেক আবেদনকারী সাক্ষাৎকার দেওয়ার পরও দীর্ঘদিন ধরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন। কারও কারও নাগরিকত্ব গ্রহণের শপথ অনুষ্ঠানের তারিখও পিছিয়ে যাচ্ছে।নাগরিকত্ব অনুমোদন কমার পাশাপাশি আবেদন প্রত্যাখ্যানের সংখ্যাও কমেছে। ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে প্রত্যাখ্যানের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ৪১ শতাংশ কম ছিল। অর্থাৎ শুধু বেশি আবেদন বাতিল হচ্ছে, এমন নয়; বরং আগের তুলনায় অনেক কম আবেদন নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য নাগরিকত্ব প্রয়োজন হয়। ফলে যারা এখনো নাগরিকত্ব পাননি, তারা নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না। তবে ৩ লাখ ৮০ হাজারের হিসাবটি সরাসরি প্রত্যাখ্যাত আবেদনকারীর সংখ্যা নয়; আগের অনুমোদনের গতি বজায় থাকলে আনুমানিক কতজন নতুন নাগরিক হতে পারতেন, তার একটি হিসাব। নাগরিকত্ব অনুমোদনের এই ধীরগতি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত লাখ লাখ বৈধ অভিবাসীর জন্য নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ড নিয়ে বসবাস করছেন এবং নাগরিকত্বের আবেদন করেছেন, এমন অনেক মানুষ এখন অপেক্ষার মধ্যে রয়েছেন।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।