সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
৪৪৬ মিলিয়ন ডলারের চমক! মার্কিন নির্বাচনে ইতিহাসের সর্বোচ্চ অর্থ ঢাললেন ইলন মাস্কনভেম্বর মাসেও বাড়ছে না জ্বালানি তেলের দাম, আগের মূল্যেই বিক্রি চলবে দেশজুড়েযুক্তরাজ্যে সপ্তাহে ছয়শ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সম্মানজনক পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাইহানা আহমেদজাপান সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী, ছয় চুক্তিতে খুলছে অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্তওরেগনে আকাশে দুই হেলিকপ্টারের ভয়াবহ সংঘর্ষ, তিন আরোহীর মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া।

যুক্তরাজ্যে সপ্তাহে ছয়শ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সম্মানজনক পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাইহানা আহমেদ

খাদ্য অপচয় রোধ ও দরিদ্র পরিবারের সহায়তায় কাজ করে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ছয়শ মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে সেন্ট অ্যালবানস কমিউনিটি প্যান্ট্রি।

যুক্তরাজ্যে সপ্তাহে ছয়শ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সম্মানজনক পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাইহানা আহমেদ
যুক্তরাজ্যে সপ্তাহে ছয়শ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সম্মানজনক পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাইহানা আহমেদ

যুক্তরাজ্যে খাদ্যসংকটে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং খাবারের অপচয় রোধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি পেয়েছেন রাইহানা আহমেদ। তাঁর প্রতিষ্ঠিত সেন্ট অ্যালবানস কমিউনিটি প্যান্ট্রির মাধ্যমে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ছয়শ মানুষের কাছে খাদ্যসহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ যুক্তরাজ্যের মর্যাদাপূর্ণ প্রাইড অব ব্রিটেন সম্মাননায় স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০২৬ সালের এই সম্মাননার লন্ডন ও হোম কাউন্টিজ অঞ্চলের তহবিল সংগ্রাহক বিভাগে বিজয়ী হয়েছেন তিনি। তাঁর এই অর্জন প্রবাসে মানবসেবা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এক অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত হিসেবে আলোচনায় এসেছে।

যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম আইটিভির তথ্য অনুযায়ী, রাইহানা আহমেদ সেন্ট অ্যালবানস কমিউনিটি প্যান্ট্রির প্রতিষ্ঠাতা। খাদ্য অপচয় কমানো এবং আর্থিক সংকটে থাকা পরিবারগুলোর কাছে ব্যবহারযোগ্য খাবার পৌঁছে দেওয়াই প্রতিষ্ঠানটির প্রধান লক্ষ্য। স্থানীয় বিপণিবিতান, খাদ্য উৎপাদক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উদ্বৃত্ত খাবার সংগ্রহ করে সেগুলো প্রয়োজনীয় মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়। এর ফলে একদিকে খাবার নষ্ট হওয়া কমছে, অন্যদিকে খাদ্যসংকটে থাকা পরিবারগুলোও প্রয়োজনীয় সহায়তা পাচ্ছে।

২০২০ সালে করোনাভাইরাসের মহামারির সময় যুক্তরাজ্যে কঠোর বিধিনিষেধ চলাকালে এই উদ্যোগের সূচনা হয়। তখন বহু মানুষ চাকরি হারিয়ে, আয় কমে গিয়ে কিংবা ব্যবসায়িক ক্ষতির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার কেনার সামর্থ্য হারান। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিবেশীদের খাদ্যসহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেন রাইহানা ও তাঁর স্বামী। প্রথম দিকে নিজেদের বাড়ি থেকেই কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো। পরে উদ্যোগটির পরিধি বাড়লে বন্ধ থাকা অ্যাবে থিয়েটারে খাবার প্রস্তুত ও বিতরণের কাজ শুরু হয়।

প্রথম দিকে তাঁদের ধারণা ছিল, মহামারির সংকট কেটে গেলে মানুষের খাদ্যসহায়তার প্রয়োজনও কমে যাবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, মহামারি-পরবর্তী সময়েও বহু পরিবার খাদ্যসংকট থেকে বের হতে পারছে না। বরং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, বাড়িভাড়া, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য বিলের চাপের কারণে নতুন নতুন পরিবার সহায়তার প্রয়োজন অনুভব করছে। ফলে ছোট পরিসরে শুরু হওয়া উদ্যোগটি ধীরে ধীরে একটি বড় সামাজিক সহায়তা কার্যক্রমে রূপ নেয়।

সেন্ট অ্যালবানস কমিউনিটি প্যান্ট্রির কার্যক্রমের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো মানুষের মর্যাদা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে গুরুত্ব দেওয়া। প্রচলিত অনেক খাদ্যসহায়তা কার্যক্রমের মতো এখানে সহায়তা পাওয়ার জন্য দীর্ঘ আবেদনপ্রক্রিয়া বা ভাউচারের বাধ্যবাধকতা নেই। স্থানীয় কমিউনিটি ফ্রিজ ও রুটির সংগ্রহশালার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় মানুষ খাবার সংগ্রহ করতে পারেন। পাশাপাশি যাঁরা অসুস্থতা, বয়স কিংবা চলাচলের অসুবিধার কারণে বাইরে যেতে পারেন না, তাঁদের বাড়িতেও তাজা খাবারের বাক্স পৌঁছে দেওয়া হয়।

প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রতি সপ্তাহে প্রায় চারশ মানুষের কাছে তাজা ফলমূল ও শাকসবজির বাক্স পৌঁছে দেওয়া হয়। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক খাদ্যসহায়তা কার্যক্রমের আওতায় প্রায় ছয়শ মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছানোর তথ্য স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। অর্থাৎ ছয়শ মানুষের কাছে সহায়তার বিষয়টি বিভিন্ন ধরনের সেবার সম্মিলিত পরিসর হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

প্রতিষ্ঠানটি শুধু খাদ্য বিতরণেই সীমাবদ্ধ নয়। উদ্বৃত্ত খাবার সংগ্রহ, খাবার বাছাই, জরুরি খাদ্যসামগ্রীর বাক্স প্রস্তুত, বাড়িতে খাবার পৌঁছে দেওয়া এবং স্থানীয় মানুষের জন্য সম্মিলিত খাবারের আয়োজনও এর কার্যক্রমের অংশ। খাদ্যসহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে পরিবারগুলোর খাদ্যাভ্যাস, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং বিশেষ প্রয়োজন বিবেচনা করা হয়। বিভিন্ন ভাষায় কথা বলতে পারেন এমন স্বেচ্ছাসেবীদের অংশগ্রহণের কারণে নানা দেশের ও সংস্কৃতির মানুষও সহজে সেবা নিতে পারেন।

এই পুরো কার্যক্রম পরিচালনায় স্বেচ্ছাসেবীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় বিপণিবিতান থেকে উদ্বৃত্ত খাবার সংগ্রহ, সেগুলো নিরাপদভাবে বাছাই, সংরক্ষণ, প্যাকেট তৈরি এবং নির্দিষ্ট পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মতো কাজ তাঁরা নিয়মিত করেন। প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে কয়েক ডজন স্বেচ্ছাসেবী যুক্ত রয়েছেন। পুরস্কার পাওয়ার পর রাইহানা এই অর্জনের কৃতিত্ব নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তাঁর সহযোগী ও স্বেচ্ছাসেবীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে গুরুত্ব দিয়েছেন।

রাইহানার এই উদ্যোগের পেছনে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও রয়েছে। ২০২৩ সালে প্রকাশিত স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সেন্ট অ্যালবানস টাইমসের এক প্রতিবেদনে উঠে আসে, সন্তানসম্ভবা অবস্থায় গুরুতর শারীরিক সমস্যার কারণে তাঁকে কাজ থেকে বিরত থাকতে হয়েছিল। একই সময়ে তাঁর স্বামীও চাকরি হারান। ফলে পরিবারটি নিজেরাও আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে পরিবারের সহযোগিতায় পরিস্থিতি সামলে ওঠার পর অন্যদের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিজ্ঞা করেন তাঁরা। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই মানুষের খাদ্যসংকট উপলব্ধি করার সুযোগ পান রাইহানা।

প্রতিষ্ঠানটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো খাদ্যের অপচয় কমিয়ে পরিবেশের ওপর চাপ হ্রাস করা। ব্যবহারযোগ্য খাবার ফেলে না দিয়ে তা প্রয়োজনীয় মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে একই সঙ্গে দুটি সামাজিক সমস্যার সমাধানে কাজ করছে সংগঠনটি। খাদ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে পরিবহন ও সংরক্ষণ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে সম্পদের ব্যবহার হয়। খাবার নষ্ট হলে এসব সম্পদেরও অপচয় ঘটে। তাই উদ্বৃত্ত খাবার পুনর্বণ্টনের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

যুক্তরাজ্যের প্রাইড অব ব্রিটেন সম্মাননা সাধারণ মানুষের অসাধারণ মানবিক কাজ, সাহসিকতা এবং সমাজের জন্য অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্দেশ্যে আয়োজন করা হয়। ২০২৬ সালের আঞ্চলিক তহবিল সংগ্রাহক বিভাগে রাইহানার স্বীকৃতি তাঁর দীর্ঘদিনের কাজকে বৃহত্তর পরিসরে পরিচিত করেছে। তবে আঞ্চলিক বিজয়ী হওয়া এবং জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত বিজয়ী হওয়া আলাদা বিষয়।

পুরস্কার অর্জনের পরও রাইহানার সামনে রয়েছে আরও বড় দায়িত্ব। খাদ্যসহায়তার প্রয়োজন রয়েছে এমন মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকায় স্বেচ্ছাসেবী, খাদ্যদাতা এবং আর্থিক সহযোগিতার প্রয়োজনও বাড়ছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে নতুন স্বেচ্ছাসেবী ও সহযোগীদের যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

রাইহানা আহমেদের উদ্যোগ দেখিয়েছে, উন্নত দেশেও খাদ্যসংকট অনেক পরিবারের নীরব বাস্তবতা হতে পারে। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে শুরু হওয়া একটি মানবিক উদ্যোগ কীভাবে অসংখ্য মানুষের জীবনে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে পারে, সেন্ট অ্যালবানস কমিউনিটি প্যান্ট্রি তার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। তাঁর এই স্বীকৃতি প্রবাসী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষের সামাজিক অবদানকেও নতুন করে সামনে এনেছে।


ট্যাগ: রাইহানা আহমেদপ্রাইড অব ব্রিটেনযুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশিমানবসেবাখাদ্যসহায়তাসেন্ট অ্যালবানসসমাজসেবাখাদ্য অপচয় রোধস্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম।

প্রতিবেদক

CSB News USA

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।