সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
যুক্তরাজ্যে সপ্তাহে ছয়শ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সম্মানজনক পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাইহানা আহমেদজাপান সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী, ছয় চুক্তিতে খুলছে অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্তওরেগনে আকাশে দুই হেলিকপ্টারের ভয়াবহ সংঘর্ষ, তিন আরোহীর মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া।গ্যাস থেকে পারমাণবিক বিদ্যুৎ, বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে বড় সুযোগ দেখছে যুক্তরাষ্ট্রবাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণে বড় সুখবর, প্রস্তুতির জন্য আরও তিন বছর সময় দিল জাতিসংঘ

গ্যাস থেকে পারমাণবিক বিদ্যুৎ, বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে বড় সুযোগ দেখছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ; আলোচনায় এলএনজি সরবরাহ, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান এবং ক্ষুদ্র পারমাণবিক চুল্লি প্রযুক্তির সম্ভাবনা।

গ্যাস থেকে পারমাণবিক বিদ্যুৎ, বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে বড় সুযোগ দেখছে যুক্তরাষ্ট্র
গ্যাস থেকে পারমাণবিক বিদ্যুৎ, বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে বড় সুযোগ দেখছে যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের গ্যাস, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং জ্বালানি অবকাঠামো খাতে আরও কাজ করতে চায়। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র মডুলার পারমাণবিক চুল্লি প্রযুক্তি নিয়েও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। এতে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ উৎপাদন, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

৩০ অক্টোবর প্রকাশিত ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। ঢাকায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বিক্রির কয়েকটি প্রস্তাব বর্তমানে সরকারি অনুমোদনের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। শিগগিরই আরও কয়েকটি সরবরাহ চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিজেদের জ্বালানি রপ্তানিও বাড়াতে আগ্রহী।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের বাজারের সম্ভাব্য সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দেওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী বছর এ বাজারের আকার প্রায় ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে। ২০৫০ সালের মধ্যে তা ৩০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে এগুলো ভবিষ্যৎ বাজারের অনুমান, নিশ্চিত বিনিয়োগ বা বাস্তবায়িত বাণিজ্যিক চুক্তির পরিমাণ নয়।

বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের পেছনে রয়েছে দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা এবং আমদানিনির্ভরতা। দেশের পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন কমে আসার বিপরীতে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও অন্যান্য খাতে গ্যাসের চাহিদা বাড়ছে। ফলে চাহিদা পূরণে বিদেশ থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।

বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। কাতার বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহকারী দেশ। সেখান থেকে সরবরাহ ব্যাহত হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পকারখানায় গ্যাসের সংকট দেখা দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রসহ বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এর আগে ১২ আগস্ট ২০২৬ বাংলাদেশ সরকার মার্কিন প্রতিষ্ঠান গানভর ইউএসএ থেকে ২০২৬ থেকে ২০৩৮ সালের মধ্যে মোট ১১৭টি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের চালান আমদানির দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তাব অনুমোদন করে। এই ব্যবস্থা বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘ সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে গ্যাস সংগ্রহের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহের উৎস বাড়ানো এবং একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানো সম্ভব হতে পারে।

এদিকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশের বাজারে আরও সক্রিয় হতে আগ্রহী। দেশটির জ্বালানি সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান জিই ভারনোভাও বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা দেখছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন, বিদ্যুৎকেন্দ্রের আধুনিকায়ন এবং জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

জ্বালানি সহযোগিতার পাশাপাশি আলোচনায় এসেছে ক্ষুদ্র মডুলার পারমাণবিক চুল্লি প্রযুক্তি। প্রচলিত বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের তুলনায় এসব চুল্লি ছোট আকারের এবং তুলনামূলক কম বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতার হয়ে থাকে। নির্দিষ্ট নকশা অনুযায়ী এগুলো কারখানায় তৈরি করে স্থাপনস্থলে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে এ প্রযুক্তির নির্মাণব্যয়, নিরাপত্তাব্যবস্থা, জ্বালানি সরবরাহ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

২৬ আগস্ট ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইটের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি, ক্ষুদ্র মডুলার চুল্লি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তি বিনিময়ের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আধুনিক ও নিরাপদ পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছিল।

এরপর ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক সহযোগিতার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে জ্যাকব হেলবার্গ এতে স্বাক্ষর করেন। দুই দেশের মধ্যে পারমাণবিক নিরাপত্তা, সুরক্ষা, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের বিষয়গুলো এই উদ্যোগে গুরুত্ব পেয়েছে।

তবে এই সমঝোতা স্মারককে বাংলাদেশে ক্ষুদ্র মডুলার পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণের চূড়ান্ত অনুমোদন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো প্রকল্পের নির্মাণস্থান, অর্থায়ন, নির্দিষ্ট ব্যয় কিংবা বাস্তবায়নের সময়সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে বিষয়টি এখনো সম্ভাব্য প্রযুক্তিগত ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার পর্যায়ে রয়েছে।

বাংলাদেশের জন্য এ ধরনের প্রযুক্তির সম্ভাব্য সুফল রয়েছে। ভবিষ্যতে বিদ্যুতের নতুন উৎস তৈরি, প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উন্নত পারমাণবিক ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ হতে পারে। তবে কোনো প্রকল্প গ্রহণের আগে এর উৎপাদন ব্যয়, নিরাপত্তা, পরিবেশগত প্রভাব এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সুবিধা যাচাই করা জরুরি।

পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুসরণ, দক্ষ জনবল তৈরি এবং তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য প্রকল্পের অর্থায়ন, ঋণের শর্ত এবং বিদ্যুতের উৎপাদনমূল্য সাধারণ মানুষের সামর্থ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দীর্ঘমেয়াদি গ্যাস আমদানির ক্ষেত্রেও সতর্কতা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে গেলে আমদানি ব্যয় বাড়তে পারে। তাই সরবরাহের উৎস বাড়ানোর পাশাপাশি মূল্য নির্ধারণের শর্ত, পরিবহন ব্যয় এবং চুক্তির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের বিবেচনায়, শুধু আমদানির ওপর নির্ভর না করে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালনব্যবস্থার উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতার ক্ষেত্রে প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষ জনবল তৈরি এবং দেশের নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে নতুন বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে এই আগ্রহ কতটা বাস্তব প্রকল্পে রূপ নেবে, তা নির্ভর করবে দুই দেশের আলোচনা, বাণিজ্যিক চুক্তি, অর্থায়ন এবং বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের ওপর। শেষ পর্যন্ত সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ বিদ্যুৎ নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত এ সহযোগিতার প্রধান লক্ষ্য।


ট্যাগ: বাংলাদেশযুক্তরাষ্ট্রজ্বালানি সহযোগিতাপারমাণবিক প্রযুক্তিক্ষুদ্র মডুলার চুল্লিবিদ্যুৎ উৎপাদনজ্বালানি নিরাপত্তাগ্যাস আমদানিরূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

প্রতিবেদক

CSB News USA

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।