সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
৪৪৬ মিলিয়ন ডলারের চমক! মার্কিন নির্বাচনে ইতিহাসের সর্বোচ্চ অর্থ ঢাললেন ইলন মাস্কনভেম্বর মাসেও বাড়ছে না জ্বালানি তেলের দাম, আগের মূল্যেই বিক্রি চলবে দেশজুড়েযুক্তরাজ্যে সপ্তাহে ছয়শ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সম্মানজনক পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাইহানা আহমেদজাপান সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী, ছয় চুক্তিতে খুলছে অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্তওরেগনে আকাশে দুই হেলিকপ্টারের ভয়াবহ সংঘর্ষ, তিন আরোহীর মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া।

জাপান সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী, ছয় চুক্তিতে খুলছে অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত

চার দিনের জাপান সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও উন্নয়ন সহযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে।

জাপান সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী, ছয় চুক্তিতে খুলছে অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত
জাপান সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী, ছয় চুক্তিতে খুলছে অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত

জাপানের চার দিনের সরকারি সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দিবাগত রাত ২টা ৪৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গী দলের সদস্যরা। জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে এই সফর অনুষ্ঠিত হয়।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে গত ২৬ অক্টোবর টোকিও যান তারেক রহমান। চার দিনের সফরে তিনি দেশটির সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান সরকারের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ নূরুল ইসলাম মনি এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি। এ সময় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার যাত্রায় কিছুটা বিলম্ব ঘটে। জাপানের নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার উদ্দেশে উড়োজাহাজটির যাত্রা করার কথা থাকলেও উড্ডয়নের আগে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। ফলে নির্ধারিত সময়ের প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর উড়োজাহাজটি যাত্রা শুরু করে। কারিগরি সমস্যার কারণে উড়োজাহাজটি আবার নির্ধারিত স্থানে ফিরিয়ে আনা হয়। পরে যাত্রীদের নামিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রকৌশলী দল এবং জাপানি প্রযুক্তিবিদদের সহায়তায় সমস্যাটি সমাধান করা হয়। এরপর রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে উড়োজাহাজটি নারিতা বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক। টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি গুরুত্ব পায়। দুই দেশের নেতারা বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার বিষয়েও আলোচনা করেন।

সফরের অন্যতম বড় অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে জাপানি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে। জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে জাপানি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য বিনিয়োগ এক লাখ কোটি ইয়েনে পৌঁছাতে পারে। এই বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে প্রায় দুই লাখ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। তবে এটি ইতিমধ্যে সম্পন্ন বিনিয়োগ নয়; বরং সম্ভাব্য বিনিয়োগের পরিকল্পনা।

বাংলাদেশে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন, জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং দক্ষ কর্মী তৈরির ক্ষেত্রে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ অর্থনীতিতে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে উৎপাদনশিল্প, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে জাপানের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে সহায়ক হতে পারে।

সফরে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ছয়টি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা দলিল স্বাক্ষরিত হয়েছে। এসব দলিলে উপকূলীয় নিরাপত্তা, ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন, কৃষি, দক্ষতা উন্নয়ন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সহযোগিতার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

পাশাপাশি বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়াতে জাপান সর্বোচ্চ ২১২ কোটি ইয়েন অনুদানে একটি টহল জাহাজ দেওয়ার বিষয়ে চুক্তি করেছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ দুটি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য মোট ৪৬৫৬ কোটি ইয়েন ঋণসহায়তার প্রতিশ্রুতি পেয়েছে। এর মধ্যে ১৫৮৮ কোটি ইয়েন বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নের জন্য এবং ৩০৬৮ কোটি ইয়েন উপজেলা পরিচালনা ও উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের জন্য নির্ধারিত হয়েছে। এই অর্থায়ন বাংলাদেশের অবকাঠামো ও স্থানীয় পর্যায়ের উন্নয়ন কার্যক্রমে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সরকারি পর্যায়ের পাশাপাশি বেসরকারি খাতেও সহযোগিতা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাপানের বৈদেশিক বাণিজ্য সংস্থার উদ্যোগে দুই দেশের বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৭টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এসব সমঝোতার মাধ্যমে ব্যবসায়িক যোগাযোগ, শিল্পকারখানা স্থাপন, প্রযুক্তি বিনিময় এবং বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে।

২৮ অক্টোবর টোকিওতে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামের সংলাপে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে তিনি বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরেন এবং জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোকে পাঁচটি অগ্রাধিকার খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। এসব খাতের মধ্যে রয়েছে মোটরযান উৎপাদন, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণা, দ্রুতগতির রেল ও পণ্য পরিবহন এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ। বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের বিষয়ে সরকারের সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসো, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার প্রধান আকিহিকো তানাকা, জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের গভর্নর কাজুহিকো আমাকাওয়া এবং জাপানের বৈদেশিক বাণিজ্য সংস্থার প্রধান সুমুসু কাতাওকার সঙ্গে বৈঠক করেন। এ ছাড়া ইউনিক্লো, মিতসুই, সুমিতোমো এবং জেরা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন।

জাপানের জ্বালানি ও শিল্প খাতের সক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা নিতে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন স্থাপনাও পরিদর্শন করেন। তিনি ফুতসুতে জেরা প্রতিষ্ঠানের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ইচিকাওয়ায় পণ্য পরিবহন ও সংরক্ষণকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। পরে নাগোয়া সফরে গিয়ে টয়োটা মোটর করপোরেশনের মোটরগাড়ি উৎপাদন কারখানা এবং শিল্প ও প্রযুক্তিবিষয়ক জাদুঘর ঘুরে দেখেন।

এ সময় জাপানে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁদের সঙ্গে দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা, প্রবাসীদের অবদান এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশ গঠনে প্রবাসীদের সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন তিনি।

বাংলাদেশের অর্থনীতি, শিল্পায়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে জাপানের সঙ্গে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। তবে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ দিতে হলে প্রকল্প বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক দক্ষতা, স্বচ্ছতা, অবকাঠামোগত প্রস্তুতি এবং ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নের দিকে নজর দিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর চার দিনের জাপান সফরে কূটনৈতিক আলোচনা, বিনিয়োগের সম্ভাবনা, উন্নয়ন ঋণ এবং বিভিন্ন সহযোগিতা চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। তবে এসব উদ্যোগের প্রকৃত সুফল নির্ভর করবে চুক্তি ও প্রতিশ্রুতিগুলোর কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর।


ট্যাগ: তারেক রহমানজাপান সফরসানায়ে তাকাইচিবাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কদ্বিপক্ষীয় বৈঠকজাপানি বিনিয়োগঅর্থনৈতিক সহযোগিতাবাণিজ্য চুক্তিপ্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরাআন্তর্জাতিক সম্পর্ক

প্রতিবেদক

CSB News USA

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।