সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
মেয়েকে নির্যাতনের সময় হাতেনাতে ধরে হামলাকারীকে মারলেন বাবা, অভিযোগ আনল না টেক্সাসের আদালতযুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির মালিকদের বাড়তি খরচ বছরে ১৬ হাজার ডলার ছাড়াল, বাড়ছে বীমার চাপট্রাম্পের রসিকতায় হাসির ঝড়, জেসন অ্যালডিয়ানের স্ত্রীকে নিয়ে মন্তব্য ঘিরে তুমুল আলোচনাট্রাম্পের দাবি, অবসরের সঞ্চয় ৮০ শতাংশ বেড়েছে, ভোটের আগে হিসাব দেখতে বললেন ভোটারদেরমিনেসোটিয়ার অর্থ কেলেঙ্কারিতে ইলহান ওমরকে ঘিরে প্রশ্ন, সম্পদ বাজেয়াপ্তের দাবি

অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬

ট্রাম্পের দাবি, অবসরের সঞ্চয় ৮০ শতাংশ বেড়েছে, ভোটের আগে হিসাব দেখতে বললেন ভোটারদের

ভোটের আগে অবসর সঞ্চয়ের হিসাব দেখতে বললেন ট্রাম্প; তাঁর ৮০ শতাংশ বৃদ্ধির দাবি যাচাইয়ে সময়কাল, বাজারের উত্থান ও ব্যক্তিগত সঞ্চয় বিবেচনা জরুরি।

ট্রাম্পের দাবি, অবসরের সঞ্চয় ৮০ শতাংশ বেড়েছে, ভোটের আগে হিসাব দেখতে বললেন ভোটারদের
ট্রাম্পের দাবি, অবসরের সঞ্চয় ৮০ শতাংশ বেড়েছে, ভোটের আগে হিসাব দেখতে বললেন ভোটারদের

যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে অবসরকালীন সঞ্চয় নিয়ে ভোটারদের উদ্দেশে নতুন বার্তা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য, ভোট দেওয়ার আগে নিজেদের অবসরকালীন সঞ্চয়ের হিসাব দেখে নেওয়া উচিত। তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মীদের অবসরকালীন বিনিয়োগের মূল্য সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে এবং তাঁর ভাষায়, এমন উত্থান আগে কেউ দেখেনি। একই সঙ্গে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় অবসরকালীন সঞ্চয় ২৫ শতাংশ কমেছিল বলেও দাবি করেছেন তিনি।
তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্য যাচাই করতে হলে দুটি বিষয় আলাদা করে দেখা জরুরি। প্রথমত, অবসরকালীন হিসাবের অর্থমূল্য কতটা বেড়েছে। দ্বিতীয়ত, সেই বৃদ্ধি কোন সময়ের মধ্যে ঘটেছে এবং এর কতটা এসেছে শেয়ারবাজারের উত্থান, ব্যক্তিগত জমা ও নিয়োগকর্তার অবদান থেকে। নির্ভরযোগ্য আর্থিক তথ্য বলছে, অবসরকালীন হিসাবের মূল্য সত্যিই বেড়েছে। কিন্তু সময়কাল ও তুলনার ভিত্তি উল্লেখ না করে ৮০ শতাংশ বৃদ্ধির দাবি সব কর্মীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলে ধরে নেওয়া যায় না।
অবসরকালীন সঞ্চয় নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং শেয়ারবাজারের অবস্থা নির্বাচনী আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। ভোটারদের একটি বড় অংশের কাছে অবসরের আর্থিক নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ। কর্মজীবনে জমা করা অর্থ অবসরের পর জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে যথেষ্ট হবে কি না, সেটি অনেক পরিবারের জন্য বড় প্রশ্ন।
যুক্তরাষ্ট্রে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বহু কর্মী বেতন থেকে নির্দিষ্ট অর্থ অবসরকালীন হিসাবে জমা রাখেন। এই ব্যবস্থার পরিচিত নাম ৪০১(কে)। কর্মীর জমা অর্থ বিভিন্ন বিনিয়োগে ব্যবহার করা হতে পারে। অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মীর জমার সঙ্গে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থও যোগ করে। ফলে হিসাবের মোট অর্থ নির্ভর করে কর্মীর জমা, প্রতিষ্ঠানের অবদান, বিনিয়োগের লাভ-ক্ষতি এবং অর্থ উত্তোলনের ওপর।

বিনিয়োগের বাজার ভালো থাকলে অবসরকালীন হিসাবের মূল্য দ্রুত বাড়তে পারে। আবার বাজারে বড় পতন ঘটলে একই হিসাবের মূল্য কমেও যেতে পারে। এ কারণে কোনো একটি নির্দিষ্ট সময়ে হিসাবের মূল্য বেড়ে যাওয়া মানেই প্রত্যেক কর্মীর সঞ্চয় একই হারে বেড়েছে, এমন নয়।
বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ফিডেলিটির ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের প্রতিবেদন এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, ওই সময়ে তাদের পরিচালিত ৪০১(কে) হিসাবগুলোর গড় স্থিতি ছিল ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮০০ ডলার। আগের প্রান্তিকের তুলনায় এটি ১০ শতাংশ বেশি এবং ২০২৫ সালের একই প্রান্তিকের তুলনায় ১৩ শতাংশ বেশি। ২০২১ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের সঙ্গে তুলনা করলে গড় স্থিতি বেড়েছে ২০ শতাংশ। আর ২০১৬ সালের একই সময়ের তুলনায় বৃদ্ধি ৭৫ শতাংশ।

এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে অবসরকালীন হিসাবের গড় অর্থমূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধির তথ্য ট্রাম্পের উল্লেখ করা ৮০ শতাংশের কাছাকাছি। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই তুলনা প্রায় দশ বছরের ব্যবধানের। এটি কেবল তাঁর বর্তমান প্রশাসনের সময়ে সঞ্চয় ৮০ শতাংশ বেড়েছে—এমন প্রমাণ নয়।
ফিডেলিটির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে অবসরকালীন সঞ্চয়ের গড় মূল্য আগের প্রান্তিকের তুলনায় বেড়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বাজারের ওঠানামা সত্ত্বেও দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৪০১(কে) হিসাবের মূল্য ২০২০ সালের শেষ প্রান্তিকের পর সবচেয়ে শক্তিশালী ত্রৈমাসিক বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে গড় হিসাবের মূল্য বৃদ্ধি এবং প্রত্যেক ব্যক্তির বিনিয়োগে লাভের হার এক জিনিস নয়।
গড় হিসাবের মূল্য বাড়ার পেছনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নতুন জমা। একজন কর্মী প্রতি মাসে বেতন থেকে অর্থ জমা দিলে, সেই অর্থ বিনিয়োগের লাভের সঙ্গে যোগ হয়ে মোট স্থিতি বাড়াতে পারে। নিয়োগকর্তাও অর্থ যোগ করলে বৃদ্ধি আরও বেশি হতে পারে। ফলে কোনো হিসাবের মোট অর্থ ২০ শতাংশ বেড়েছে মানেই বিনিয়োগ থেকে ২০ শতাংশ মুনাফা হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়।
ট্রাম্পের বক্তব্যের আরেকটি অংশ হলো বাইডেন প্রশাসনের সময় অবসরকালীন সঞ্চয় ২৫ শতাংশ কমে গিয়েছিল। এই দাবির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা ও কোন হিসাবের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে, তা জানা জরুরি। কারণ বাইডেনের পুরো প্রশাসনকে একসঙ্গে ধরে অবসরকালীন সঞ্চয়ের মূল্য ২৫ শতাংশ কমেছিল—এমন সিদ্ধান্ত সমর্থন করার মতো প্রমাণ এখানে পাওয়া যায়নি।
শেয়ারবাজারের নির্দিষ্ট সময়ের পতনকে পুরো চার বছরের অবসরকালীন সঞ্চয়ের পতন হিসেবে দেখানোও বিভ্রান্তিকর হতে পারে। বিনিয়োগকারীরা বিভিন্ন সময়ে অর্থ জমা দেন। একই সময়ে কেউ শেয়ারভিত্তিক তহবিলে, কেউ বন্ডে, আবার কেউ মিশ্র বিনিয়োগে অর্থ রাখেন। ফলে বাজারের একই পরিবর্তন সবার হিসাবে একই প্রভাব ফেলে না।

ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান পলিটিফ্যাক্ট ২০২৬ সালের জুনে ট্রাম্পের আরেকটি বক্তব্য যাচাই করেছিল। সে সময় তিনি বলেছিলেন, তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম ১৩ মাসে একটি সাধারণ ৪০১(কে) হিসাবের মূল্য প্রায় ৩০ হাজার ডলার বেড়েছে। পলিটিফ্যাক্ট ফিডেলিটির তথ্য বিশ্লেষণ করে জানায়, ২০২৪ সালের শেষ দিন থেকে ২০২৬ সালের মার্চের শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন বয়সের হিসাবের গড় বৃদ্ধির পরিমাণ ছিল প্রায় ৯ হাজার ৪৫৪ ডলার। প্রতিষ্ঠানটি ট্রাম্পের ৩০ হাজার ডলার বৃদ্ধির দাবিকে মূলত অসত্য হিসেবে মূল্যায়ন করে।
এই বিশ্লেষণ বর্তমান ৮০ শতাংশের দাবিকে সরাসরি মিথ্যা প্রমাণ করে না, কারণ দুটি বক্তব্যের সময়কাল ও পরিমাপ এক নয়। তবে এটি দেখায়, অবসরকালীন সঞ্চয় নিয়ে বড় অঙ্কের দাবি যাচাই করতে হলে নির্দিষ্ট হিসাব, সময়কাল এবং তুলনার পদ্ধতি জানা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
ট্রাম্প প্রশাসন অবসরকালীন সঞ্চয় বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও বলেছে। ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল প্রকাশিত হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, কর্মস্থলে অবসরকালীন সঞ্চয়ের সুবিধা না পাওয়া কর্মীদের জন্য ব্যক্তিগত অবসর হিসাব খুঁজে পাওয়া ও তুলনা করার ব্যবস্থা তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে ট্রাম্পআইআরএ ডট গভ নামের একটি সরকারি ওয়েবসাইট চালুর পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়, যার লক্ষ্য ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারির মধ্যে কার্যক্রম শুরু করা। যোগ্য নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মীরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে বছরে সর্বোচ্চ ১ হাজার ডলার পর্যন্ত সরকারি সমপরিমাণ অবদান পাওয়ার সুযোগও এই পরিকল্পনায় রয়েছে।
হোয়াইট হাউস আরও দাবি করেছে, ট্রাম্পের প্রথম বছরে ৪০১(কে) হিসাবের গড় স্থিতি ২৪ হাজার ডলারের বেশি বেড়েছে। তবে এই সংখ্যাটি প্রশাসনের নিজস্ব প্রকাশিত বক্তব্যের অংশ। স্বাধীনভাবে যাচাই করতে হলে একই সময়ের হিসাবের সূচনামূল্য, শেষ মূল্য, নতুন জমা, নিয়োগকর্তার অবদান এবং বাজার থেকে আসা মুনাফার হিসাব একসঙ্গে পরীক্ষা করা দরকার।

অবসরকালীন সঞ্চয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে সাধারণ কর্মীদের জন্য মূল প্রশ্ন হলো, তাঁদের বর্তমান সঞ্চয় অবসরের পরের ব্যয় মেটাতে কতটা কার্যকর হবে। গড় হিসাবের মূল্য বেড়ে যাওয়া ইতিবাচক সংকেত হতে পারে, কিন্তু এটি প্রত্যেক পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না। যাঁদের সঞ্চয় কম, যাঁরা মাঝেমধ্যে কাজ হারিয়েছেন অথবা যাঁদের নিয়মিত জমা দেওয়ার সামর্থ্য নেই, তাঁদের পরিস্থিতি বড় অঙ্কের গড় হিসাবের সঙ্গে মিলবে না।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে অবসরকালীন সঞ্চয় মূল্যায়নের সময় শুধু মোট অর্থের অঙ্ক নয়, মূল্যস্ফীতিও বিবেচনা করা জরুরি। হিসাবের অর্থ বেড়েছে, কিন্তু একই সময়ে খাদ্য, আবাসন, চিকিৎসা ও অন্যান্য খরচও বেড়ে থাকলে সেই অর্থের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কতটা বেড়েছে, সেটি আলাদা প্রশ্ন। অবসরের সময় কত অর্থ প্রয়োজন হবে, তা নির্ভর করে ব্যক্তির বয়স, আয়, স্বাস্থ্য, বাসস্থানের ব্যয় এবং ভবিষ্যৎ জীবনযাত্রার ওপর।
ভোটারদের উদ্দেশে ট্রাম্পের বার্তাটি তাই রাজনৈতিক প্রচারের পাশাপাশি ব্যক্তিগত আর্থিক হিসাব যাচাইয়ের আলোচনাও সামনে এনেছে। নিজের অবসরকালীন হিসাব পরীক্ষা করা অবশ্যই যুক্তিসংগত। তবে সেই হিসাবের বৃদ্ধি দেখে কোনো রাজনৈতিক দাবির সত্যতা নির্ধারণের আগে কোন সময়ের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে, কী ধরনের বিনিয়োগ রয়েছে এবং কত নতুন অর্থ জমা হয়েছে, তা বোঝা প্রয়োজন।


ট্যাগ: ডোনাল্ড ট্রাম্পযুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনঅবসরকালীন সঞ্চয়৪০১কে হিসাবশেয়ারবাজারজো বাইডেনমার্কিন অর্থনীতিতথ্য যাচাইফিডেলিটিঅবসর পরিকল্পনা

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।