সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
মেয়েকে নির্যাতনের সময় হাতেনাতে ধরে হামলাকারীকে মারলেন বাবা, অভিযোগ আনল না টেক্সাসের আদালতযুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির মালিকদের বাড়তি খরচ বছরে ১৬ হাজার ডলার ছাড়াল, বাড়ছে বীমার চাপট্রাম্পের রসিকতায় হাসির ঝড়, জেসন অ্যালডিয়ানের স্ত্রীকে নিয়ে মন্তব্য ঘিরে তুমুল আলোচনাট্রাম্পের দাবি, অবসরের সঞ্চয় ৮০ শতাংশ বেড়েছে, ভোটের আগে হিসাব দেখতে বললেন ভোটারদেরমিনেসোটিয়ার অর্থ কেলেঙ্কারিতে ইলহান ওমরকে ঘিরে প্রশ্ন, সম্পদ বাজেয়াপ্তের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির মালিকদের বাড়তি খরচ বছরে ১৬ হাজার ডলার ছাড়াল, বাড়ছে বীমার চাপ

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির মালিকদের বন্ধকী ঋণের বাইরেও বছরে গড়ে ১৬ হাজার ৫৬৬ ডলার খরচ হচ্ছে, যার মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত বাড়ছে বাড়ির বীমা।

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির মালিকদের বাড়তি খরচ বছরে ১৬ হাজার ডলার ছাড়াল, বাড়ছে বীমার চাপ
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির মালিকদের বাড়তি খরচ বছরে ১৬ হাজার ডলার ছাড়াল, বাড়ছে বীমার চাপ

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার স্বপ্ন পূরণ করলেও অনেক পরিবারের জন্য সেই বাড়ি ধরে রাখা ক্রমেই ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। বাড়ির ঋণের মাসিক কিস্তি পরিশোধের বাইরেও সম্পত্তির কর, বাড়ির বীমা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। নতুন এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের একজন সাধারণ বাড়ির মালিককে এসব খাতে বছরে গড়ে ১৬ হাজার ৫৬৬ ডলার ব্যয় করতে হচ্ছে। মাসিক হিসাবে এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৩৮০ ডলার।
যুক্তরাষ্ট্রের আবাসনবিষয়ক প্রতিষ্ঠান জিলো এবং বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান থাম্বট্যাকের ২০২৬ সালের ২২ অক্টোবর প্রকাশিত বিশ্লেষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত পাঁচ বছরে বাড়ির মালিকানার সঙ্গে যুক্ত এই অতিরিক্ত ব্যয় প্রায় ৩২ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে বাড়ির বীমার খরচ বেড়েছে সবচেয়ে বেশি।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। ১ হাজার ৩৮০ ডলার হলো বাড়ির ঋণের কিস্তির বাইরে নির্দিষ্ট কয়েকটি খাতে গড় মাসিক ব্যয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যেক বাড়ির মালিকের প্রকৃত খরচ নয়। বাড়ির অবস্থান, আকার, বয়স, বীমার ধরন এবং স্থানীয় সম্পত্তির কর অনুযায়ী ব্যয়ের পরিমাণ কমবেশি হতে পারে।
এ ছাড়া এই হিসাবের মধ্যে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, বাড়ির মালিকদের সমিতির ফি, বাড়ি কেনার প্রাথমিক খরচ কিংবা ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধ অন্তর্ভুক্ত নয়। ফলে একটি পরিবারের প্রকৃত আবাসন ব্যয় এই হিসাবের চেয়েও বেশি হতে পারে।

এই বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, বাড়ির মালিকদের নিয়মিত ব্যয়ের সবচেয়ে বড় অংশ এখনো রক্ষণাবেক্ষণে চলে যাচ্ছে। বছরে গড়ে ১১ হাজার ১৭১ ডলার ব্যয় হচ্ছে বাড়ির বিভিন্ন মেরামত, পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে। বাড়ির বীমায় বছরে গড় ব্যয় ২ হাজার ২৬৬ ডলার এবং সম্পত্তির কর বাবদ ব্যয় ৩ হাজার ১২৯ ডলার। তিনটি খাতের সম্মিলিত ব্যয় দাঁড়ায় ১৬ হাজার ৫৬৬ ডলার।
গত পাঁচ বছরে এই তিনটি খাতের ব্যয় একই হারে বাড়েনি। বাড়ির বীমার খরচ বেড়েছে ৫৪ শতাংশ, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বেড়েছে ৩২ শতাংশ এবং সম্পত্তির কর বেড়েছে ১৯ শতাংশ। অর্থাৎ, বাড়ির মালিকদের ওপর আর্থিক চাপ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বীমার খরচ এখন অন্যতম প্রধান উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।
বাড়ির বীমার খরচ বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। ঝড়, শিলাবৃষ্টি, টর্নেডো এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাড়ির ক্ষয়ক্ষতি হলে বীমা প্রতিষ্ঠানকে বড় অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করতে হয়। পাশাপাশি বাড়ি মেরামত ও পুনর্নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ এবং শ্রমিকের খরচ বেড়ে যাওয়ায় ক্ষতিপূরণের পরিমাণও বাড়তে পারে। এসব বিষয় বীমার মূল্য নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সব এলাকায় একই কারণে বা একই হারে বীমার খরচ বাড়ছে, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কোথাও বাড়ির মালিকানার মোট অতিরিক্ত ব্যয় অনেক বেশি, আবার কোথাও তুলনামূলক কম। জিলো ও থাম্বট্যাকের ৩০টি বড় নগরাঞ্চল নিয়ে করা বিশ্লেষণে নিউইয়র্কে বছরে এই ব্যয় সবচেয়ে বেশি, ২৫ হাজার ১১১ ডলার। সান ফ্রান্সিসকোতে তা ২৪ হাজার ৩৮৩ ডলার, লস অ্যাঞ্জেলেসে ২২ হাজার ৯১৫ ডলার এবং বোস্টনে ২২ হাজার ৯৬ ডলার।

অন্যদিকে, বিশ্লেষণে অন্তর্ভুক্ত নগরাঞ্চলগুলোর মধ্যে ফিনিক্সে এই ব্যয় তুলনামূলক কম। সেখানে বছরে গড় অতিরিক্ত ব্যয় ১৪ হাজার ১৮৭ ডলার। তবে কম ব্যয়ের অর্থ এই নয় যে শহরটিতে বাড়ি কেনা বা বসবাসের সব খরচও কম। বাড়ির দাম, ঋণের কিস্তি, আয় এবং পরিবারের অন্যান্য ব্যয় আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে।
শুধু মোট ব্যয়ের পরিমাণ নয়, গত পাঁচ বছরে ব্যয় বৃদ্ধির হারও বিভিন্ন শহরে ভিন্ন ছিল। পেনসিলভানিয়ার পিটসবার্গে বাড়ির মালিকানার অতিরিক্ত ব্যয় বেড়েছে ৫৪ দশমিক ৮ শতাংশ। ফ্লোরিডার টাম্পায় বেড়েছে ৪৪ দশমিক ৪ শতাংশ, মায়ামিতে ৪২ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ। অর্থাৎ, কোনো শহরে বর্তমান ব্যয় বেশি হলেই সেখানে গত পাঁচ বছরে বৃদ্ধির হারও সবচেয়ে বেশি হবে, এমন নয়।
বাড়ির বীমার ক্ষেত্রে ডালাস, টাম্পা, ডেনভার ও হিউস্টনের পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। গত পাঁচ বছরে ডালাসে বীমার খরচ বেড়েছে ৭৫ শতাংশ, টাম্পায় ৭১ শতাংশ, ডেনভারে ৭০ শতাংশ এবং হিউস্টনে ৬৯ শতাংশ। মায়ামিতে বাড়ির বীমার বার্ষিক ব্যয় প্রায় ৫ হাজার ডলারে পৌঁছেছে। বিশ্লেষণে অন্তর্ভুক্ত ৩০টি নগরাঞ্চলের মধ্যে ১৯টিতে পাঁচ বছরে বাড়ির বীমার খরচ অন্তত ৫০ শতাংশ বেড়েছে।
আরও একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে হিউস্টন, ফিনিক্স, ডেনভার ও ন্যাশভিলে। এসব নগরাঞ্চলে সাধারণ বাড়ির মালিকদের সম্পত্তির করের তুলনায় বাড়ির বীমায় বছরে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। আগে অনেক বাড়ির মালিক সম্পত্তির করকে বড় নিয়মিত ব্যয় হিসেবে বিবেচনা করতেন। কিন্তু বীমার খরচ দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় কিছু এলাকায় ব্যয়ের এই সমীকরণ বদলে গেছে।
রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয়ও কম নয়। বাড়ির ছাদ পরীক্ষা ও মেরামত, নালা পরিষ্কার, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের পরিচর্যা, গরম রাখার যন্ত্রের রক্ষণাবেক্ষণ, বাগানের যত্ন এবং পানির পাইপের ছোটখাটো সমস্যা সমাধানে নিয়মিত অর্থ খরচ হয়। সময়মতো এসব কাজ না করালে ছোট সমস্যা পরবর্তী সময়ে বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। এ কারণে বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণকে শুধু জরুরি মেরামতের খরচ হিসেবে দেখলে চলবে না; বরং এটি পরিবারের নিয়মিত বাজেটের অংশ হওয়া উচিত।

সিয়াটল ও বোস্টনের মতো নগরাঞ্চলে বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণের বার্ষিক ব্যয় ১২ হাজার ডলারেরও বেশি। লস অ্যাঞ্জেলেসে এক বছরের ব্যবধানে এই ব্যয় বেড়েছে ২৭ শতাংশ। দাবানল-পরবর্তী পুনরুদ্ধার কার্যক্রম, বাড়ির সেবার চাহিদা বৃদ্ধি এবং শ্রমের উচ্চমূল্য এ বৃদ্ধির সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে প্রতিবেদনে একটি তুলনামূলক স্বস্তির দিকও রয়েছে। গত পাঁচ বছরে বাড়ির মালিকানার অতিরিক্ত ব্যয় প্রায় ৩২ শতাংশ বাড়লেও, সর্বশেষ এক বছরে বৃদ্ধির হার ছিল প্রায় ৩ শতাংশ। অর্থাৎ, দীর্ঘমেয়াদি ব্যয় বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে বৃদ্ধির গতি কিছুটা কমেছে। রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বৃদ্ধির হারও কমেছে। ২০২২ সালে এ খাতে বার্ষিক বৃদ্ধির হার ছিল ৯ শতাংশ, আর ২০২৬ সালে তা কমে প্রায় ১ শতাংশ হয়েছে। কিন্তু বৃদ্ধির গতি কমে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে আগের ব্যয় কমে গেছে। বরং ব্যয়ের পরিমাণ আগের তুলনায় বেশি থাকার পরও নতুন করে বাড়ার গতি ধীর হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে যারা নতুন বাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য শুধু বাড়ির দাম বা ঋণের কিস্তি দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বাড়ি কেনার আগে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির বীমার সম্ভাব্য মূল্য জেনে নেওয়া, স্থানীয় সম্পত্তির কর যাচাই করা এবং বাড়িটির অবস্থা ভালোভাবে পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে পুরোনো বাড়ির ছাদ, পানি সরবরাহব্যবস্থা, বৈদ্যুতিক সংযোগ এবং শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের অবস্থা ভবিষ্যতের ব্যয়ে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
বীমার খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাড়ির মালিকেরা একাধিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মূল্যপ্রস্তাব নিতে পারেন। একই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বাড়ি ও গাড়ির বীমা নেওয়ার সুবিধা আছে কি না, সেটিও যাচাই করা যেতে পারে। তবে বীমার আওতা কমিয়ে শুধু কম মূল্য পাওয়ার চেষ্টা করলে বড় ধরনের ক্ষতির সময় পর্যাপ্ত সুরক্ষা না-ও মিলতে পারে। তাই মূল্য ও সুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য রাখা জরুরি।
বাড়ির মালিকদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো জরুরি মেরামতের জন্য আলাদা সঞ্চয় রাখা। প্রতি মাসে সামান্য অর্থ জমালেও হঠাৎ ছাদ মেরামত, যন্ত্রপাতি বদলানো কিংবা পাইপের সমস্যা সমাধানের সময় ঋণ নেওয়ার প্রয়োজন কমতে পারে। বাড়ির বয়স ও অবস্থা অনুযায়ী সম্ভাব্য রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ের হিসাব তৈরি করলে পরিবারের আর্থিক পরিকল্পনাও সহজ হয়।
এই প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণের পদ্ধতিও বিবেচনা করা দরকার। জিলো ৩০টি বড় নগরাঞ্চলে সাধারণ বাড়ির মালিকদের সম্পত্তির কর ও বীমার বার্ষিক ব্যয় অনুমান করেছে। অন্যদিকে, থাম্বট্যাক তাদের সেবার মাধ্যমে চাওয়া কাজ এবং সেবাদাতা ও গ্রাহকদের দেওয়া মূল্যতথ্য ব্যবহার করে রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় নির্ধারণ করেছে। ফলে প্রকাশিত পরিসংখ্যানগুলো একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরে; প্রতিটি পরিবারের প্রকৃত ব্যয়ের নির্ভুল হিসাব নয়।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির মালিক হওয়ার আর্থিক দায় এখন শুধু বাড়ি কেনা বা ঋণের কিস্তি পরিশোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বীমা, কর ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয়ও দীর্ঘমেয়াদি পারিবারিক বাজেটের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। নতুন বাড়ি কেনার আগে এসব খরচ হিসাব না করলে পরবর্তী সময়ে আর্থিক চাপ বাড়তে পারে। অন্যদিকে, আগে থেকে ব্যয়ের পরিকল্পনা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং বীমার মূল্য যাচাইয়ের মাধ্যমে সেই চাপ কিছুটা সামলানো সম্ভব।


ট্যাগ: যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারবাড়ির মালিকানাবাড়ির বীমাসম্পত্তির করবাড়ি রক্ষণাবেক্ষণবাড়ির খরচযুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিআবাসন ব্যয়বাড়ি কেনাপারিবারিক বাজেট

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।