সামান্য সড়কবিতণ্ডার পর গুলিতে প্রাণ গেল দুই সন্তানের বাবার, অভিযুক্ত সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা
নিউইয়র্কের ব্যস্ত সেতুতে গাড়ি নিয়ে সামান্য সংঘাতের পর প্রাণ হারালেন ৪৬ বছর বয়সী কর্মজীবী বাবা কোরান আরভিন। শোকের পাশাপাশি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তাঁর পরিবার।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে গাড়ি চালানোর সময় সামান্য সংঘাতের পর গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন দুই সন্তানের বাবা কোরান আরভিন। ৪৬ বছর বয়সী এই ব্যক্তি বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কন এডিসনের কর্মী ছিলেন। ২০ অক্টোবর রাতে নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সিকে সংযুক্তকারী জর্জ ওয়াশিংটন সেতুতে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, আরভিনের গাড়ির সঙ্গে অন্য একটি গাড়ির প্রায় সংঘর্ষ হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এরপর অন্য গাড়ির চালক তাঁর গাড়ির পিছু নেন এবং কাছাকাছি এসে গুলি চালান বলে তদন্তকারীদের অভিযোগ। গুলিতে আহত আরভিনের গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুর মাঝের বিভাজকে ধাক্কা দেয়। তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও বাঁচানো যায়নি।
ঘটনায় অভিযুক্ত ৬২ বছর বয়সী ভিক্টর রোমেরো নিউইয়র্ক পুলিশের সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা। তাঁকে গ্রেপ্তারের পর প্রথমে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছিল। পরে আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে প্রথম-ডিগ্রি ম্যানস্লটার বা গুরুতর অপরাধমূলক হত্যার অভিযোগ আনা হয়। আদালত তাঁকে ১০ লাখ ডলারের জামিনে আটক রাখার নির্দেশ দেন। অভিযুক্ত নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।
আরভিনের পরিবার আদালতে অভিযোগের ধরন পরিবর্তন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তাঁর বোন ও অন্যান্য স্বজনের বক্তব্য, পরিবারের একজন মানুষ কর্মদিবস শেষে বাড়ি ফিরছিলেন—কিন্তু আর কখনো পরিবারের কাছে ফিরতে পারবেন না। তাঁদের কাছে এই মৃত্যু শুধু একটি সংবাদ নয়, বরং সন্তানদের বাবাকে হারানোর অপূরণীয় ক্ষতি।
প্রতিবেশীরা আরভিনকে বন্ধুবৎসল ও সাহায্যপ্রবণ মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এক প্রতিবেশী জানান, তাঁরা নতুন এলাকায় আসার পর আরভিন তাঁদের স্বাগত জানিয়েছিলেন এবং নিজেদের মুরগির ডিমও দিয়েছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে প্রতিবেশীরাও শোকাহত।
ঘটনার তদন্তে নজরদারি ক্যামেরার ভিডিও পরীক্ষা করা হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সেই ভিডিও ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে প্রসিকিউটররা তাঁদের অভিযোগ উপস্থাপন করেছেন। তবে মামলাটি বিচারাধীন এবং আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত বলা যায় না।
এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে সড়কে উত্তেজনা ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের ভয়াবহ পরিণতি আবারও সামনে এনেছে। গাড়ি চালানোর সময় সামান্য ভুল, হর্ন বা লেন পরিবর্তন নিয়ে বিরোধ বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের সাধারণ পরামর্শ হলো, উত্তেজিত চালকের সঙ্গে পাল্টা সংঘাতে না জড়িয়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে পুলিশকে খবর দেওয়া।
নিউইয়র্ক ও আশপাশের এলাকায় বসবাসরত বাংলাদেশি-আমেরিকানদের জন্যও ঘটনাটি সতর্কবার্তা। সড়কে কেউ আক্রমণাত্মক আচরণ করলে তর্ক বাড়ানোর পরিবর্তে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করুন। তবে কোনো পরিস্থিতিতেই একটি সংঘাতের কারণে আরেকটি পরিবারের জীবনে এমন শোক নেমে আসা উচিত নয়।
কোরান আরভিনের মৃত্যু তাঁর পরিবারকে গভীর শোকের মধ্যে ফেলেছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি প্রশ্ন তুলেছে—সড়কের সামান্য বিরোধ কীভাবে প্রাণঘাতী সহিংসতায় রূপ নেয়, এবং এমন ঘটনা ঠেকাতে কী ধরনের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা প্রয়োজন।





