সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
বাহামার বদলে কানাডায় পাঁচ হাজার পর্যটক, ঝড়ের কারণে বদলে গেল প্রমোদতরির গন্তব্যযুক্তরাষ্ট্রে ছুরি ও সুরক্ষাবর্মে সাংবিধানিক অধিকার, নতুন বিতর্কে অস্ত্র আইনমধ্যবর্তী নির্বাচন ও ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট লড়াই সামনে রেখে প্রচারে ফিরছেন কমলা হ্যারিসনির্বাচনের আগে ক্যালিফোর্নিয়ায় ভোটার যাচাই নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন পদক্ষেপহেবরনে হামলার পর পশ্চিম তীরে বড় সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল সরকার

অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬

মধ্যবর্তী নির্বাচন ও ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট লড়াই সামনে রেখে প্রচারে ফিরছেন কমলা হ্যারিস

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ও ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে আবারও রাজনৈতিক প্রচারে সক্রিয় হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস।

মধ্যবর্তী নির্বাচন ও ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট লড়াই সামনে রেখে প্রচারে ফিরছেন কমলা হ্যারিস
মধ্যবর্তী নির্বাচন ও ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট লড়াই সামনে রেখে প্রচারে ফিরছেন কমলা হ্যারিস

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস আবারও নির্বাচনী প্রচারে সক্রিয় হয়েছেন। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে তিনি ডেমোক্র্যাটিক দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থীর পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন। একই সঙ্গে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কি না, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তিনি প্রেসিডেন্ট পদে লড়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেননি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের ২৪ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হ্যারিস নেভাডা, মিসিসিপি, নিউ হ্যাম্পশায়ার, উইসকনসিন ও জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের সমর্থনে নির্বাচনী কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হওয়ার মধ্যে তাঁর এই প্রত্যাবর্তন দলটির প্রচারে নতুন গতি আনার চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে পরাজিত হওয়ার পর হ্যারিস চলতি বছরে তুলনামূলকভাবে কম জনসমক্ষে এসেছেন। কিন্তু মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় তিনি আবারও মাঠের রাজনীতিতে নিজের উপস্থিতি বাড়াচ্ছেন। তাঁর এই প্রচার শুধু কয়েকজন প্রার্থীর নির্বাচনী লড়াইয়ে সহায়তা করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি ভবিষ্যতে জাতীয় নেতৃত্বের জন্য নিজের অবস্থান শক্ত করার সুযোগও তৈরি করবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।

নেভাডার লাস ভেগাসে ২১ অক্টোবর হ্যারিসের প্রচার কর্মসূচি শুরু হয়। সেখানে তিনি অঙ্গরাজ্যের গভর্নর পদপ্রার্থী অ্যারন ফোর্ড এবং শ্রমিক সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে অংশ নেন। ফোর্ড বর্তমানে নেভাডার অ্যাটর্নি জেনারেল। নির্বাচিত হলে তিনি অঙ্গরাজ্যটির প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ গভর্নর হওয়ার সুযোগ পাবেন। হ্যারিসের প্রচারে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, ভোটারদের অংশগ্রহণ এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সাধারণ মানুষের ভূমিকার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

লাস ভেগাসের শ্রমিকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় হ্যারিস আসন্ন নির্বাচনকে কঠিন লড়াই হিসেবে তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল, নির্বাচনের ফল নির্ধারণে ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডেমোক্র্যাটদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোতে ভোটারদের সংগঠিত করা এবং সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসাই এখন বড় লক্ষ্য।

এর পরদিন ২২ অক্টোবর মিসিসিপিতে তিনি ডেমোক্র্যাটিক দলের সিনেট পদপ্রার্থী স্কট কলমের পক্ষে প্রচারে অংশ নেন। কলমের প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান সিনেটর সিন্ডি হাইড-স্মিথ। এই লড়াইকে জাতীয় ডেমোক্র্যাটদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। কলম জয়ী হলে গৃহযুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন যুগের পর মিসিসিপি থেকে নির্বাচিত প্রথম ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তবে তাঁর জয় নিশ্চিত—এমন দাবি করার মতো প্রমাণ নেই; নির্বাচনের ফল নির্ভর করবে ভোটারদের সিদ্ধান্তের ওপর।

২৪ অক্টোবর হ্যারিসের নিউ হ্যাম্পশায়ারে সিনেট পদপ্রার্থী ক্রিস পাপাসের সঙ্গে প্রচারে অংশ নেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে। সেখানে প্রজননস্বাস্থ্যসেবা ও গর্ভপাতের অধিকার নিয়েও আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা। ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকার সময় হ্যারিস নারীদের প্রজননস্বাস্থ্যসংক্রান্ত অধিকার রক্ষার পক্ষে ডেমোক্র্যাটদের অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন। এই বিষয়টি তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে রয়েছে।

২৬ অক্টোবর উইসকনসিনে গভর্নর পদপ্রার্থী ডেভিড ক্রাউলির সঙ্গে প্রচার এবং ২৮ অক্টোবর থেকে জর্জিয়ায় কয়েক দিনের কর্মসূচি তাঁর পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত। জর্জিয়ায় তিনি সিনেটর জন অসফের পক্ষে প্রচার, ভোটার সুরক্ষাবিষয়ক কার্যক্রম এবং ৩০ অক্টোবর আটলান্টায় ফুলটন কাউন্টি ডেমোক্র্যাটিক দলের বার্ষিক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া ফ্লোরিডার সিনেট পদপ্রার্থী অ্যাঞ্জি নিক্সনের সঙ্গে তাঁর একটি ভার্চ্যুয়াল সংগঠনী কর্মসূচিও নির্ধারিত হয়েছে।

এই রাজ্যগুলো বেছে নেওয়ার রাজনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ বদলে গেলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসনের আইন প্রণয়ন ও নীতিগত উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রভাব পড়তে পারে। কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটরা শক্তিশালী অবস্থান অর্জন করতে পারলে প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের ওপর নজরদারি বাড়াতে এবং নিজেদের অগ্রাধিকার সামনে আনতে পারবেন। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে ট্রাম্পের দল আইন প্রণয়নে তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে।

তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনে হ্যারিসের প্রচারের গুরুত্ব শুধু কংগ্রেসের আসনসংখ্যা দিয়ে বিচার করা হবে না। তাঁর জনপ্রিয়তা, দলীয় কর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক, তহবিল সংগ্রহের সামর্থ্য এবং বিভিন্ন ভোটারগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর সক্ষমতাও আলোচনায় থাকবে। রয়টার্স ও ইপসোসের জুন মাসের এক জনমত জরিপে ৩৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক হ্যারিস সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছিলেন। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এই হার ছিল ৮২ শতাংশ, রিপাবলিকানদের মধ্যে ৭ শতাংশ এবং স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে ৩৩ শতাংশ। জরিপের এই পার্থক্য দেখায়, নিজ দলের সমর্থকদের মধ্যে তাঁর অবস্থান শক্তিশালী হলেও বৃহত্তর ভোটারগোষ্ঠীর মধ্যে সমর্থন বাড়ানো তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।

২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে আলোচনার পেছনে আরও কয়েকটি কারণ রয়েছে। হ্যারিস যদি আবার প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে ডেমোক্র্যাটিক দলের মনোনয়ন পাওয়ার জন্য তাঁকে অন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হতে পারে। দলের ভেতরে তাঁর পরিচিতি, পূর্ববর্তী নির্বাচনী অভিজ্ঞতা এবং সমর্থকদের নেটওয়ার্ক সুবিধা দিতে পারে। কিন্তু ২০২৪ সালের পরাজয়ও তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করবে।

২০২৪ সালের নির্বাচনে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন পুনর্নির্বাচনের প্রচার থেকে সরে দাঁড়ানোর পর হ্যারিস ডেমোক্র্যাটদের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হন। অল্প সময়ের মধ্যে জাতীয় পর্যায়ের প্রচার সামলাতে হয়েছিল তাঁকে। শেষ পর্যন্ত তিনি ট্রাম্পের কাছে পরাজিত হন। ফলে ভবিষ্যতে আবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে তাঁকে আগের প্রচারের সাফল্য ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে। ভোটারদের কাছে অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, অভিবাসন, স্বাস্থ্যসেবা এবং পররাষ্ট্রনীতির মতো বিষয়ে নিজের অবস্থান আরও স্পষ্ট করার প্রয়োজনও দেখা দিতে পারে।

হ্যারিস তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যে ২০২৬ সালের নির্বাচনকেই অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছেন। তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান থেকে বোঝা যায়, ২০২৮ সালের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিনি ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনী সাফল্য এবং নিজের প্রচার কার্যক্রমের প্রভাব দেখতে চান। তাই তাঁর বর্তমান কর্মসূচিকে সরাসরি প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থিতা ঘোষণার সমতুল্য বলা ঠিক হবে না।

ডেমোক্র্যাটিক দলের জন্যও এই সময়টি গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে দলটি কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের আধিপত্য চ্যালেঞ্জ করতে চাইছে, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে কাকে সামনে আনা হবে, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। হ্যারিসের পাশাপাশি অন্য কয়েকজন পরিচিত ডেমোক্র্যাট নেতার নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। তবে এখনো ২০২৮ সালের নির্বাচনে দলের চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারিত হয়নি।

সব মিলিয়ে, কমলা হ্যারিসের নির্বাচনী প্রচারে প্রত্যাবর্তনকে ডেমোক্র্যাটদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে তাঁর সফর কতটা ভোটে প্রভাব ফেলবে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে দল কতটা সাফল্য পাবে এবং তিনি শেষ পর্যন্ত ২০২৮ সালে প্রেসিডেন্ট পদে লড়বেন কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো অনিশ্চিত। আপাতত তাঁর প্রকাশ্য অবস্থান স্পষ্ট: আগে ২০২৬ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের সাফল্যের জন্য কাজ করা, তারপর ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া।


ট্যাগ: কমলা হ্যারিসযুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনমধ্যবর্তী নির্বাচনপ্রেসিডেন্ট নির্বাচনডেমোক্র্যাটিক দলডোনাল্ড ট্রাম্পমার্কিন রাজনীতিসিনেট নির্বাচনভোটার২০২৮ সালের নির্বাচন।

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।