সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
মেয়েকে নির্যাতনের সময় হাতেনাতে ধরে হামলাকারীকে মারলেন বাবা, অভিযোগ আনল না টেক্সাসের আদালতযুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির মালিকদের বাড়তি খরচ বছরে ১৬ হাজার ডলার ছাড়াল, বাড়ছে বীমার চাপট্রাম্পের রসিকতায় হাসির ঝড়, জেসন অ্যালডিয়ানের স্ত্রীকে নিয়ে মন্তব্য ঘিরে তুমুল আলোচনাট্রাম্পের দাবি, অবসরের সঞ্চয় ৮০ শতাংশ বেড়েছে, ভোটের আগে হিসাব দেখতে বললেন ভোটারদেরমিনেসোটিয়ার অর্থ কেলেঙ্কারিতে ইলহান ওমরকে ঘিরে প্রশ্ন, সম্পদ বাজেয়াপ্তের দাবি

মেয়েকে নির্যাতনের সময় হাতেনাতে ধরে হামলাকারীকে মারলেন বাবা, অভিযোগ আনল না টেক্সাসের আদালত

পাঁচ বছরের মেয়েকে যৌন নির্যাতনের সময় এক ব্যক্তিকে ধরে মারধর করেন বাবা। অভিযুক্তের মৃত্যু হলেও বিচারিক অনুসন্ধানে বাবার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়নি।

মেয়েকে নির্যাতনের সময় হাতেনাতে ধরে হামলাকারীকে মারলেন বাবা, অভিযোগ আনল না টেক্সাসের আদালত
মেয়েকে নির্যাতনের সময় হাতেনাতে ধরে হামলাকারীকে মারলেন বাবা, অভিযোগ আনল না টেক্সাসের আদালত

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে নিজের পাঁচ বছরের মেয়েকে যৌন নির্যাতনের সময় এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে ধরার পর তাঁকে মারধর করে হত্যা করেন এক বাবা। পরে ওই ব্যক্তির মৃত্যু নিয়ে তদন্ত শুরু হলেও বিচারিক অনুসন্ধান শেষে বাবার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি। ২০১২ সালের জুনে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ঘটনাটি নতুন নয়, আর বাবার বিরুদ্ধে অভিযোগ না আনার সিদ্ধান্তের পেছনে ছিল নির্দিষ্ট পরিস্থিতি, তদন্তে পাওয়া প্রমাণ এবং টেক্সাসের আত্মরক্ষাসংক্রান্ত আইন।
ঘটনাটি ঘটে ২০১২ সালের ৯ জুন টেক্সাসের শাইনার এলাকার কাছে একটি নির্জন খামারে। ওই খামারে ঘোড়ার দেখাশোনার কাজে সহায়তা করার জন্য এসেছিলেন ৪৭ বছর বয়সী জেসুস মোরো ফ্লোরেস। সেখানে উপস্থিত ছিলেন শিশুটির পরিবারের সদস্য এবং পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তি। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্লোরেস এর আগে ওই খামারে ঘোড়ার পরিচর্যার কাজেও সহায়তা করেছিলেন।

ঘটনার দিন শিশুটির বাবা খামারে নিজের কাজ করছিলেন। এমন সময় এক প্রত্যক্ষদর্শী তাঁকে জানান, ফ্লোরেস শিশুটিকে জোর করে একটি নির্জন স্থানের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। খবরটি পেয়ে বাবা দ্রুত সেদিকে ছুটে যান। কিছুক্ষণ পর তিনি মেয়ের কান্না ও চিৎকার শুনতে পান। সেখানে পৌঁছে তিনি দেখতে পান, ফ্লোরেস তাঁর মেয়েকে যৌন নির্যাতন করছেন বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছিলেন।
পরিস্থিতি বুঝতে পেরে বাবা ফ্লোরেসকে শিশুটির কাছ থেকে সরিয়ে দেন। এরপর তাঁর মাথা ও ঘাড়ে একাধিকবার ঘুষি মারেন। তদন্তকারীদের বর্ণনা অনুযায়ী, মারধরের একপর্যায়ে ফ্লোরেস গুরুতর আহত হন। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনাটি ঘটেছিল নির্জন এলাকায় হওয়ায় সেখানে দ্রুত চিকিৎসাসেবা পৌঁছানোও কঠিন হয়ে পড়ে।
মেয়েকে নিরাপদ করার পর বাবা জরুরি সহায়তা চেয়ে ফোন করেন। যুক্তরাষ্ট্রে জরুরি পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স ও অগ্নিনির্বাপণ সহায়তার জন্য ব্যবহৃত নম্বরে ফোন করে তিনি জানান, একজন ব্যক্তি তাঁর মেয়েকে ধর্ষণ করছিলেন এবং তিনি তাঁকে মারধর করেছেন। ফোনালাপে বাবাকে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন শোনাচ্ছিল। তিনি বারবার সাহায্য পাঠানোর অনুরোধ করেন এবং আহত ব্যক্তির অবস্থা খারাপ হয়ে যাচ্ছে বলে জানান।
জরুরি সেবাকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও ফ্লোরেসকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাতের কারণে মৃত্যু হয় বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এদিকে শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয় এবং তদন্তকারীরা জানান, চিকিৎসা ও অন্যান্য ফরেনসিক প্রমাণ যৌন নির্যাতনের অভিযোগকে সমর্থন করেছিল। প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্যও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ঘটনার পর ফ্লোরেসের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হত্যার তদন্ত শুরু হয়। তবে বাবাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তদন্তকারীরা প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, বাবার বর্ণনা, জরুরি সহায়তা চেয়ে করা ফোনালাপ এবং চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রমাণ পর্যালোচনা করেন। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব তথ্যের সঙ্গে বাবার বর্ণনার মিল পাওয়া যায়।
২০১২ সালের ১৯ জুন লাভাকা কাউন্টির বৃহত্তর বিচারকদের প্যানেল মামলাটি পর্যালোচনা করে বাবার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের সুপারিশ করেনি। যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থায় এ ধরনের সিদ্ধান্তকে অভিযোগ গঠনে অস্বীকৃতি বলা হয়। এর অর্থ হলো, পর্যালোচনা করা প্রমাণের ভিত্তিতে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা এগিয়ে নেওয়ার মতো অভিযোগ গঠন করা হয়নি। এটি কোনো পূর্ণাঙ্গ বিচার শেষে নির্দোষ ঘোষণার রায়ের সঙ্গে এক বিষয় নয়।

তৎকালীন জেলা অ্যাটর্নি হিদার ম্যাকমিন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, টেক্সাসের আইনে যৌন নির্যাতন থামাতে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগ আইনসম্মত হতে পারে। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাবা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সময় তাঁর মেয়ের ওপর যৌন নির্যাতন চলছিল বলে কর্তৃপক্ষ মনে করেছিল। এ কারণেই বিচারিক অনুসন্ধানের সিদ্ধান্তে বাবার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়নি।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিষয় রয়েছে। কাউকে আঘাত করার পর তাঁর মৃত্যু হলেই প্রতিটি ঘটনাকে একইভাবে বিচার করা হয় না। আত্মরক্ষার অধিকার, অন্য কাউকে তাৎক্ষণিক বিপদ থেকে রক্ষা করার প্রয়োজন, ব্যবহৃত বলপ্রয়োগের পরিস্থিতি এবং ঘটনাস্থলে কী ঘটেছিল—এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়। তবে আত্মরক্ষার দাবি করলেই যে কোনো ধরনের বলপ্রয়োগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধ হয়ে যায়, এমন নয়। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রমাণ এবং ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতিই গুরুত্বপূর্ণ 

এ মামলায় বাবার পরিচয় প্রকাশ করেনি একাধিক সংবাদমাধ্যম। এর কারণ ছিল যৌন নির্যাতনের শিকার অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুটির পরিচয় ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করা। শিশুটির নিরাপত্তা এবং পরিবারের মানসিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে বাবার আইনজীবীও সংবাদমাধ্যমকে পরিবারটির ব্যক্তিগত জীবনকে সম্মান করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
ঘটনাটি প্রকাশের পর স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে বাবার পক্ষে মত দেন। তাঁদের মতে, নিজের সন্তানকে রক্ষা করতে গিয়ে তিনি যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন, তা ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। অন্যদিকে, আইন বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় উঠে আসে—তাৎক্ষণিক বিপদ দূর হয়ে যাওয়ার পর বলপ্রয়োগ চলতে থাকলে তার আইনি মূল্যায়ন ভিন্ন হতে পারে। তবে এই নির্দিষ্ট মামলায় বিচারিক অনুসন্ধান শেষে অভিযোগ গঠন করা হয়নি।

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার সময় একে ‘এইমাত্র ঘটে যাওয়া ঘটনা’ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। তথ্য যাচাইয়ে এর পক্ষে কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি। বরং ২০১২ সালের জুনে প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলো ঘটনাটির সময়, স্থান এবং বিচারিক সিদ্ধান্ত সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য দেয়। অতএব, ঘটনাটিকে সাম্প্রতিক ঘটনা হিসেবে প্রচার করা বিভ্রান্তিকর।


ট্যাগ: টেক্সাসযুক্তরাষ্ট্রশিশু নির্যাতনশিশুর নিরাপত্তাআত্মরক্ষা আইনবিচারিক অনুসন্ধান

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।