যুক্তরাষ্ট্রে ছুরি ও সুরক্ষাবর্মে সাংবিধানিক অধিকার, নতুন বিতর্কে অস্ত্র আইন
যুক্তরাষ্ট্রের দুই আদালতের রায়ে স্বয়ংক্রিয় ছুরি ও ব্যক্তিগত সুরক্ষাবর্ম নিয়ে সাংবিধানিক বিতর্ক জোরালো হয়েছে, সামনে আধুনিক রাইফেল নিষেধাজ্ঞা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ শুনানি।
যুক্তরাষ্ট্রে ছুরি ও সুরক্ষাবর্মে সাংবিধানিক অধিকার, নতুন বিতর্কে অস্ত্র আইন
৮,৬৪৬ বার পড়া হয়েছে ৮ মিনিটে পড়ুন
যুক্তরাষ্ট্রে অস্ত্র রাখার সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গত ২১ অক্টোবর দুটি গুরুত্বপূর্ণ আদালতের সিদ্ধান্তে একদিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে যায় এমন ছুরির ওপর ফেডারেল বিধিনিষেধ, অন্যদিকে ব্যক্তিগত সুরক্ষাবর্ম কেনার ওপর নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। দুই মামলাতেই বিচারকেরা আত্মরক্ষায় ব্যবহৃত সরঞ্জামকে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনীর সুরক্ষার আওতায় বিবেচনা করেছেন। তবে দুই সিদ্ধান্তের আইনি প্রভাব এক নয়। বিশেষ করে ছুরিসংক্রান্ত মামলায় আপিল আদালত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধানের বিরুদ্ধে রায় দিলেও অন্য একটি বিধানের বিরুদ্ধে করা চ্যালেঞ্জ খারিজ করেছে। অন্যদিকে সুরক্ষাবর্মের মামলায় নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত কার্যকরের ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারিক এই অগ্রগতির গুরুত্ব আরও বেড়েছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতে আধুনিক স্বয়ংক্রিয় রাইফেলের ওপর নিষেধাজ্ঞার সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ শুনানি সামনে রয়েছে। ‘ভিরামন্টেস বনাম কুক কাউন্টি’ মামলায় আদালতকে বিবেচনা করতে হবে, এআর-১৫ ধরনের আধা-স্বয়ংক্রিয় রাইফেল সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনীতে সুরক্ষিত অস্ত্রের আওতায় পড়ে কি না। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মামলাটির শুনানি ২০২৬ সালের ২ ডিসেম্বর নির্ধারিত হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে গোলাবারুদের বড় ধারণক্ষমতার ম্যাগাজিন, স্বয়ংক্রিয় ছুরি এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষার অন্যান্য সরঞ্জামের ওপর বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে মামলাতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে অস্ত্র রাখার অধিকারের পক্ষে থাকা সংগঠনগুলো মনে করছে।
টেক্সাস থেকে আসা ছুরিসংক্রান্ত মামলাটির নাম ‘নাইফ রাইটস বনাম ব্লাঞ্চ’। যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম সার্কিট আপিল আদালত ২১ অক্টোবর এ মামলায় রায় দেয়। মামলাটির কেন্দ্রে রয়েছে ১৯৫৮ সালের ফেডারেল সুইচব্লেড আইন। এই আইনের একটি ধারায় অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে যায় এমন ছুরির প্রবেশ, তৈরি, পরিবহন ও বিতরণ নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। আদালত বলেছে, এই বিধিনিষেধ সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনীর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিচারকদের মতে, এ ধরনের ছুরিও আত্মরক্ষা ও অন্যান্য বৈধ কাজে ব্যবহৃত হতে পারে। ফলে শুধু আগ্নেয়াস্ত্র নয়, অন্য কিছু অস্ত্রও সংবিধানের সুরক্ষার আওতায় পড়তে পারে। এই মামলায় প্রধান বিচারক জেনিফার ওয়াকার এলরডের নেতৃত্বে তিন বিচারকের বেঞ্চ ঐতিহাসিক আইন ও সংবিধানের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্তে পৌঁছায়। আদালত উল্লেখ করে, ছুরি দীর্ঘদিন ধরে আত্মরক্ষা, শিকার, মাছ ধরা, শিবির স্থাপন এবং দৈনন্দিন বিভিন্ন বৈধ কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আদালতের দৃষ্টিতে, অস্ত্রের সাংবিধানিক সুরক্ষা শুধু আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাই সরকারকে দেখাতে হবে, আধুনিক কোনো অস্ত্রের ওপর বিধিনিষেধের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস ও আইনগত ঐতিহ্যে যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে। ১৯৫৮ সালে ফেডারেল সুইচব্লেড আইন প্রণয়নের পেছনে কিশোর অপরাধ নিয়ে তৎকালীন উদ্বেগের ভূমিকা ছিল। তবে আপিল আদালতের মতে, সরকার এমন পর্যাপ্ত ঐতিহাসিক আইন দেখাতে পারেনি, যেগুলো আধুনিক আইনের মতোই ছুরির তৈরি, পরিবহন ও আন্তরাজ্য বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করত। সরকারের পক্ষে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল, বিপজ্জনক অস্ত্রের বিস্তার রোধে এই আইন প্রয়োজনীয়। কিন্তু আদালত মনে করেছে, জননিরাপত্তার উদ্দেশ্য থাকলেই কোনো বিধিনিষেধ সাংবিধানিক হয়ে যায় না; বিধিনিষেধটির সঙ্গে দেশের ঐতিহাসিক আইনগত ঐতিহ্যেরও সামঞ্জস্য থাকতে হবে। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রায়টিকে যুক্তরাষ্ট্রের সব এলাকায় সব ধরনের স্বয়ংক্রিয় ছুরির ওপর থাকা সব নিষেধাজ্ঞা বাতিল হিসেবে দেখা যাবে না। আপিল আদালত আন্তরাজ্য বাণিজ্যসংক্রান্ত আইনের একটি ধারার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত দিয়েছে এবং বিষয়টি পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের জন্য নিম্ন আদালতে ফেরত পাঠিয়েছে। কিন্তু ফেডারেল অঞ্চল, আদিবাসী অধ্যুষিত ভূখণ্ড ও কিছু বিশেষ ফেডারেল এলাকায় ছুরি তৈরি, বিক্রি বা রাখার ওপর বিধিনিষেধ নিয়ে পৃথক ধারার বিরুদ্ধে করা বিস্তৃত চ্যালেঞ্জ আদালত খারিজ করেছে। অর্থাৎ, রায়টি গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর আইনি সীমা রয়েছে।
একই দিনে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ব্যক্তিগত সুরক্ষাবর্মসংক্রান্ত আইনের বিরুদ্ধেও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসে। ‘হিটার বনাম জেমস’ মামলায় নিউইয়র্কের পশ্চিমাঞ্চলীয় ফেডারেল জেলা আদালতের বিচারক জন এল সিনাত্রা জুনিয়র রায় দেন, নির্দিষ্ট যোগ্য পেশায় যুক্ত নন—এমন সাধারণ বাসিন্দাদের ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য সুরক্ষাবর্ম কেনার ওপর অঙ্গরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনীর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ২১ অক্টোবর দেওয়া সিদ্ধান্তে আদালত বাদীপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করে এবং সংশ্লিষ্ট বিধান কার্যকর করা থেকে অঙ্গরাজ্যের কর্মকর্তাদের বিরত রাখার নির্দেশ দেয়। তবে অঙ্গরাজ্যের আবেদনে আপিলের সুযোগ দেওয়ার জন্য ১৪ দিনের স্থগিতাদেশও মঞ্জুর করা হয়। ফলে সিদ্ধান্তটি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই নিষেধাজ্ঞা স্থায়ীভাবে অকার্যকর হয়ে গেছে—এমন দাবি করা ঠিক হবে না।
নিউইয়র্কের আইনটি মূলত সাধারণ নাগরিকদের ব্যক্তিগত সুরক্ষার জন্য ব্যবহৃত বর্ম কেনা ও বিক্রির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল। অঙ্গরাজ্যের যুক্তি ছিল, অস্ত্রসংক্রান্ত সহিংসতা কমানো এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এ ধরনের নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। বাদীপক্ষের বক্তব্য ছিল, ব্যক্তিগত সুরক্ষাবর্ম আত্মরক্ষায় ব্যবহৃত হয় এবং সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনীর আওতায় একে সুরক্ষিত সরঞ্জাম হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। আদালত বাদীপক্ষের যুক্তির সঙ্গে একমত হয়ে বলেছে, সুরক্ষাবর্মও সাংবিধানিক অর্থে অস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। সরকারের পক্ষে এই ধরনের ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার সমর্থনে যথেষ্ট ঐতিহাসিক নজির উপস্থাপন করা যায়নি বলেও আদালত মত দিয়েছে।
আদালতের এই ব্যাখ্যা তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ সুরক্ষাবর্ম নিজে আক্রমণ করার জন্য তৈরি নয়; বরং এটি শরীরকে আঘাত থেকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়। আধুনিক সুরক্ষাবর্মে কেভলারের মতো কৃত্রিম উপাদান ব্যবহার করা হয়, যা প্রতিষ্ঠাকালীন আমেরিকায় প্রচলিত ছিল না। কিন্তু আদালতের মতে, কোনো সরঞ্জাম সংবিধান প্রণয়নের সময় বিদ্যমান ছিল না বলেই সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাংবিধানিক সুরক্ষার বাইরে চলে যায় না। সংবিধানের ভাষা আধুনিক পরিস্থিতিতেও প্রযোজ্য হতে পারে। বিচারক আরও বলেছেন, সহিংস অপরাধে সুরক্ষাবর্ম ব্যবহারের বিরুদ্ধে পৃথক আইন থাকলেও তা সাধারণ আইনমান্য নাগরিকের কেনার অধিকার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করার পক্ষে যথেষ্ট ঐতিহাসিক ভিত্তি তৈরি করে না। এই দুই সিদ্ধান্তের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের আগের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ের প্রভাব রয়েছে। ২০০৮ সালের ‘ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া বনাম হেলার’ মামলায় সর্বোচ্চ আদালত ব্যক্তিগতভাবে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার সাংবিধানিক অধিকার স্বীকার করেছিল। পরে ২০২২ সালের ‘নিউইয়র্ক স্টেট রাইফেল অ্যান্ড পিস্তল অ্যাসোসিয়েশন বনাম ব্রুয়েন’ মামলায় আদালত অস্ত্রসংক্রান্ত বিধিনিষেধ যাচাইয়ের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক আইন ও ঐতিহ্যের গুরুত্ব তুলে ধরে। আধুনিক কোনো বিধিনিষেধ সাংবিধানিক কি না, তা নির্ধারণের সময় সরকারকে প্রাসঙ্গিক ঐতিহাসিক নজিরের মাধ্যমে তার যৌক্তিকতা প্রতিষ্ঠা করতে হতে পারে। সাম্প্রতিক দুই মামলায় বিচারকেরা সেই নীতির প্রয়োগ করেছেন।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, সুপ্রিম কোর্টের আসন্ন রাইফেল মামলায় এই যুক্তিগুলো কতটা প্রভাব ফেলবে। এআর-১৫ ধরনের রাইফেল যুক্তরাষ্ট্রে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিতর্কের অন্যতম প্রধান বিষয়। কিছু অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সরকার এসব রাইফেল এবং উচ্চ ধারণক্ষমতার ম্যাগাজিনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এসব বিধিনিষেধের সমর্থকেরা জননিরাপত্তা ও প্রাণঘাতী সহিংসতা কমানোর বিষয়টি গুরুত্ব দেন। অন্যদিকে অস্ত্র রাখার অধিকারের পক্ষে থাকা সংগঠনগুলো বলছে, আইনমান্য নাগরিকদের আত্মরক্ষার অধিকার অযৌক্তিকভাবে সীমিত করা উচিত নয়। ‘ভিরামন্টেস বনাম কুক কাউন্টি’ মামলায় সর্বোচ্চ আদালতের সামনে যে প্রশ্ন রয়েছে, তা কেবল একটি নির্দিষ্ট রাইফেলের বৈধতা নিয়ে নয়। এর মাধ্যমে আদালত আধুনিক অস্ত্রের সংজ্ঞা, প্রচলিত ব্যবহারের গুরুত্ব এবং সরকারের নিয়ন্ত্রণ আরোপের ক্ষমতা নিয়ে আরও স্পষ্ট নির্দেশনা দিতে পারে। নিচের আদালতগুলোতে এআর-১৫ ধরনের রাইফেলকে সামরিক অস্ত্রের সঙ্গে তুলনা করে সাংবিধানিক সুরক্ষার বাইরে রাখার যুক্তি এসেছে। মামলাটিতে সেই ব্যাখ্যা পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে শুনানির ফল কী হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যায় না।
অস্ত্র রাখার অধিকারের পক্ষে থাকা সংগঠনগুলোর মতে, ছুরি ও সুরক্ষাবর্মের মামলায় আদালত যে নীতি অনুসরণ করেছে, তা রাইফেলসংক্রান্ত বিতর্কেও কাজে লাগতে পারে। তাদের যুক্তি, কোনো সরঞ্জাম আত্মরক্ষা বা অন্য বৈধ কাজে ব্যবহৃত হলে কেবল তার সম্ভাব্য বিপদের কথা বলে সেটিকে সাংবিধানিক সুরক্ষার বাইরে রাখা উচিত নয়। তবে এই অবস্থান নিয়ে মতভেদ রয়েছে। জননিরাপত্তার পক্ষে থাকা ব্যক্তিরা মনে করেন, অস্ত্রের ধরন, ব্যবহার, প্রাণঘাতী ক্ষমতা এবং সমাজে তার সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনা করে বিধিনিষেধ আরোপের সুযোগ সরকারের থাকা দরকার। এখানে ছুরি, সুরক্ষাবর্ম এবং আধা-স্বয়ংক্রিয় রাইফেলকে একই ধরনের আইনি বিষয় হিসেবে দেখা উচিত হবে না। এগুলোর ব্যবহার, কার্যকারিতা এবং ঝুঁকি এক নয়। একটি ছুরির ওপর আন্তরাজ্য বাণিজ্যসংক্রান্ত বিধিনিষেধ বাতিলের সিদ্ধান্ত থেকে সরাসরি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না যে সব ধরনের রাইফেল নিষেধাজ্ঞাও বাতিল হবে। একইভাবে, নিউইয়র্কের সুরক্ষাবর্মসংক্রান্ত রায়ও সব অঙ্গরাজ্যে একই ধরনের আইন অকার্যকর করে দেয়নি। প্রতিটি মামলায় সংশ্লিষ্ট আইন, আদালতের এখতিয়ার এবং রায়ের নির্দিষ্ট পরিধি বিবেচনা করতে হবে।
সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলোর আরেকটি তাৎপর্য হলো, অস্ত্রের সাংবিধানিক সংজ্ঞা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থায় বিতর্ক আরও বিস্তৃত হচ্ছে। আগে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে প্রধানত আগ্নেয়াস্ত্র থাকলেও এখন আত্মরক্ষায় ব্যবহৃত অন্যান্য সরঞ্জামের বিষয়ও সামনে আসছে। এর ফলে ভবিষ্যতে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন নিয়ে নতুন মামলা হতে পারে। তবে কোনো আদালত একটি সরঞ্জামকে সাংবিধানিক সুরক্ষার আওতায় স্বীকার করলেই তার ওপর সব ধরনের নিয়ন্ত্রণ নিষিদ্ধ হয়ে যায় না। আদালতের সিদ্ধান্তে নির্দিষ্ট আইনের বৈধতা এবং সরকারের পক্ষে উপস্থাপিত যুক্তির যথার্থতা বিচার করা হয়। সব মিলিয়ে, ২১ অক্টোবরের দুটি সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রে অস্ত্র রাখার সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে চলমান বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পঞ্চম সার্কিট আপিল আদালত স্বয়ংক্রিয় ছুরির আন্তরাজ্য বাণিজ্যসংক্রান্ত একটি ফেডারেল বিধিনিষেধকে অসাংবিধানিক বলে চিহ্নিত করেছে। অন্যদিকে নিউইয়র্কের ফেডারেল জেলা আদালত সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষাবর্ম কেনার ওপর অঙ্গরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে, যদিও সেই সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে। এখন নজর থাকবে ডিসেম্বরের সুপ্রিম কোর্টের শুনানির দিকে। সেখানে এআর-১৫ ধরনের রাইফেল নিয়ে সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন ও সাংবিধানিক অধিকারের ভবিষ্যৎ বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।