সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা, আট লাখের বেশি আবেদন ঝুলে থাকার খবরবিরোধীরা এখন সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে, অতীতে আমরা বসার জায়গাও পাইনি: মীর শাহে আলমআফগান মেয়েদের শিক্ষার অধিকার ফেরাতে তালেবানের ওপর চাপ বাড়াল ইউরোপীয় ইউনিয়নভেনেজুয়েলায় অবাধ নির্বাচনের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ, ভোটের তারিখ ঘোষণার চাপ বাড়ছেপশ্চিম তীরে গুলির হামলার পর নেতানিয়াহুর নির্দেশে লিকুদ দলের সব রাজনৈতিক কর্মসূচি বাতিল

যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা, আট লাখের বেশি আবেদন ঝুলে থাকার খবর

নাগরিকত্বের আবেদন নিষ্পত্তি কমে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে লাখো অভিবাসী অপেক্ষায় রয়েছেন। নির্বাচনের আগে ভোট দেওয়ার সুযোগ নিয়েও বাড়ছে অনিশ্চয়তা।

যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা, আট লাখের বেশি আবেদন ঝুলে থাকার খবর
যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা, আট লাখের বেশি আবেদন ঝুলে থাকার খবর

যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা অভিবাসীদের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নাগরিকত্বের আবেদন অনুমোদনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় অনেক আবেদনকারী দীর্ঘদিন ধরে সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই বিলম্ব বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে, কারণ নাগরিকত্ব না পাওয়া পর্যন্ত অধিকাংশ স্থায়ী বাসিন্দা ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন না।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ প্রায় ১ লাখ ৭৩ হাজার আবেদনকারীকে নাগরিকত্ব দিয়েছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা ৭২ শতাংশ কম। একই সময়ে নাগরিকত্বের আবেদনসংক্রান্ত বকেয়া মামলা প্রায় ৫ লাখ থেকে বেড়ে ৮ লাখের বেশি হয়েছে। ২০২৬ সালের আগস্টে গড় অপেক্ষার সময় প্রায় ১৩ মাসে পৌঁছেছে।

এই পরিস্থিতিতে নাগরিকত্বের আবেদনকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। কেউ ইংরেজি ও নাগরিকত্ববিষয়ক পরীক্ষা শেষ করেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন। আবার কারও সাক্ষাৎকার শেষ হলেও শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠানের তারিখ নির্ধারিত হয়নি। নাগরিকত্বের শপথ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আবেদনকারী আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন নাগরিক হন না।

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা—ইউএসসিআইএস—আবেদন যাচাই আরও কঠোর করার কথা জানিয়েছে। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, যোগ্য ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে যাচাই-বাছাই জোরদার করা হচ্ছে। অন্যদিকে অভিবাসন আইনজীবী ও নাগরিক অধিকারকর্মীরা বলছেন, আবেদন নিষ্পত্তির গতি কমে যাওয়ায় বৈধভাবে নাগরিকত্ব পেতে আগ্রহী ব্যক্তিরাও দীর্ঘ অপেক্ষার মধ্যে পড়ছেন।

নাগরিকত্বের আবেদন আটকে থাকলে তার প্রভাব শুধু ভোটাধিকারেই সীমাবদ্ধ নয়। কিছু আবেদনকারীর বিদেশে যাতায়াত, পারিবারিক পরিকল্পনা ও চাকরিসংক্রান্ত সিদ্ধান্তেও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। তবে শুধু আবেদন বিলম্বিত হয়েছে বলেই কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বা তাঁর স্থায়ী বসবাসের অধিকার বাতিল হবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর কারণ নেই। প্রত্যেকের পরিস্থিতি আলাদা এবং আবেদনসংক্রান্ত সরকারি নথি দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি গ্রিন কার্ডধারীদের জন্যও বিষয়টি প্রাসঙ্গিক। নাগরিকত্বের আবেদন করে থাকলে ইউএসসিআইএসের অনলাইন অ্যাকাউন্টে আবেদনের অবস্থা নিয়মিত পরীক্ষা করা, কর্তৃপক্ষের চিঠির জবাব সময়মতো দেওয়া এবং ঠিকানা পরিবর্তন হলে তা হালনাগাদ রাখা জরুরি। অস্বাভাবিক দীর্ঘ বিলম্ব বা জটিলতা দেখা দিলে যোগ্য অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

আবেদনকারীরা ইউএসসিআইএসের সরকারি ওয়েবসাইটে আবেদনসংক্রান্ত তথ্য ও প্রক্রিয়াকরণের সময় দেখতে পারেন: https://www.uscis.gov/

নাগরিকত্বের আবেদন নিষ্পত্তি ধীর হয়ে যাওয়ার কারণ এবং এর প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। তবে আবেদন অনুমোদনের সংখ্যা কমে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে প্রত্যেক আবেদনকারী প্রত্যাখ্যাত হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তই এখনো হয়নি। তাই গুজবের পরিবর্তে সরকারি নোটিশ ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের ওপর নির্ভর করাই আবেদনকারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ট্যাগ: যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বমার্কিন নাগরিকত্ব আবেদনঅভিবাসন সংকটগ্রিন কার্ডধারীনাগরিকত্ব আবেদন বিলম্বইউএসসিআইএসঅভিবাসন নীতিমার্কিন অভিবাসননাগরিকত্ব অনুমোদনভোটাধিকারমধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬বাংলাদেশি অভিবাসীবাংলাদেশি গ্রিন কার্ডধারী

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।