অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬
নির্বাচনের আগে ক্যালিফোর্নিয়ায় ভোটার যাচাই নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন পদক্ষেপ
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ক্যালিফোর্নিয়ার ভোটার তালিকা যাচাই নিয়ে ফেডারেল প্রশাসন ও অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ক্যালিফোর্নিয়ায় ভোটারদের নাগরিকত্ব যাচাই নিয়ে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। ভোটার তালিকায় সম্ভাব্য অনাগরিকদের শনাক্ত করা এবং নাগরিকত্ব যাচাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কিছু মেইল ব্যালট আলাদা রাখার অনুরোধকে কেন্দ্র করে ফেডারেল প্রশাসন ও অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে।
২৪ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন বিচার বিভাগ ক্যালিফোর্নিয়ার ৫৮টি কাউন্টির নির্বাচনী কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে ফেডারেল সরকারের তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব যাচাইয়ে সহযোগিতা চেয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্মকর্তাদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছিল। সহযোগিতা না করলে উল্লেখযোগ্য ফেডারেল তদন্তের মুখোমুখি হতে পারেন বলেও চিঠিতে সতর্ক করা হয়েছে।
২৪ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন বিচার বিভাগ ক্যালিফোর্নিয়ার ৫৮টি কাউন্টির নির্বাচনী কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে ফেডারেল সরকারের তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব যাচাইয়ে সহযোগিতা চেয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্মকর্তাদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছিল। সহযোগিতা না করলে উল্লেখযোগ্য ফেডারেল তদন্তের মুখোমুখি হতে পারেন বলেও চিঠিতে সতর্ক করা হয়েছে।
প্রশাসনের দাবি, যেসব ব্যক্তির নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ রয়েছে, তাঁদের ভোটার নিবন্ধন ও ব্যালটের বিষয়টি যাচাই করা প্রয়োজন। তবে নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা যায়নি—এমন ব্যক্তিদের ব্যালট বাতিল করার বদলে যাচাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত আলাদা রাখার অনুরোধ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার কর্মকর্তারা এই উদ্যোগ নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, ফেডারেল সরকার কীভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্ভাব্য অনাগরিক হিসেবে শনাক্ত করেছে, সে বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য দেওয়া হয়নি। ক্যালিফোর্নিয়ার সেক্রেটারি অব স্টেট শার্লি ওয়েবার অভিযোগ করেছেন, এই পদক্ষেপ সুরক্ষিত ভোটার-সংক্রান্ত তথ্যের ওপর অননুমোদিত প্রবেশের চেষ্টা এবং ভোটার তালিকা থেকে মানুষকে বাদ দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাঁর মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ নির্বাচনের প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে নাগরিকত্বের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য মার্কিন নাগরিক হওয়া আবশ্যক। তবে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের নামে যোগ্য নাগরিকের ভোটাধিকার যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটিও নির্বাচনী ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়। তাই সন্দেহভাজন ব্যক্তির পরিচয় যাচাই, ভোটার তালিকার নির্ভুলতা এবং বৈধ ভোটের সুরক্ষা—এই তিনটি বিষয়কে ঘিরেই বর্তমান বিতর্ক।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও খবরটি প্রাসঙ্গিক। বিশেষ করে যেসব পরিবারে মার্কিন নাগরিক, গ্রিন কার্ডধারী ও বিভিন্ন অভিবাসন-স্থিতির সদস্য একসঙ্গে বসবাস করেন, তাঁদের ভোটাধিকার ও নাগরিকত্বের নিয়ম সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা জরুরি। শুধু গ্রিন কার্ড থাকলেই ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার পাওয়া যায় না। অন্যদিকে, বৈধ মার্কিন নাগরিকের ভোটাধিকার নিয়ে কোনো প্রশ্ন উঠলে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী কর্মকর্তার কাছ থেকে সরাসরি তথ্য নেওয়া উচিত।
ক্যালিফোর্নিয়ার পরবর্তী পদক্ষেপ এবং ফেডারেল প্রশাসনের প্রতিক্রিয়ার ওপর এখন নজর থাকবে। ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই বিরোধ নির্বাচনী স্বচ্ছতা, নাগরিকত্ব যাচাই এবং ভোটারদের আস্থা নিয়ে চলমান জাতীয় আলোচনাকে আরও গুরুত্ব দিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে ভোট দিতে শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র ব্যবহারে বাধা, সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত

নিউইয়র্ক সিটিতে আগাম ভোট শুরু, পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবে সিদ্ধান্ত নেবেন ভোটাররা

ক্যালিফোর্নিয়ায় ভোট নিয়ে বড় পদক্ষেপ, ১৮ কাউন্টিকে ৪৮ ঘণ্টার সময় দিল যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ




