যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপণ্যের দাম ও জ্বালানি খরচে চাপে পরিবার, সামনে অর্থনীতির বড় পরীক্ষা
যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপণ্য ও জ্বালানির খরচে চাপে পরিবারগুলো। সামনে মূল্যস্ফীতি, সুদের সিদ্ধান্ত ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নতুন তথ্যের দিকে নজর সবার।
যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই সামনে আসছে দেশটির অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সপ্তাহ। মূল্যস্ফীতির নতুন তথ্য, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হিসাব এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের সিদ্ধান্তের দিকে নজর রাখছেন অর্থনীতিবিদ ও বিনিয়োগকারীরা। এসব তথ্য থেকে বোঝা যেতে পারে, মার্কিন অর্থনীতি কতটা স্থিতিশীল রয়েছে এবং সাধারণ পরিবারের জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ কোন দিকে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে দেশটির ভোক্তা মূল্যসূচক আগের মাসের তুলনায় ০.৬ শতাংশ বেড়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় মূল্যসূচক বেড়েছে ৩.৭ শতাংশ। আগস্টে বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৩.৪ শতাংশ। অর্থাৎ, সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির চাপ আগের মাসের তুলনায় বেড়েছে।
জ্বালানির দাম বৃদ্ধিও এই পরিস্থিতিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম আগের মাসের তুলনায় ৯.১ শতাংশ বেড়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় পেট্রলের মূল্যসূচক বেড়েছে ৩৪.২ শতাংশ। একই সময়ে সামগ্রিক জ্বালানি মূল্যসূচক মাসিক হিসাবে ৫.২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে গাড়িতে যাতায়াত, পণ্য পরিবহন এবং অন্যান্য জ্বালানিনির্ভর খরচ নিয়ে পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের উদ্বেগ বাড়তে পারে।
পরিবারের ওপর চাপ শুধু জ্বালানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, পরিবহন এবং বিভিন্ন পরিষেবার ব্যয়ও মাসিক বাজেটে প্রভাব ফেলে। সেপ্টেম্বরে আবাসন ব্যয়ের সূচক ০.৪ শতাংশ বেড়েছে। গত বছরের তুলনায় খাবারের মূল্যসূচক বেড়েছে ২.৫ শতাংশ। তবে ওই মাসে ঘরে খাওয়ার জন্য কেনা খাবারের মূল্যসূচক আগের মাসের তুলনায় অপরিবর্তিত ছিল। অর্থাৎ, সব পণ্যের দাম একই হারে বাড়ছে না; বিভিন্ন খাতে ব্যয়ের পরিবর্তনও আলাদা।
অর্থনীতির এই পরিস্থিতির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের সিদ্ধান্ত। ফেডারেল রিজার্ভের নীতিনির্ধারকেরা অক্টোবরের ২৭ ও ২৮ তারিখে বৈঠকে বসবেন। ২৮ অক্টোবর সুদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত ও সংশ্লিষ্ট ঘোষণা প্রত্যাশিত। মূল্যস্ফীতি বাড়তে থাকলে সুদের হার কমানোর সুযোগ সীমিত হতে পারে। আবার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও শ্রমবাজার দুর্বল হওয়ার লক্ষণ দেখা দিলে নীতিনির্ধারকদের সামনে ভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। তবে বৈঠকের আগে সিদ্ধান্ত কী হবে, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না।
এর পরের গুরুত্বপূর্ণ দিন বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর। সেদিন প্রকাশিত হওয়ার কথা সেপ্টেম্বরের ব্যক্তিগত আয় ও ব্যয়ের প্রতিবেদন, যার মধ্যে ব্যক্তিগত ভোগব্যয় মূল্যসূচক রয়েছে। এই সূচকটি ফেডারেল রিজার্ভের মূল্যস্ফীতি মূল্যায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি। একই দিনে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রাথমিক হিসাবও প্রকাশিত হওয়ার কথা। এসব তথ্য থেকে বোঝা যাবে, মূল্যস্ফীতির চাপের মধ্যেও মার্কিন অর্থনীতি কতটা গতিশীল রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্যও এই প্রতিবেদনগুলো গুরুত্বপূর্ণ। সুদের হার ঋণ, বাড়ি কেনার বন্ধকী ঋণ এবং ব্যবসায়িক অর্থায়নের ব্যয়কে প্রভাবিত করতে পারে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তের প্রভাব সব ধরনের ঋণে একইভাবে বা সঙ্গে সঙ্গে পড়ে না। একইভাবে, মূল্যস্ফীতি কমার অর্থ সাধারণত দাম আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়া নয়; বরং দাম বাড়ার গতি কমে আসা।
আগামী সপ্তাহের অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রের জীবনযাত্রার ব্যয় ও অর্থনীতির ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে। তবে জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজার, কর্মসংস্থান এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতির মতো বিষয়গুলোও পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করবে। তাই নতুন তথ্য প্রকাশের আগে মূল্যস্ফীতি কমে যাবে কিংবা পরিবারের ব্যয় দ্রুত হ্রাস পাবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।





