সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
বাড়ির খরচ কমাতে ট্রাম্পের নতুন উদ্যোগ, উপকৃত হতে পারেন যোগ্য মার্কিন বাড়ির মালিকরাফুটবলের জাদু ও মানবিক অবদানে স্পেনের সর্বোচ্চ ক্রীড়া সম্মাননা পেলেন মেসিমধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের জেতাতে মরিয়া ট্রাম্প, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বাড়ছে উত্তেজনারিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি, সৌদির প্রতিরোধের দাবি ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা বাড়ছেতাইওয়ানে টাইফুন চ্যাম্পির তাণ্ডব, নিহত ১, আহত ৫২৭, বিদ্যুৎ ও বিমান চলাচল বিপর্যস্ত

অভিবাসীদের মুখ ও গল্পে বদলে যাচ্ছে বাফেলোর পরিচিতি, সামনে আসছে তাঁদের অবদান

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের শুধু পরিসংখ্যান হিসেবে নয়, বরং পরিশ্রমী মানুষ, পরিবার ও কমিউনিটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে তুলে ধরছে নিউইয়র্কের একটি উদ্যোগ।

অভিবাসীদের মুখ ও গল্পে বদলে যাচ্ছে বাফেলোর পরিচিতি, সামনে আসছে তাঁদের অবদান
অভিবাসীদের মুখ ও গল্পে বদলে যাচ্ছে বাফেলোর পরিচিতি, সামনে আসছে তাঁদের অবদান

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফেলো শহরে অভিবাসীদের জীবন, সংস্কৃতি ও অবদান তুলে ধরতে শুরু হয়েছে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। বিলবোর্ড ও শিল্পপ্রদর্শনীর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের অভিবাসী ও শরণার্থীদের ব্যক্তিগত গল্প সামনে আনা হচ্ছে। উদ্দেশ্য—অভিবাসীদের কেবল অভিবাসননীতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ হিসেবে নয়, বরং সমাজের সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিত করা।

২০২৬ সালের ২০ অক্টোবর প্রকাশিত বাফেলো টরন্টো পাবলিক মিডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশনের ‘বাফেলো প্রাউড’ প্রচারণায় পশ্চিম নিউইয়র্কের বিভিন্ন অভিবাসী ও শরণার্থীর ছবি এবং তাঁদের জীবনের গল্প ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রচারণার অংশ হিসেবে শহরের বিভিন্ন স্থানে বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি বাফেলোর সিইপিএ আর্ট গ্যালারিতে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত ছবির একটি প্রদর্শনী রাখার কথা জানানো হয়েছে।

এই উদ্যোগে উঠে এসেছে ভিয়েতনাম, পেরু, জ্যামাইকা এবং অন্যান্য দেশ থেকে আসা মানুষের অভিজ্ঞতা। তাঁদের কারও গল্প নতুন দেশে এসে পরিবার গড়ার, কারও পরিশ্রম করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠার, আবার কারও নিজের সংস্কৃতি ধরে রেখে স্থানীয় সমাজে অবদান রাখার।

প্রচারণায় স্থান পেয়েছেন দাও ট্রান। প্রায় ৫০ বছর আগে তিনি স্বামী ও পরিবার নিয়ে ভিয়েতনাম থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। তাঁর অভিজ্ঞতায়, নতুন দেশে এসে নিজের জায়গা তৈরি করতে কাজ, সামাজিক যোগাযোগ এবং মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি চান, অভিবাসীদের পরিশ্রম ও ভবিষ্যৎ গড়ার আকাঙ্ক্ষা স্থানীয় মানুষ আরও ভালোভাবে বুঝুক।

এ উদ্যোগে আরও রয়েছেন ফ্যানি ওলায়া। তিনি পেরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন প্রায় দুই দশক আগে। তিনি নাচ শেখান এবং বাফেলো স্টেট ইউনিভার্সিটিতে স্প্যানিশ ভাষা পড়ান। তাঁর মতে, নিজেদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরার সুযোগ অভিবাসীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং বৃহত্তর সমাজের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে সহায়তা করে।

প্রচারণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো অভিবাসীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবদানকে সামনে আনা। বাফেলোর জ্যামাইকান খাবারের ব্যবসা ‘শেফ বিগওয়েইনস জ্যামাইকান কুইজিন’-এর মালিক ডোয়াইন জোন্সও এই উদ্যোগে অংশ নিয়েছেন। তাঁর মতো ব্যবসায়ীরা স্থানীয় অর্থনীতিতে কাজের সুযোগ তৈরি করেন, খাবার ও সংস্কৃতির মাধ্যমে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষকে কাছাকাছি আনেন।

নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশনের কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, মানুষের ব্যক্তিগত পরিচয়, সম্পর্ক, অভিজ্ঞতা ও কমিউনিটির প্রতি অবদানকে গুরুত্ব দেওয়াই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। তাঁদের মতে, অভিবাসীদের নিয়ে আলোচনা যখন শুধু রাজনৈতিক বিতর্কে সীমাবদ্ধ থাকে, তখন তাঁদের বাস্তব জীবন ও মানবিক অভিজ্ঞতা আড়ালে পড়ে যেতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্যও এই উদ্যোগের সঙ্গে পরিচিত অভিজ্ঞতার মিল রয়েছে। অনেক বাংলাদেশি পরিবার ছোট ব্যবসা পরিচালনা, রেস্তোরাঁয় কাজ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহন এবং বিভিন্ন পেশার মাধ্যমে স্থানীয় কমিউনিটির অংশ হয়ে উঠেছেন। তাঁদের সন্তানেরা স্কুল ও কলেজে পড়ছে, নতুন প্রজন্ম বিভিন্ন পেশায় এগিয়ে যাচ্ছে, আর প্রবাসী সংগঠনগুলো নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছে।

তবে নতুন দেশে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথ সবার জন্য এক নয়। ভাষাগত বাধা, কর্মসংস্থান, বাসস্থানের ব্যয়, সামাজিক যোগাযোগ এবং সাংস্কৃতিক পার্থক্য অনেকের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। তাই অভিবাসীদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার পাশাপাশি তাঁদের জন্য তথ্য, শিক্ষা ও সামাজিক সংযোগের সুযোগ তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ।

বাফেলোর এই প্রচারণা দেখাচ্ছে, স্থানীয় মানুষের গল্পকে জনসমক্ষে তুলে ধরতে বিলবোর্ড ও শিল্পপ্রদর্শনীও কার্যকর মাধ্যম হতে পারে। একটি ছবি বা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা কখনো কখনো এমন মানুষের জীবন সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে, যাঁদের সঙ্গে দর্শকের আগে পরিচয়ই ছিল না।

অভিবাসীদের গল্পের মধ্য দিয়ে শহরের পরিচয় তুলে ধরার এই উদ্যোগের বার্তা স্পষ্ট একটি কমিউনিটি শুধু কোথা থেকে মানুষ এসেছে, তা দিয়ে গড়ে ওঠে না; বরং তারা কীভাবে একসঙ্গে বাস করে, কাজ করে এবং ভবিষ্যৎ গড়ে তোলে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

ট্যাগ: বাফেলোনিউইয়র্কঅভিবাসীশরণার্থীঅভিবাসীদেরগল্পঅভিবাসীদেরঅবদানসাংস্কৃতিকবৈচিত্র্যপ্রবাসীজীবন

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।