অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬
ক্যালিফোর্নিয়ায় ভোট নিয়ে বড় পদক্ষেপ, ১৮ কাউন্টিকে ৪৮ ঘণ্টার সময় দিল যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ক্যালিফোর্নিয়ার অন্তত ১৮টি কাউন্টিতে সন্দেহভাজন ভোটারদের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন বিচার বিভাগ, শুরু হয়েছে আইনি বিরোধ।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ক্যালিফোর্নিয়ায় ভোটারদের নাগরিকত্ব যাচাই নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও অঙ্গরাজ্য প্রশাসনের মধ্যে বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে। শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর মার্কিন বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা ক্যালিফোর্নিয়ার অন্তত ১৮টি কাউন্টির নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে সন্দেহভাজন অনাগরিক ভোটারদের সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যালট যাচাই করতে ৪৮ ঘণ্টার সময় দিয়েছেন। শনিবার এ খবর প্রকাশিত হয়।
বিচার বিভাগের চিঠিতে সংশ্লিষ্ট ভোটারদের পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য, সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর, পরিচয়পত্রের তথ্য এবং ভোটার নিবন্ধনের নথি চাওয়া হয়েছে। যেসব ব্যালটের ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব যাচাই করা সম্ভব হবে না, সেগুলো আলাদা করে রাখার অনুরোধও জানানো হয়েছে। ফেডারেল কর্মকর্তাদের বক্তব্য, নির্বাচনে অনাগরিকদের অবৈধ ভোটদান ঠেকানো এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য।
বিষয়টি নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্য ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের মধ্যে আগে থেকেই আইনি বিরোধ চলছিল। চলতি মাসে কেন্দ্রীয় সরকার লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি এবং ক্যালিফোর্নিয়ার অঙ্গরাজ্য নির্বাচন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলায় প্রায় ২০ হাজার ভোটারের বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে তাঁদের ব্যালট গণনা বন্ধ রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার এ মামলার শুনানির কথা রয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার কর্মকর্তারা কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের আশঙ্কা, যাচাইয়ের এই পদ্ধতিতে ভুলভাবে মার্কিন নাগরিকদেরও সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হতে পারে। এতে বৈধ ভোটারদের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি নির্বাচনের ফল অনুমোদনেও বিলম্ব ঘটতে পারে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়ায় ২৩ মিলিয়নের বেশি নিবন্ধিত ভোটার রয়েছেন এবং অঙ্গরাজ্যটি ইতিমধ্যে ডাকযোগে ব্যালটের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করছে। অঙ্গরাজ্যের তথ্য অনুযায়ী, ৩ লাখ ৩০ হাজারের বেশি ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট ইতিমধ্যে গণনা করা হয়েছে।
এ সপ্তাহে কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ সন্দেহভাজন ভোটার তালিকার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার কথাও জানিয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন, ভোট দেওয়া অথবা নাগরিকত্বের আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে অভিযোগ আনা মানেই আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য মার্কিন নাগরিক হতে হয়। তবে ভোটার তালিকায় নাম থাকা বা ভোটসংক্রান্ত ডাক পাওয়া নিজে থেকেই নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। একইভাবে, কোনো ব্যক্তির নাম সন্দেহভাজন তালিকায় থাকা মানেই তিনি অবৈধভাবে ভোট দিয়েছেন, এমন সিদ্ধান্তও নেওয়া যায় না।
আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ, সিনেট এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পদে ভোট হবে। ক্যালিফোর্নিয়ার এই আইনি বিরোধ নির্বাচনী প্রক্রিয়া, ভোটার যাচাই এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। আদালতের সিদ্ধান্ত ও অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর এখন পরিস্থিতির অগ্রগতি নির্ভর করছে।

ভোটার খুঁজতে অভিবাসীদের দরজায় ফেডারেল কর্মকর্তারা, আদালতের বড় বাধা

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের জেতাতে মরিয়া ট্রাম্প, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বাড়ছে উত্তেজনা

যুক্তরাষ্ট্রে আগাম ভোট ২ কোটি ছাড়াল, সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তেজনা





