সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
হেবরনে হামলার পর পশ্চিম তীরে বড় সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল সরকারবাড়ির খরচ কমাতে ট্রাম্পের নতুন উদ্যোগ, উপকৃত হতে পারেন যোগ্য মার্কিন বাড়ির মালিকরাফুটবলের জাদু ও মানবিক অবদানে স্পেনের সর্বোচ্চ ক্রীড়া সম্মাননা পেলেন মেসিমধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের জেতাতে মরিয়া ট্রাম্প, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বাড়ছে উত্তেজনারিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি, সৌদির প্রতিরোধের দাবি ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা বাড়ছে

হেবরনে হামলার পর পশ্চিম তীরে বড় সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল সরকার

হেবরনে গুলিতে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহতের পর অভিযান জোরদার, বাড়িঘর ধ্বংস, প্রবেশপথ বন্ধ এবং বাস্তুচ্যুতির শিকার হচ্ছেন বহু ফিলিস্তিনি পরিবার।

হেবরনে হামলার পর পশ্চিম তীরে বড় সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল সরকার
হেবরনে হামলার পর পশ্চিম তীরে বড় সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল সরকার

অধিকৃত পশ্চিম তীরে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল। শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, হেবরন শহরের কাছে একটি সামরিক তল্লাশিচৌকিতে গুলির ঘটনায় দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই অভিযানের ঘোষণা দেন। ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে হামলায় অংশ নেওয়া দুই ফিলিস্তিনিও নিহত হন। এ ঘটনায় আরও তিন ইসরায়েলি সেনা আহত হয়েছেন বলে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বরাতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। হামলার পর হেবরনে আবাসিক ভবন ভাঙা, বিভিন্ন সড়ক বন্ধ, বাড়িঘর থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে দেওয়া এবং নিরাপত্তা অভিযান জোরদার করায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
শনিবার, ২৪ অক্টোবর, রয়টার্সের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হেবরনে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানের কারণে প্রায় ১ হাজার ২০০ ফিলিস্তিনি নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন বলে স্থানীয় এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আরও প্রায় ১ হাজার ৩০০ মানুষের বাড়িঘর হারানোর আশঙ্কা রয়েছে বলে হেবরন পৌরসভার প্রধান ইউসুফ জুহাইর আল-জাবারি উল্লেখ করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযান শুধু সন্দেহভাজন হামলাকারীদের অবস্থান শনাক্ত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বিভিন্ন আবাসিক ভবন, দোকান, কারখানা ও সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা এবং ক্ষয়ক্ষতির হিসাব স্থানীয় কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে।
হেবরনের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলি সরকারের সামরিক পরিকল্পনা আরও কঠোর হয়েছে। নেতানিয়াহু বলেছেন, যেসব এলাকা থেকে হামলাকারীরা এসেছেন, সেখানে সেনারা প্রবেশ করবে, বাসিন্দাদের সরিয়ে দেওয়া হবে, বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালানো হবে এবং অস্ত্র ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর অবকাঠামো ধ্বংস করা হবে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, ইসরায়েলি সরকার শুধু হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের খোঁজার মধ্যেই অভিযান সীমাবদ্ধ রাখতে চাইছে না; হামলাকারীদের বসবাসের এলাকাকেও সামরিক অভিযানের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজও অভিযানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের দাবি, এ পদক্ষেপের উদ্দেশ্য অস্ত্র উদ্ধার, সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা এবং ভবিষ্যতে হামলার ঝুঁকি কমানো।
শুক্রবারের হামলাটি ঘটে হেবরন শহরের কাছাকাছি একটি সামরিক তল্লাশিচৌকিতে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, দুই ফিলিস্তিনি বন্দুকধারী সেখানে গুলি চালান। এতে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হন এবং আরও তিনজন আহত হন। পরে ইসরায়েলি বাহিনীর পাল্টা গুলিতে দুই হামলাকারী নিহত হন। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানান, হামলাকারীদের ব্যবহৃত গাড়িতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ পাওয়া গেছে। তাঁদের দাবি, এসব অস্ত্র দিয়ে বেসামরিক মানুষের ওপর আরও বড় হামলার পরিকল্পনা থাকতে পারে। তবে সম্ভাব্য বৃহত্তর হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাই এ দাবিকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে নয়, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বক্তব্য হিসেবে বিবেচনা করা জরুরি।
হামলার পর হেবরনের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ ও আশপাশের সড়কে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শহরে প্রবেশ ও বের হওয়ার একাধিক পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কয়েকটি এলাকার সঙ্গে বাইরের যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। এতে কর্মস্থলে যাওয়া, চিকিৎসা নেওয়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে বাসিন্দারা জানিয়েছেন। শহরটির আশপাশের বিভিন্ন ফিলিস্তিনি জনপদেও চলাচলের ওপর বিধিনিষেধের খবর পাওয়া গেছে। ইসরায়েলি বাহিনী এসব ব্যবস্থা নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও সম্ভাব্য হামলা ঠেকানোর অংশ হিসেবে নিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই অভিযানের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো বেসামরিক মানুষের বাড়িঘর ধ্বংস এবং তাঁদের বাস্তুচ্যুত হওয়া। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার হেবরনের উত্তরাঞ্চলে রিয়াদ আমরিশ নামের এক ফিলিস্তিনির মালিকানাধীন তিনটি আবাসিক ইউনিটবিশিষ্ট একটি ভবন ভেঙে ফেলা হয়। ভবনটির প্রতিটি ইউনিটের আয়তন ছিল প্রায় ২০০ বর্গমিটার বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ভবনটি ভাঙার সময় আশপাশের এলাকা বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং বাসিন্দাদের চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। রয়টার্সের প্রতিবেদনেও হামলার পর হেবরনে ইসরায়েলি যন্ত্রপাতি দিয়ে আবাসিক ভবন ভাঙার বিষয়টি উঠে এসেছে।
তবে ভবন ভাঙার ঘটনাগুলো সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনায় রাখা দরকার। রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করেছেন, যেসব বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলোর মালিক বা বাসিন্দাদের সঙ্গে হামলাকারীদের সরাসরি সম্পর্ক ছিল না। তাঁদের বক্তব্য, তাঁরা হামলায় অংশ নেননি, অথচ তাঁদের বাড়ি ছাড়তে হয়েছে এবং সম্পত্তি হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে, অভিযানটি হামলাকারীদের ব্যবহৃত এলাকা ঘিরে পরিচালিত হচ্ছে এবং সেখানে অস্ত্র ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর অবকাঠামো খোঁজা হচ্ছে। ফলে কোন ভবন কী কারণে ভাঙা হয়েছে এবং প্রতিটি বাড়ির সঙ্গে হামলাকারীদের কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, তা ভবনভিত্তিক তথ্য ছাড়া নিশ্চিত করে বলা যায় না।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ইসরায়েলের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে। তাদের বক্তব্য, কয়েকজনের হামলার জবাবে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে বাড়িঘর থেকে সরিয়ে দেওয়া, চলাচল বন্ধ করা এবং সম্পত্তি ধ্বংস করা সম্মিলিত শাস্তির শামিল হতে পারে। হেবরনের পৌরপ্রধানও সামরিক পদক্ষেপের মাত্রাকে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ও অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্বেগ হলো, তাঁরা কত দিন নিজেদের বাড়ি থেকে দূরে থাকবেন এবং তাঁদের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার সুযোগ থাকবে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সময়সীমা জানা নেই। বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জন্য আশ্রয়, খাবার, চিকিৎসা ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন বড় মানবিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইসরায়েলি মানবাধিকার সংগঠন বিৎসেলেম হেবরনে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি, ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ এবং সম্মিলিত শাস্তির আশঙ্কা তুলে ধরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ চেয়েছে। সংগঠনটির বক্তব্য, হামলার সঙ্গে সম্পর্কহীন সাধারণ মানুষ যেন শাস্তির মুখে না পড়েন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। আন্তর্জাতিক মানবিক আইনে বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা, সামরিক প্রয়োজনের সীমা এবং সম্পত্তি ধ্বংসের বৈধতা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কোনো সামরিক অভিযান পরিচালিত হচ্ছে বলেই সব ধরনের বাড়িঘর ধ্বংস বা জনসাধারণকে উচ্ছেদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধ হয়ে যায় না। নির্দিষ্ট পরিস্থিতি, সামরিক প্রয়োজন এবং সংশ্লিষ্ট আইনি শর্তের ভিত্তিতে প্রতিটি পদক্ষেপের মূল্যায়ন করতে হয়।
ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান শুধু হেবরনেই সীমাবদ্ধ থাকবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নেতানিয়াহু পশ্চিম তীরের অন্যান্য এলাকায়ও বৃহত্তর সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতির কথা বলেছেন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হেবরনের সংশ্লিষ্ট এলাকায় কয়েক দিন ধরে তল্লাশি, জিজ্ঞাসাবাদ এবং অস্ত্র উদ্ধারের কার্যক্রম চলতে পারে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ফিলিস্তিনি শহর ও জনপদের প্রবেশপথ বন্ধ রাখার খবর পাওয়া গেছে। তবে পশ্চিম তীরজুড়ে অভিযান কতটা বিস্তৃত হবে, কোন কোন এলাকায় নতুন করে সেনা মোতায়েন করা হবে এবং বিধিনিষেধ কত দিন থাকবে, সে বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি প্রকাশিত হয়নি।
এ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। হেবরন পশ্চিম তীরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও জনবসতিপূর্ণ শহরগুলোর একটি। সড়ক বন্ধ থাকলে শ্রমিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, রোগী এবং জরুরি সেবার ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, নিরাপত্তা অভিযান শেষ হলেও তাঁরা দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন কি না। বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে গেলে পরিবারগুলোর পুনর্বাসন, সম্পত্তির ক্ষতিপূরণ এবং স্থায়ী আশ্রয়ের প্রশ্নও সামনে আসে। যেসব পরিবার অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে, তাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা না থাকলে সংকট আরও গভীর হতে পারে।
হেবরনের উত্তেজনা এমন এক সময়ে বেড়েছে, যখন ইসরায়েলে আগামী ২৭ অক্টোবর সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। বিভিন্ন প্রতিবেদনে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও পশ্চিম তীরের নীতি নির্বাচনী প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে। নেতানিয়াহু ও তাঁর ডানপন্থী জোটের নেতারা হামলার পর কঠোর পদক্ষেপের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন। তবে অভিযানটি নির্বাচনে ভোট পাওয়ার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগও স্থানীয় এক কর্মকর্তা করেছেন। এই অভিযোগ স্বাধীনভাবে প্রমাণিত নয়। তাই নির্বাচনের সময়ের সঙ্গে অভিযানের যোগসূত্র নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষণ করা গেলেও, নির্বাচনী সুবিধাই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো নিশ্চিত প্রমাণ এখনো প্রকাশিত হয়নি।
পশ্চিম তীরে দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান, বসতি সম্প্রসারণ, চলাচলে বিধিনিষেধ এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতা নিয়ে বিরোধ চলছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পশ্চিম তীরেও সহিংসতা বেড়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের নিরাপত্তা, ইসরায়েলি নাগরিকদের ওপর হামলা প্রতিরোধ এবং বেসামরিক মানুষের অধিকার রক্ষার প্রশ্ন এখন পরস্পরের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। একদিকে ইসরায়েল বলছে, সশস্ত্র হামলা ঠেকাতে কঠোর অভিযান প্রয়োজন; অন্যদিকে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, নিরাপত্তার নামে সাধারণ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করা এবং তাঁদের সম্পত্তি ধ্বংস করা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
সব মিলিয়ে, হেবরনে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার ঘটনাটি পশ্চিম তীরে নতুন সামরিক উত্তেজনার সূত্রপাত করেছে। ইসরায়েলি সরকার বড় অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে, আবাসিক এলাকা ও সড়কে তল্লাশি চলছে এবং বহু ফিলিস্তিনি পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। এখন পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপথ নির্ভর করবে সামরিক অভিযান কতটা বিস্তৃত হয়, বন্ধ সড়কগুলো কখন খুলে দেওয়া হয়, বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো ফিরতে পারে কি না এবং বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয় তার ওপর। একই সঙ্গে হামলার তদন্ত, ভবন ধ্বংসের কারণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অবস্থা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য প্রকাশ করা জরুরি। কারণ এই সংঘাতের পরিণতি শুধু সামরিক বাহিনীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সবচেয়ে গভীর প্রভাব পড়ছে বাড়িঘর, জীবিকা ও নিরাপত্তা হারানোর আশঙ্কায় থাকা সাধারণ মানুষের জীবনে।


ট্যাগ: ইসরায়েলফিলিস্তিনপশ্চিম তীরহেবরনবেনিয়ামিন নেতানিয়াহুইসরায়েলি সামরিক অভিযানফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুতিআবাসিক ভবন ধ্বংসমধ্যপ্রাচ্য সংঘাতমানবাধিকারগুলির ঘটনাআন্তর্জাতিক রাজনীতি

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।