জর্ডানে গির্জায় বন্দুকধারীদের হামলায় ৯ জন নিহত, দেশজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার
জর্ডানের কারাক অঞ্চলে গির্জায় শেষকৃত্যের অনুষ্ঠানে বন্দুকধারীদের হামলায় প্রাণহানি বেড়েছে। ঘটনার পর শপিং মল, দূতাবাসসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
জর্ডানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কারাক অঞ্চলের একটি গির্জায় বন্দুকধারীদের হামলার পর দেশজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, হামুদ গ্রামের সেন্ট জর্জ গ্রিক অর্থোডক্স গির্জায় একটি শেষকৃত্যের অনুষ্ঠান চলার সময় বন্দুকধারীরা গুলি চালায়। এতে অন্তত নয়জন নিহত এবং প্রায় ৪০ জন আহত হয়েছেন বলে ২৪ অক্টোবর প্রকাশিত পরবর্তী সংবাদ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ঘটনাটি জর্ডানের খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং দেশটির নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
শেষকৃত্যের অনুষ্ঠানে উপস্থিত মানুষের ওপর কয়েক মিনিট ধরে গুলি চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গুলির শব্দ শুনে অনেকে প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। কেউ কেউ গির্জার ভেতরে আশ্রয় নেন। ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের সঠিক সংখ্যা, পরিচয় এবং হামলার পেছনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।
হামলার পর জর্ডানের রাজধানী আম্মানে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস জানায়, দেশটির বিভিন্ন শপিং মল, বিদেশি দূতাবাস এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক থাকার এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদারের এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলা করা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ হামলার নিন্দা জানিয়েছেন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ২৪ অক্টোবর জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে তিনি নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। একই সঙ্গে হামলার তদন্ত এগিয়ে নেওয়া, অপরাধীদের শনাক্ত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন। দেশটির সরকারও দায়ীদের আইনের আওতায় আনার অঙ্গীকার করেছে।
জর্ডানের কর্মকর্তারা হামলাকারীদের চরমপন্থী হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে তাদের সঙ্গে দেশের ভেতরে বা বাইরের কোনো পরিচিত সশস্ত্র সংগঠনের সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। হামলার দায়ও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সংগঠন স্বীকার করেনি। ফলে ঘটনার পেছনে কারা রয়েছে এবং কী উদ্দেশ্যে হামলাটি চালানো হয়েছে, তা জানতে তদন্ত চলছে।
জর্ডান মধ্যপ্রাচ্যের তুলনামূলক স্থিতিশীল দেশগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত। দেশটিতে খ্রিষ্টানরা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অংশ এবং সেখানে বহু ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্থান রয়েছে, যেখানে প্রতিবছর বিভিন্ন দেশ থেকে দর্শনার্থীরা আসেন। এমন পরিস্থিতিতে একটি গির্জায় শেষকৃত্যের অনুষ্ঠানে প্রাণঘাতী হামলা দেশটির সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ঘটনাটির পর আন্তর্জাতিক মহলেও নিন্দা জানানো হয়েছে। ধর্মীয় উপাসনালয় ও শেষকৃত্যের অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষের ওপর হামলার ঘটনাকে গুরুতর নিরাপত্তা উদ্বেগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে তদন্তের ফল প্রকাশের আগে হামলাটিকে কোনো নির্দিষ্ট সংগঠনের পরিকল্পিত কর্মকাণ্ড বলে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
জর্ডানের গির্জায় হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনী হামলাকারীদের খুঁজছে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নিহত ও আহত ব্যক্তিদের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য এবং তদন্তের অগ্রগতি এখন গুরুত্বপূর্ণ। ঘটনার পেছনের কারণ ও দায়ীদের পরিচয় নিশ্চিত হলে জর্ডান সরকার পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানাতে পারে।





