অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের জেতাতে মরিয়া ট্রাম্প, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বাড়ছে উত্তেজনা
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের পক্ষে প্রচার বাড়িয়েছেন ট্রাম্প; কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ, অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে বাড়ছে রাজনৈতিক বিতর্ক।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনে দেশজুড়ে প্রচার চালাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা রিপাবলিকানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে সমাবেশ, প্রচারাভিযান এবং ভোটারদের কেন্দ্রে আনতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছেন ট্রাম্প ও তাঁর রাজনৈতিক সহযোগীরা।
২৪ অক্টোবর প্রকাশিত রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচনের আগে অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ইরান যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগ রিপাবলিকানদের নির্বাচনী প্রচারে চাপ তৈরি করছে। এসব বিষয়ের মধ্যেই ট্রাম্প রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে সরাসরি প্রচারে অংশ নিচ্ছেন। তবে নির্বাচনের ফল এখনো নির্ধারিত নয়।
২৩ অক্টোবর ফ্লোরিডার ফোর্ট মায়ার্সে একটি নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি রিপাবলিকান গভর্নর প্রার্থী বায়রন ডোনাল্ডস এবং সিনেটর অ্যাশলি মুডির পক্ষে সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টা করেন। সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান ভোটারদের সক্রিয় করা এবং প্রার্থীদের প্রচারে গতি আনা ছিল এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য।
ফ্লোরিডায় আগাম ভোট চলার সময় এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। রিপাবলিকান নেতারা করছাড়, প্রবীণ নাগরিকদের স্বার্থ এবং কর্মজীবী পরিবারের অর্থনৈতিক বিষয়গুলোকে প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন।
২৪ অক্টোবর জর্জিয়ার পেরিতে ট্রাম্পের আরেকটি নির্বাচনী সমাবেশের সময়সূচি নির্ধারিত ছিল। রিপাবলিকানদের সরকারি অনুষ্ঠানসূচি অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় বক্তব্য শুরুর কথা ছিল। এসব কর্মসূচি দেখাচ্ছে, নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে ট্রাম্প নিজেই রিপাবলিকান প্রার্থীদের প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
৩ নভেম্বরের নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের সব ৪৩৫টি আসন এবং সিনেটের ৩৩টি নিয়মিত আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এ ছাড়া সিনেটের একটি বিশেষ নির্বাচনী আসনেও ভোট রয়েছে।
বর্তমানে রিপাবলিকানদের দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। রয়টার্সের ২০ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডেমোক্র্যাটদের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেতে নিট চারটি করে আসন অর্জন করতে হবে।
কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ বদলে গেলে ট্রাম্প প্রশাসনের আইন প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদন, সরকারি নীতির ওপর নজরদারি এবং বিভিন্ন তদন্তের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলে প্রশাসনের নীতির বিরুদ্ধে তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার সুযোগ বাড়তে পারে। অন্যদিকে, রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারলে ট্রাম্পের নীতিগত কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে সুবিধা পেতে পারেন।
এবারের নির্বাচনী প্রচারে ভোটারদের দৈনন্দিন ব্যয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। খাদ্য, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা ও জ্বালানির খরচ নিয়ে উদ্বেগ রাজনৈতিক আলোচনায় প্রভাব ফেলছে। ইরান যুদ্ধ এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত জ্বালানির দামের চাপও নির্বাচনী বিতর্কে যুক্ত হয়েছে।
রয়টার্সের ২০ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়, জীবনযাত্রার ব্যয়, ট্রাম্পের জনসমর্থন এবং অভিবাসননীতি নির্বাচনী প্রচারের প্রধান বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি এবং প্রশাসনের জবাবদিহির বিষয়টি সামনে আনছে। রিপাবলিকানরা তাদের নিজস্ব অর্থনৈতিক ও নীতিগত কর্মসূচি তুলে ধরে ভোটারদের সমর্থন ধরে রাখার চেষ্টা করছে।
নির্বাচনের আগে প্রচারের অর্থায়নও আলোচনায় এসেছে। রয়টার্সের ২১ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প-সমর্থিত রাজনৈতিক সংগঠনগুলো রিপাবলিকান প্রার্থীদের সহায়তায় ছয় সপ্তাহের শেষ পর্যায়ে ২৭৭ মিলিয়ন ডলারের বেশি টেলিভিশন বিজ্ঞাপন ও সরাসরি প্রচারে ব্যয়ের উদ্যোগ নিয়েছে।
এর আগে ২০ অক্টোবর ট্রাম্প নিজেই দাবি করেছিলেন, নির্বাচনের দিন পর্যন্ত রিপাবলিকানদের নির্বাচনী প্রচারে তাঁর ব্যয় ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি হবে। এটি ট্রাম্পের নিজের ঘোষিত অঙ্ক; রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর নথিভুক্ত ব্যয় এবং তাঁর ব্যক্তিগত দাবিকে একই বিষয় হিসেবে দেখা উচিত নয়।
এই বিপুল প্রচারব্যয়ের লক্ষ্য হলো ভোটারদের কাছে দলের বার্তা পৌঁছানো, সমর্থকদের সক্রিয় করা এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোতে প্রার্থীদের অবস্থান শক্তিশালী করা। তবে অর্থ ব্যয় বা সমাবেশের সংখ্যা দিয়ে নির্বাচনের ফল নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা যায় না।
নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের প্রচার জোরদার হলেও শেষ পর্যন্ত ভোটারদের সিদ্ধান্তই গুরুত্বপূর্ণ হবে। অর্থনীতি, অভিবাসন, জ্বালানির দাম, স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রশাসনের নীতির মূল্যায়ন ভোটের ফলকে প্রভাবিত করতে পারে।
রিপাবলিকানদের জন্য মূল চ্যালেঞ্জ হলো নিজেদের সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে আনা এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোতে সমর্থন ধরে রাখা। ডেমোক্র্যাটদের লক্ষ্য হলো জীবনযাত্রার ব্যয় ও প্রশাসনের নীতি নিয়ে অসন্তোষকে ভোটে রূপান্তর করা।
৩ নভেম্বরের ভোটের ফল প্রকাশের পরই স্পষ্ট হবে, কংগ্রেসে রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারছেন, নাকি ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দেওয়ার মতো আসন অর্জন করছেন। এর আগে কোনো দলকে বিজয়ী ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।

যুক্তরাষ্ট্রে আগাম ভোট ২ কোটি ছাড়াল, সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তেজনা

ভোটারদের নাগরিকত্ব যাচাই নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের তদন্তে আদালতের বাধা, ৯ অঙ্গরাজ্যে নতুন পরিস্থিতি

আবদুল এল-সাইয়েদকে ঘিরে বিতর্ক, মুসলিম পরিচয় নিয়ে উত্তপ্ত যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট নির্বাচন





