সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
বাড়ির খরচ কমাতে ট্রাম্পের নতুন উদ্যোগ, উপকৃত হতে পারেন যোগ্য মার্কিন বাড়ির মালিকরাফুটবলের জাদু ও মানবিক অবদানে স্পেনের সর্বোচ্চ ক্রীড়া সম্মাননা পেলেন মেসিমধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের জেতাতে মরিয়া ট্রাম্প, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বাড়ছে উত্তেজনারিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি, সৌদির প্রতিরোধের দাবি ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা বাড়ছেতাইওয়ানে টাইফুন চ্যাম্পির তাণ্ডব, নিহত ১, আহত ৫২৭, বিদ্যুৎ ও বিমান চলাচল বিপর্যস্ত

ইরান যুদ্ধের পর কিউবা নিয়ে পদক্ষেপের ইঙ্গিত ট্রাম্পের, বাড়ছে উত্তেজনা

ইরান যুদ্ধের পর কিউবা নিয়ে পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। মার্কিন যুদ্ধজাহাজ দ্বীপটির কাছে থামানোর মন্তব্যে নতুন করে বাড়ছে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ।

ইরান যুদ্ধের পর কিউবা নিয়ে পদক্ষেপের ইঙ্গিত ট্রাম্পের, বাড়ছে উত্তেজনা
ইরান যুদ্ধের পর কিউবা নিয়ে পদক্ষেপের ইঙ্গিত ট্রাম্পের, বাড়ছে উত্তেজনা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান যুদ্ধের পর কিউবা নিয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ফ্লোরিডার ফোর্ট মায়ার্সে এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে দেশে ফেরার পথে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ কিউবার উপকূলের কাছে থামতে পারে। এরপর পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে পাঠিয়ে বিষয়টি এগিয়ে নেওয়ার কথাও বলেন তিনি। ট্রাম্পের এই মন্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার দীর্ঘদিনের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক আবারও আলোচনায় এসেছে। তবে কিউবায় সামরিক অভিযান শুরু করার কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা তিনি দেননি।

সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ইরান থেকে ফেরার সময় মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর একটি কিউবার উপকূলের কাছে থামানো হতে পারে। এরপর কিউবা নিয়ে একটি সমঝোতা চূড়ান্ত করতে মার্কো রুবিওকে পাঠানো হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্যে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে তিনি ঠিক কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে চান, কখন তা নেওয়া হতে পারে কিংবা এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানাননি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে কিউবার কমিউনিস্ট সরকারের ওপর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ দিয়ে আসছে। দেশটির রাজনৈতিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার বিষয়টিও মার্কিন প্রশাসনের নীতির অংশ। তবে কিউবা নিয়ে ট্রাম্পের আগের বক্তব্যে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার সম্ভাবনাও উঠে এসেছিল। ফলে তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্যকে সরাসরি সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।

ট্রাম্পের বক্তব্যের পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিউবায় পরিবর্তন চান, এমন ব্যক্তিদের উদ্দেশে বার্তা দেন। তিনি তাঁদের পরিবর্তনের সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান এবং গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে গোপন সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন। তবে তাঁর বক্তব্যে কোনো নির্দিষ্ট অভিযান, পরিকল্পনা বা সময়সূচি প্রকাশ করা হয়নি। রুবিওর এই মন্তব্য এবং ট্রাম্পের বক্তব্য একসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কিউবা নীতিতে চাপ সৃষ্টির প্রবণতাকে সামনে এনেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার মধ্যে ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বিরোধ চলছে। ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে কিউবার সরকারের ওপর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ বজায় রেখেছে। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে সেই চাপ আরও বেড়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি সরবরাহের ওপর মার্কিন বিধিনিষেধের কারণে কিউবার অর্থনীতি নতুন করে সংকটের মুখে পড়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কিউবায় জ্বালানির ঘাটতি, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট, খাদ্যসংকট ও মূল্যস্ফীতির মতো সমস্যা রয়েছে। দেশটির দুর্বল অবকাঠামো এবং দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সমস্যার সঙ্গে জ্বালানি সংকট যুক্ত হয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে। এসব পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন চাপ কিউবার অর্থনীতি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর আরও প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সংকটের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে।

অন্যদিকে, দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে ওয়াশিংটনের অসন্তোষের পর কিউবার সরকারের বিরুদ্ধে আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। কিউবার সরকারও নিজেদের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। ফলে দুই দেশের মধ্যে চাপ ও আলোচনার প্রচেষ্টা একই সময়ে চলছে।

কিউবা ইস্যুটি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ফ্লোরিডায় বসবাসকারী কিউবান বংশোদ্ভূত অনেক মানুষের কাছে দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সমাবেশে ইরান যুদ্ধের পাশাপাশি কিউবা নিয়ে তাঁর অবস্থানও আলোচনায় এসেছে।

ট্রাম্পের বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। মার্কিন যুদ্ধজাহাজ কিউবার কাছে থামানো এবং মার্কো রুবিওকে দিয়ে সমঝোতা চূড়ান্ত করার মন্তব্য সামরিক চাপের ইঙ্গিত দিতে পারে। তবে কিউবায় হামলা চালানোর নিশ্চিত সিদ্ধান্ত বা অভিযান শুরুর তথ্য প্রকাশিত হয়নি। ইরান যুদ্ধের পর পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ, দুই দেশের আলোচনা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর।

ট্যাগ: ডোনাল্ডট্রাম্পকিউবাইরানযুদ্ধমার্কোরুবিওযুক্তরাষ্ট্র

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।