অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬
ভোটার খুঁজতে অভিবাসীদের দরজায় ফেডারেল কর্মকর্তারা, আদালতের বড় বাধা
অবৈধ ভোটার শনাক্তের অভিযানে মার্কিন অভিবাসন কর্মকর্তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নির্বাচনের আগে আদালতের আদেশে কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে এ কার্যক্রমে সীমা আরোপ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ ভোটার শনাক্তের নামে অভিবাসন কর্মকর্তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ নিয়ে নতুন রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগকে ঘিরে ভোটাধিকার, অভিবাসীদের নিরাপত্তা এবং সরকারি তদন্তের সীমা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
২২ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, একজন ফেডারেল বিচারক হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের এমন কিছু কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন, যেগুলোতে কর্মকর্তারা মানুষের বাড়িতে গিয়ে তাঁদের অভিবাসন অবস্থা এবং আগের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করছিলেন। বিচারকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এ ধরনের কার্যক্রমে মার্কিন নাগরিকদের ভোটাধিকার প্রয়োগে ভয় বা চাপ তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।
আদালতের আদেশটি ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্কসহ নয়টি অঙ্গরাজ্যে প্রযোজ্য। তবে আদেশটি সব ধরনের অবৈধ ভোটসংক্রান্ত তদন্ত নিষিদ্ধ করেনি। বরং যেসব ক্ষেত্রে কর্মকর্তারা জানেন বা যুক্তিসংগতভাবে সন্দেহ করতে পারেন যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মার্কিন নাগরিক, তাঁদের লক্ষ্য করে নির্বাচনী জিজ্ঞাসাবাদ চালানোর ওপর সীমা আরোপ করা হয়েছে।
এদিকে ক্যালিফোর্নিয়ায় ভোটার নিবন্ধন ও ভোট দেওয়ার অভিযোগে ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। তাঁদের মধ্যে অনেকেই বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা এবং মার্কিন নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছিলেন। অভিযোগগুলোর মধ্যে অবৈধভাবে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন, ভোট দেওয়া এবং নাগরিকত্বের আবেদনপত্রে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে অভিযোগ আনা মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়।
বিষয়টি অভিবাসীদের জন্য বিশেষভাবে সংবেদনশীল। কারণ ভোটার নিবন্ধন, নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং নাগরিকত্বের আবেদন—এই বিষয়গুলো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও আইনগতভাবে এক নয়। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন এমন ব্যক্তিরা সাধারণভাবে ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন না। অন্যদিকে, কেবল গ্রিন কার্ডধারী হওয়া বা নাগরিকত্বের আবেদন করার কারণে কাউকে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
বাংলাদেশি-আমেরিকানদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সরকারি কোনো ফরম পূরণের সময় ভোটার নিবন্ধনসংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর সতর্কতার সঙ্গে দেওয়া। ড্রাইভিং লাইসেন্স করার সময় ভোটার নিবন্ধনের কোনো বিকল্প নির্বাচন করা হচ্ছে কি না, তা বুঝে নেওয়া জরুরি। ভুলবশত নিবন্ধন হয়ে গেলে বা ভোট দেওয়ার যোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ থাকলে, নিজে থেকে অনুমান না করে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্তৃপক্ষ বা অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া উচিত।
আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে এই বিতর্ক আরও গুরুত্ব পেতে পারে। নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণের পাশাপাশি ভোটার যাচাই, অভিবাসন নীতি এবং নাগরিক অধিকারও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক হারে অনাগরিকদের ভোট দেওয়ার দাবি প্রতিষ্ঠিত হয় না; বরং তদন্তের পদ্ধতি এবং নাগরিকদের অধিকার রক্ষার প্রশ্নটিই সামনে এসেছে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের জেতাতে মরিয়া ট্রাম্প, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বাড়ছে উত্তেজনা

যুক্তরাষ্ট্রে আগাম ভোট ২ কোটি ছাড়াল, সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তেজনা

ভোটারদের নাগরিকত্ব যাচাই নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের তদন্তে আদালতের বাধা, ৯ অঙ্গরাজ্যে নতুন পরিস্থিতি






