ইরাকে মার্কিন নাগরিকদের সহায়তা সীমিত, সর্বোচ্চ ভ্রমণ সতর্কতা বহাল রাখল যুক্তরাষ্ট্র
ইরাকে নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কায় মার্কিন নাগরিকদের ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জরুরি সহায়তা দেওয়ার সক্ষমতাও সীমিত বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ইরাকের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে দেশটিতে মার্কিন নাগরিকদের ভ্রমণ না করার পরামর্শ পুনর্ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জরুরি সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে নিজেদের সক্ষমতা সীমিত বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। আঞ্চলিক সংঘাত, সন্ত্রাসবাদ, অপহরণ এবং সশস্ত্র সহিংসতার ঝুঁকি বিবেচনায় ইরাকের জন্য সর্বোচ্চ পর্যায়ের ভ্রমণ সতর্কতা বহাল রাখা হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সর্বশেষ ভ্রমণ সতর্কতা অনুযায়ী, ইরাকের জন্য ‘লেভেল ৪—ভ্রমণ করবেন না’ নির্দেশনা বহাল রয়েছে। সতর্কতাটি ২৩ অক্টোবর হালনাগাদ করা হয় এবং পরদিন তা নিয়ে নতুন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়েছে, নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে ইরাকে মার্কিন সরকারের পক্ষে নাগরিকদের জরুরি সহায়তা দেওয়া সীমিত হতে পারে। ফলে দেশটিতে ভ্রমণ বা অবস্থানের ক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিকদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সতর্কবার্তায় শুধু ইরাকের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিই নয়, মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তৃত নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরা হয়েছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান-সমর্থিত হুথিরা সৌদি আরবে বেসামরিক বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় বেসামরিক মানুষের হতাহতের ঘটনা এবং যাতায়াতে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে বলে সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত আরও বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে এই সতর্কবার্তার অর্থ এই নয় যে বাগদাদে নতুন কোনো হুথি হামলা হয়েছে। বরং সৌদি আরবকে ঘিরে হামলা ও আঞ্চলিক উত্তেজনা ইরাকসহ আশপাশের অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলতে পারে—এমন আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। তাই খবরটি প্রকাশের ক্ষেত্রে ইরাকে নতুন হামলার দাবি না করে নিরাপত্তাঝুঁকি ও ভ্রমণ সতর্কতার বিষয়টিকেই গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আরও জানিয়েছে, ইরাকে কর্মরত মার্কিন সরকারি কর্মকর্তাদের কঠোর নিরাপত্তাবিধির মধ্যে কাজ করতে হয়। দেশটির ভেতরে সরকারি কর্মীদের চলাচলের ক্ষেত্রেও বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হতে পারে। পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে নিরাপত্তার স্বার্থে কর্মীদের চলাচল ও কার্যক্রমে অতিরিক্ত বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে।
সতর্কবার্তায় সন্ত্রাসবাদ, অপহরণ, অপরাধ এবং সশস্ত্র সংঘাতের ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের মতে, ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও স্থাপনা বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর হুমকির মুখে থাকতে পারে। অতীতে হোটেল, বিশ্ববিদ্যালয়, জ্বালানি অবকাঠামো, বিমানবন্দর এবং কূটনৈতিক স্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোও হামলার লক্ষ্য হয়েছে বলে সতর্কতায় জানানো হয়েছে। বিস্ফোরক, ক্ষেপণাস্ত্রজাতীয় অস্ত্র এবং চালকবিহীন আকাশযান ব্যবহার করে হামলার ঝুঁকির কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
এ ছাড়া ইরাকে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সীমাবদ্ধতার বিষয়টিও সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে। বড় শহরের বাইরে জরুরি চিকিৎসা, নিবিড় পরিচর্যা, অ্যাম্বুলেন্স এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী সহজলভ্য নাও হতে পারে। নিরাপত্তা ও যাতায়াতসংক্রান্ত সমস্যার কারণে জরুরি চিকিৎসার জন্য অন্যত্র যাওয়ার ব্যবস্থাও বিলম্বিত হতে পারে।
মার্কিন নাগরিকদের ইরাক ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পাশাপাশি দেশটিতে অবস্থানরত ব্যক্তিদের সরকারি নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে বলে ভ্রমণ, চলাচল এবং জরুরি যোগাযোগের বিষয়ে আগে থেকেই পরিকল্পনা রাখার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই সতর্কতা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন আঞ্চলিক হামলা ও পাল্টা পদক্ষেপের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তবে নতুন সতর্কবার্তায় ইরাকের ভ্রমণ সতর্কতার স্তর পরিবর্তন করা হয়নি; বরং সম্ভাব্য হামলা ও নিরাপত্তাঝুঁকি সম্পর্কে তথ্য হালনাগাদ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ বার্তায় ইরাকের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ পেয়েছে। বিশেষ করে জরুরি সহায়তা সীমিত হওয়া এবং সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেশটিতে ভ্রমণ পরিকল্পনাকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা যাচাই না করে ইরাক ভ্রমণের সিদ্ধান্ত না নেওয়ার পরামর্শই দিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।





